Daewoo Televisions

Elevate Your Viewing Pleasure with Top-Quality Televisions

Televisions category

টিভির দাম কত — বাজেট অনুযায়ী কোনটা কিনবেন

উপরের গ্রিডে টিভির দাম ৳ ৭,৫০০ থেকে শুরু হয়ে ৳ ৯,২১,৯৯০ পর্যন্ত গেছে, কিন্তু শুধু দাম দেখে কোনটা আপনার ঘরের জন্য ঠিক তা বোঝা যায় না। এই পাতাতেই দুটো ৫৫ ইঞ্চি টিভির দামের পার্থক্য ৩৮ হাজার টাকা, আর ওয়ারেন্টির পার্থক্য তিন বছর।

নিচে চারটা জিনিস ঠিক করে দেওয়া আছে — আপনার বাজেট, ঘরের মাপ অনুযায়ী সাইজ, যে তিনটা স্পেসিফিকেশন সত্যিই পারফরম্যান্স বদলায়, আর ভোল্টেজ-ওয়ারেন্টি-IPS-এর মতো স্থানীয় বিষয়গুলো যা টিভি কতদিন টিকবে তা ঠিক করে দেয়।

বাজেট অনুযায়ী টিভির দামের তালিকা

উপরের প্রাইস ফিল্টার দিয়ে সরাসরি আপনার বাজেটে যান। নিচের প্রতিটি দাম এই মার্কেটপ্লেসের লাইভ লিস্টিং প্রাইস।

বাজেট সাইজ কাদের জন্য উদাহরণ
৳ ৭,৫০০ – ৳ ১৯,৯৯৯ ২৪ থেকে ৩২ ইঞ্চি বেডরুম, দোকান, রান্নাঘর, সেকেন্ড টিভি Pentanik ২৪ ইঞ্চি বেসিক ফ্রেমলেস টিভি ৳ ৭,৫০০ এবং সবচেয়ে কম দামে ৩২ ইঞ্চি Android স্মার্ট টিভি ৳ ১৪,০০০
৳ ২০,০০০ – ৳ ৩৯,৯৯৯ ৪৩ থেকে ৫০ ইঞ্চি পরিবারের প্রথম টিভি, ছোট ফ্ল্যাট Pentanik ৪৩ ইঞ্চি Android ফ্রেমলেস টিভি ৳ ২২,০০০ এবং Hisense 43A6F3 বেজেললেস 4K Google TV ৳ ৩৫,৫৯০
৳ ৪০,০০০ – ৳ ৬৯,৯৯৯ ৪৩ থেকে ৬৫ ইঞ্চি ঢাকার সাধারণ ড্রয়িং রুম, প্রথম ব্র্যান্ডেড 4K Hisense 43U6F3 Quantum Dot 4K ULED টিভি ৳ ৫৪,৯০০ এবং Hisense 55A6F3 বেজেললেস 4K DTS Google TV ৳ ৬৩,৫০০
৳ ৭০,০০০ – ৳ ১,১৯,৯৯৯ ৫০ থেকে ৭৫ ইঞ্চি বড় ড্রয়িং রুম, খেলা দেখা, কনসোল গেমিং Toshiba 55C350NP ৫৫ ইঞ্চি 4K Google TV ৳ ৭২,০০০ এবং LG 55UT8050 4K UHD AI স্মার্ট টিভি ৳ ৮৯,৯০০
৳ ১,২০,০০০ এবং তার বেশি ৫৫ থেকে ১১০ ইঞ্চি হোম থিয়েটার, ডুপ্লেক্স, কমার্শিয়াল ডিসপ্লে LG C3 ৫৫ ইঞ্চি OLED evo 4K টিভি ৳ ১,৭৪,৯০০ এবং Samsung 85QN950F Neo QLED 8K টিভি ৳ ৯,২১,৯৯০

টিভি কেনার আগে যে পাঁচটি জিনিস দেখবেন

4K না Full HD — কোন রেজোলিউশন দরকার

4K মানে ৩৮৪০ × ২১৬০ পিক্সেল, Full HD-র চার গুণ। ৪৩ ইঞ্চি বা তার বড় স্ক্রিনে ছয় ফুট বা তার বেশি দূর থেকে Netflix, YouTube বা Prime Video-তে পার্থক্যটা চোখে পড়ে। ৩২ ইঞ্চিতে পড়ে না।

আপনার জন্য মানে: ৪৩ ইঞ্চি থেকে 4K নিন, তার নিচে নয়। বাড়তি টাকাটা বরং বড় Full HD প্যানেলে দিন। 8K প্যানেল আছে, কিন্তু বাংলাদেশে 8K কনটেন্ট নেই।

প্যানেল: LED, QLED, Mini LED না OLED

সাধারণ LED বেশিরভাগ ঘরের জন্যই যথেষ্ট। QLED-এ quantum dot লেয়ার থাকায় উজ্জ্বলতা আর রঙ বেশি — ঢাকার যেসব ড্রয়িং রুমে বড় জানালা আর পর্দা কম, সেখানে এটা কাজে দেয়। Mini LED ব্যাকলাইটকে অনেক বেশি জোনে ভাগ করে, যেমন Xiaomi ৫৫ ইঞ্চি S Mini 4K Google TV ৳ ৯৪,৫০০। OLED-এ প্রতিটি পিক্সেল আলাদা জ্বলে, তাই কালো রঙ সত্যিকারের কালো হয়।

আপনার জন্য মানে: দিনের বেলা আলোভরা ঘরে QLED নিন, যেমন Samsung 50Q7F QLED 4K AI স্মার্ট টিভি ৳ ৮১,৫৯০। রাতে অন্ধকার ঘরে সিনেমা দেখলে OLED। শুধু দিনের বেলা ব্যবহার করলে OLED-এর বাড়তি দাম দেওয়ার দরকার নেই।

রিফ্রেশ রেট আর গেমিং পোর্ট

60Hz নাটক, খবর আর স্ট্রিমিংয়ের জন্য যথেষ্ট। দ্রুত ক্যামেরা প্যানে — কভার ড্রাইভ, কাউন্টার অ্যাটাক, রেসিং গেম — 120Hz বা তার বেশি লাগে। এই পাতার ৳ ৯০,০০০-এর নিচের বেশিরভাগ টিভিই নেটিভ 60Hz, আর স্পেক শিটে যে "motion rate" লেখা থাকে সেটা নেটিভ রিফ্রেশ রেট নয়।

আপনার জন্য মানে: কনসোল লাগাতে চাইলে HDMI 2.1, নেটিভ 120Hz আর ALLM বা VRR আছে কিনা দেখুন। সাথে ভিডিও গেম ও কনসোল ক্যাটাগরি দেখে নিন। কেবলে খেলা দেখলে 60Hz-ই চলবে।

Google TV, Android TV, Tizen না webOS

Google TV আর Android TV-তে Play Store থাকায় Toffee, Bioscope, Hoichoi আর Chorki সরাসরি ইনস্টল হয়। Samsung-এর Tizen আর LG-র webOS নিজেদের স্টোর চালায়, যেখানে দেশি OTT অ্যাপের কাভারেজ কম — সেক্ষেত্রে স্ট্রিমিং ডিভাইস ও রিসিভার কালেকশন থেকে একটা ডঙ্গল লাগতে পারে।

আপনার জন্য মানে: ঘরে দেশি OTT দেখা হলে Google TV নিলে আলাদা স্টিক কেনা ও চালানোর ঝামেলা বাঁচে।

সাউন্ড এবং সাউন্ডবারের পোর্ট

৳ ১,০০,০০০-এর নিচে প্রায় সব টিভিতেই মোট ২০W-এর মতো সাউন্ড — Hisense 43A6F3-তে ২ × ১০W, Samsung 55Q7F-এ ২০W। পাতলা প্যানেলে বড় স্পিকার বসানোর জায়গাই নেই, তাই সংলাপ প্রথমেই অস্পষ্ট লাগে।

আপনার জন্য মানে: শুরু থেকেই হোম অডিও ও সাউন্ড ক্যাটাগরি থেকে একটা সাউন্ডবারের বাজেট রাখুন, আর কেনার আগে লিস্টিংয়ে eARC বা optical out আছে কিনা মিলিয়ে নিন।

ঘরের মাপ অনুযায়ী টিভির সাইজ

ঘরের দৈর্ঘ্য নয় — আপনি যেখানে বসেন সেখান থেকে যেখানে টিভি লাগাবেন, সেই দূরত্বটা মাপুন।

৩২ ইঞ্চি টিভির দাম

৩২ ইঞ্চি ৪ থেকে ৫.৫ ফুট দূরত্বের জন্য, অর্থাৎ ১০০ থেকে ১৩০ বর্গফুটের সাধারণ বেডরুম। এখানে দাম শুরু ৳ ১৪,০০০ থেকে। এই সাইজে HD-ই যথেষ্ট; ডাবল গ্লাস ভয়েস কন্ট্রোল Android সেট ৳ ১৫,৫০০ এই রেঞ্জের সর্বোচ্চ।

৪৩ ইঞ্চি টিভির দাম

৪৩ ইঞ্চির জন্য ৫.৫ থেকে ৭ ফুট দরকার — মিরপুর, উত্তরা বা আগ্রাবাদের বেশিরভাগ ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুম এই মাপের। এখান থেকেই 4K-র দাম উসুল হতে শুরু করে। দাম ৳ ২২,০০০ থেকে শুরু করে Sony Bravia 2 K-43S20M2 4K Google TV ৳ ৭৬,৫৯০ পর্যন্ত।

৫৫ ইঞ্চি টিভির দাম

৫৫ ইঞ্চির জন্য ৭ থেকে ৯ ফুট লাগে। এর চেয়ে কাছে বসলে পিক্সেল আলাদা করে চোখে পড়ে, আর আপগ্রেডের পুরো উদ্দেশ্যটাই নষ্ট হয়। Pentanik ৫৫ ইঞ্চি Google 4K QLED টিভি ৳ ৬০,০০০ এই সাইজে সবচেয়ে কম দামের ভালো অপশন, আর Toshiba 55M550NP QLED 4K Google TV ৳ ৯১,৫৯০-তে বিল্ড কোয়ালিটি এক ধাপ উপরে।

৬৫ ইঞ্চি ও তার বড় টিভির দাম

৬৫ ইঞ্চির জন্য ৮.৫ থেকে ১১ ফুট, ৭৫ ইঞ্চির জন্য ১০ থেকে ১৩ ফুট। Hisense 65A6F3 বেজেললেস 4K Google TV ৳ ৮৫,০০০ এখন এই সাইজের দাম দেখায়, আর Hisense 85Q6N 4K QLED ৳ ২,৪৫,০০০ তার পরের ধাপ। অর্ডারের আগে নিচের কার্টনের মাপ নিয়ে লেখা অংশটা অবশ্যই পড়ুন।

কোন ব্র্যান্ডের টিভি কেমন

  • Pentanik — টাকা প্রতি সবচেয়ে বেশি স্ক্রিন, আর একমাত্র ব্র্যান্ড যাদের ১০০ ও ১১০ ইঞ্চি প্যানেল আছে, যেমন ১১০ ইঞ্চি Google 4K QLED ৳ ৭,৫০,০০০। বিনিময়ে রঙের নির্ভুলতা আর সফটওয়্যার সাপোর্টে ছাড় দিতে হয়।
  • Hisense — এই মুহূর্তে টাকার তুলনায় সবচেয়ে লম্বা ওয়ারেন্টি, সাথে Google TV আর Dolby Vision এমন দামে যা জাপানি বা কোরিয়ান ব্র্যান্ড দেয় না।
  • Samsung — QLED লাইনআপ সবচেয়ে বড়, আলোভরা ঘরে পারফরম্যান্সও সেরা। তবে এখানে Samsung লিস্টিংয়ে ওয়ারেন্টির মেয়াদ Hisense-এর চেয়ে কম, তাই ব্র্যান্ড দেখে নয়, সংখ্যাটা দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
  • LG — এই গ্রিডে একমাত্র সত্যিকারের OLED প্যানেল, আর webOS ইন্টারফেস সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন। দেশি OTT অ্যাপ কম পাওয়া যায়। দেখুন LG NANO81 NanoCell 4K টিভি ৳ ১,০৬,০০০
  • Sony — মোশন হ্যান্ডলিং আর পুরনো SD কেবল ফিড আপস্কেল করায় সেরা, যেটা বাংলাদেশে স্পেক শিটের চেয়ে বেশি কাজে লাগে। ইঞ্চি প্রতি দামও সবচেয়ে বেশি।
  • Toshiba — ৳ ৭০,০০০ থেকে ৳ ১,০০,০০০ রেঞ্জে চুপচাপ সেরা ভ্যালু, Google TV স্ট্যান্ডার্ড।
  • Xiaomi — টাকা প্রতি সবচেয়ে আধুনিক প্যানেল প্রযুক্তি। Mini LED আর বেশি রিফ্রেশ রেট Samsung বা LG-র চেয়ে অনেক কম দামে।

বাজেট অনুযায়ী সেরা টিভি

৳ ২০,০০০-এর নিচে

এটা সেকেন্ড টিভি, মূল টিভি নয়। যতটা বড় স্ক্রিনে Android পাওয়া যায় ততটাই নিন, আর রঙ ও সাউন্ড সাধারণ হবে ধরে নিন। ৳ ১৪,০০০-এর নিচে স্মার্ট ফিচার ছাড়া ডিসপ্লে পাবেন, সেক্ষেত্রে আলাদা স্ট্রিমিং স্টিক লাগবে।

৳ ২০,০০০ থেকে ৳ ৪০,০০০

দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রেঞ্জ, আর এখানে দুটো সৎ পথ আছে। দেশীয় অ্যাসেম্বলারের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ইঞ্চি — Pentanik ৪৩ ইঞ্চি Google QLED 4K টিভি Chromecast সহ ৳ ৩৬,০০০। অথবা কম ইঞ্চি কিন্তু আসল ওয়ারেন্টি — Hisense 43A6F3, ৳ ৩৫,৫৯০, চার বছরের মেয়াদ।

৳ ৪০,০০০ থেকে ৳ ৭০,০০০

এখানে ব্র্যান্ডেড 4K প্যানেল সাথে ভালো প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যায়। ৪৩ ইঞ্চিতে quantum dot রঙ, অথবা ৫৫ ইঞ্চিতে গিয়ে Hisense 55A6F3 ৳ ৬৩,৫০০। দুই ক্ষেত্রেই Google TV, Dolby Vision আর পড়ার মতো একটা ওয়ারেন্টি মেয়াদ পাচ্ছেন।

৳ ৭০,০০০ থেকে ৳ ১,২০,০০০

দশ বছরের পুরনো টিভি বদলানো বেশিরভাগ পরিবার এখানেই আসে। ৫৫ বা ৬৫ ইঞ্চি 4K প্যানেল, আসল প্রসেসর সহ: LG 55UA8200 4K UHD AI স্মার্ট টিভি ৳ ৯০,০০০, অথবা প্রসেসিংয়ের চেয়ে ইঞ্চি বেশি জরুরি হলে Hisense 65A6N 4K Google TV ৳ ৮৩,৯০০

৳ ১,২০,০০০-এর উপরে

এখন আপনি সাইজ নয়, প্যানেল প্রযুক্তি বাছছেন। আলোভরা ঘরের জন্য QLED, যেমন Samsung 55Q60D 4K QLED টিভি ৳ ১,৫৯,৯০০। অন্ধকার ঘরের জন্য OLED। OLED-এর দাম না দিয়ে বেশিরভাগ কনট্রাস্ট চাইলে Mini LED।

বাংলাদেশে টিভি কেনার আগে: ভোল্টেজ, ওয়ারেন্টি, লোডশেডিং ও ডেলিভারি

পাওয়ার সাপ্লাই রেঞ্জ দেখে নিন — এটা মডেলভেদে বদলায়

আমাদের মেইনস ভোল্টেজ খাতায় ২২০V, বাস্তবে ওঠানামা করে — পুরান ঢাকায়, জেলা শহরে আর যেখানেই লোকাল ট্রান্সফরমারে চাপ বেশি সেখানে বেশি। প্রতিটি লিস্টিংয়ের স্পেসিফিকেশন টেবিলে পাওয়ার সাপ্লাই রেঞ্জ দেওয়া থাকে, আর রেঞ্জগুলো সত্যিই আলাদা: Hisense 43A6F3-তে ১০০–২৪০V লেখা, আর Samsung 55Q7F লিস্টিংয়ে AC১১০–১২০V লেখা। আপনি যে মডেলটা নেবেন তার সংখ্যাটা দেখুন, আর ২২০V-এর তুলনায় রেঞ্জ কম মনে হলে অর্ডারের আগে বিক্রেতার সাথে বিষয়টা মিলিয়ে নিন।

ফ্রিজের কম্প্রেসার চালু হলে যদি ঘরের বাতি নিভু নিভু হয়, তাহলে দেয়াল আর টিভির মাঝে একটা স্ট্যাবিলাইজার দিন। ব্র্যাকেট ও সার্জ প্রোটেকশন আছে টিভি অ্যাকসেসরিজ কালেকশনে, আর প্যানেল বদলানোর খরচের তুলনায় এটা কিছুই না।

প্যানেল ওয়ারেন্টি আর সার্ভিস ওয়ারেন্টি এক জিনিস নয়

টিভির দামের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই প্যানেলের দাম। সার্ভিস ওয়ারেন্টিতে সাধারণত টেকনিশিয়ানের খরচ কাভার হয়, পার্টসের দাম আপনাকে দিতে হয় — আর পার্টস যখন প্যানেল, তখন সেই ওয়ারেন্টির মানে প্রায় কিছুই থাকে না। আপনার দেখা উচিত প্যানেল বা ম্যানুফ্যাকচারার ওয়ারেন্টি, বছরে

এই মার্কেটপ্লেসে মেয়াদটা ব্র্যান্ড নয়, লিস্টিং অনুযায়ী বদলায়। এখন Hisense 43A6F3-তে চার বছরের ম্যানুফ্যাকচারার ওয়ারেন্টি দেখাচ্ছে, আর Samsung 55Q7F-এ এক বছর — দুটোই একই বিক্রেতার। পছন্দের দুটো প্রোডাক্ট পেজ পাশাপাশি খুলে সবার আগে এই সংখ্যাটা মিলিয়ে নিন।

লোডশেডিংয়ের সময় IPS-এ টিভি চালানো যাবে কি

সাধারণত যাবে। ৪৩ থেকে ৫৫ ইঞ্চির বেশিরভাগ LED ও QLED টিভি ৬০W থেকে ১৫০W নেয়, যা ফ্যান-লাইটের জন্য কেনা যেকোনো ঘরোয়া IPS সামলাতে পারে। দুটো সতর্কতা। সস্তা স্কয়ার-ওয়েভ ইনভার্টারে কিছু টিভির পাওয়ার সাপ্লাই ভোঁ ভোঁ শব্দ করে বা চালুই হতে চায় না, তাই পিওর সাইন ওয়েভ ইউনিট ভালো। আর বড় বা Mini LED প্যানেল সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় অনেক বেশি নেয় — Samsung 55Q7F-এ সাধারণ ব্যবহারে ৯৬W লেখা, যা ঠিক আছে, কিন্তু ৮৫ ইঞ্চির হিসাব আলাদা। লিস্টিংয়ে ওয়াটেজ দেখে তবেই ধরে নিন আপনার IPS চালাতে পারবে।

অফিসিয়াল না আনঅফিসিয়াল

আনঅফিসিয়াল সেট আসল হার্ডওয়্যারই, তবে ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি ডিস্ট্রিবিউটরের বাইরে থেকে আনা, আর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যা হারাচ্ছেন তা হলো ব্র্যান্ডের নিজস্ব সার্ভিস সেন্টার — আপনার ভরসা তখন শুধু বিক্রেতার ওয়ারেন্টি। ঢাকা বা চট্টগ্রামের বাইরে থাকলে এই বিনিময়টা ছাড়ের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ব্র্যান্ডের নেটওয়ার্কের ওপরই তো আপনার নির্ভর করার কথা ছিল।

কার্টন ফ্ল্যাটে ঢুকবে তো

এই কথাটা কেউ বলে না, অথচ প্রতি সপ্তাহে এতে ডেলিভারি আটকায়। ৪৩ ইঞ্চির কার্টন সামলানো যায় — Hisense 43A6F3-এর কার্টন ১০৮৮ × ৬৫৪ মিমি, গ্রস ওজন ৯.৭ কেজি। কিন্তু ৬৫ ইঞ্চির কার্টন লম্বায় প্রায় দেড় মিটারের বেশি, পুরনো ঢাকার ভবনের সরু ল্যান্ডিংয়ে ঘোরানো যায় না, আর বেশিরভাগ আবাসিক লিফটে সমতলভাবে ঢোকে না। ৫৫ ইঞ্চির উপরে কিছু অর্ডার করার আগে সিঁড়ির মোড় আর লিফটের দরজা মেপে নিন, আর ডেলিভারির দিন দুজন লোক বাসায় রাখুন।

কিস্তি, ক্যাশ অন ডেলিভারি, রিটার্ন আর মাউন্টিং

টেলিভিশন লিস্টিংয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে, অর্থাৎ এত বড় কেনাকাটায় টাকা দেওয়ার আগে কার্টন দেখে নিতে পারবেন। রিটার্নের সময়সীমা সাইটজুড়ে এক নয়, লিস্টিং অনুযায়ী আলাদা — Hisense 43A6F3-তে সাত দিন, Samsung 55Q7F-এ তিন দিন। নিজের প্রোডাক্ট পেজে মেয়াদটা পড়ুন, আর অর্ডারের আগে বাতিল ও ফেরত নীতি দেখে নিন। কিস্তির দরকার হলে চেকআউটে চলতি কার্ড EMI অফার দেখে নিন, কারণ ব্যাংক ও ক্যাম্পেইন ভেদে এটা বদলায়। দেয়ালে লাগানোর খরচ সাধারণত আলাদা, আর সঠিক ব্র্যাকেট কিনতে স্পেসিফিকেশন টেবিল থেকে VESA মাপ নিন — Samsung 55Q7F-এ ২০০ × ২০০ মিমি লেখা, আর একই স্ক্রিন সাইজেও এটা এক থাকে না।

আর্দ্রতা, ধুলো আর কোথায় রাখবেন না

ঢাকা আর উপকূলীয় চট্টগ্রামের বর্ষার আর্দ্রতা ইলেকট্রনিক্সের জন্য কঠিন। যে বাইরের দেয়ালে সরাসরি বৃষ্টির ছাট লাগে সেখানে টিভি লাগাবেন না, বাতাস চলাচল নেই এমন ক্যাবিনেটে আটকে রাখবেন না, আর প্যানেলের পেছনে কয়েক ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন। শুকনো মৌসুমে পেছনের ভেন্টে ধুলো জমে; বছরে দুবার নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করলে প্যানেলের আয়ু সত্যিই বাড়ে।

টিভি কিনতে গিয়ে যে ভুলগুলো হয়

  1. দূরত্ব না দেখে শুধু ইঞ্চি দেখে কেনা। আট ফুট দূরত্বে ৬৫ ইঞ্চি আরামদায়ক নয়, ক্লান্তিকর।
  2. ৩২ ইঞ্চিতে 4K-র জন্য বাড়তি টাকা দেওয়া। চার ফুট দূর থেকে সেই পিক্সেল চোখে ধরাই পড়বে না।
  3. ওয়ারেন্টি ব্র্যান্ডের সাথে আসে ধরে নেওয়া। এটা লিস্টিংয়ের সাথে আসে, আর বছরে বছরে বদলায়।
  4. স্পেসিফিকেশন টেবিলের পাওয়ার সাপ্লাই রেঞ্জ না পড়া, তারপর প্রথম ভোল্টেজ ওঠানামার পর টের পাওয়া।
  5. সিঁড়ি না মেপে ৬৫ ইঞ্চি অর্ডার করা। সমস্যাটা ঘরের নয়, কার্টনের।
  6. VESA না দেখে ব্র্যাকেট কিনে ফেলা। মিলিমিটারের মাপটা প্রোডাক্ট পেজেই আছে।
  7. ২০W প্যানেল থেকে সিনেমা হলের সাউন্ড আশা করা। শুরু থেকেই সাউন্ডবারের বাজেট রাখুন।
  8. প্রজেক্টরের কথা একেবারেই না ভাবা। আলাদা অন্ধকার ঘরের জন্য প্রজেক্টর কালেকশন টাকা প্রতি অনেক বেশি স্ক্রিন দেয়।

টিভির দাম নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

এই পাতায় সবচেয়ে কম দামের টিভি কত?

শুরু ৳ ৭,৫০০ থেকে, ২৪ ইঞ্চি বেসিক ফ্রেমলেস সেটের জন্য, আর সবচেয়ে কম দামের ৩২ ইঞ্চি Android স্মার্ট টিভি ৳ ১৪,০০০। ৳ ১৪,০০০-এর নিচে স্মার্ট ফিচার ছাড়া ডিসপ্লে পাবেন, তাই Netflix বা YouTube চাইলে একটা স্ট্রিমিং স্টিকের খরচ যোগ করে হিসাব করুন।

আমার ঘরের জন্য কত ইঞ্চি টিভি ঠিক হবে?

বসার জায়গা থেকে দেয়ালের দূরত্ব মেপে মিলিয়ে নিন: ৪ থেকে ৫.৫ ফুটে ৩২ ইঞ্চি, ৫.৫ থেকে ৭ ফুটে ৪৩ ইঞ্চি, ৭ থেকে ৯ ফুটে ৫৫ ইঞ্চি, ৮.৫ থেকে ১১ ফুটে ৬৫ ইঞ্চি। এর চেয়ে কাছে বসলে লেখা পড়তে চোখে চাপ পড়ে আর যে রেজোলিউশনের দাম দিয়েছেন তা কাজে লাগে না।

বাংলাদেশে 4K টিভি কেনা কি লাভজনক?

৪৩ ইঞ্চি ও তার বড় স্ক্রিনে হ্যাঁ। Netflix, YouTube আর Prime Video এখানে 4K দেয়, আর ৪৩ ইঞ্চিতে Full HD-র সাথে দামের ফারাক প্রায় মিলে গেছে। ৪৩ ইঞ্চির নিচে স্বাভাবিক দূরত্বে বাড়তি পিক্সেল চোখে পড়ে না, তাই সেই টাকায় বড় Full HD প্যানেল নেওয়াই ভালো।

টিভিতে স্ট্যাবিলাইজার লাগবে কিনা কীভাবে বুঝব?

প্রোডাক্ট পেজের স্পেসিফিকেশন টেবিলে পাওয়ার সাপ্লাই রেঞ্জ দেখুন। এই পাতার লিস্টিংগুলোতে রেঞ্জ আলাদা — কোথাও ১০০–২৪০V, কোথাও তার চেয়ে সংকীর্ণ। রেঞ্জ যত বড়, ওঠানামা তত বেশি সহ্য করে। আর আপনার এলাকায় বাতি নিভু নিভু হলে রেটিং যাই হোক, স্ট্যাবিলাইজার দিন।

লোডশেডিংয়ের সময় IPS দিয়ে টিভি চালানো যাবে?

সাধারণত যাবে। ৪৩ থেকে ৫৫ ইঞ্চির বেশিরভাগ LED ও QLED টিভি ৬০W থেকে ১৫০W নেয়, যা ফ্যান-লাইটের জন্য কেনা ঘরোয়া IPS সহজেই সামলায়। সম্ভব হলে পিওর সাইন ওয়েভ ইউনিট ব্যবহার করুন, কারণ স্কয়ার-ওয়েভে কিছু পাওয়ার সাপ্লাই শব্দ করে, আর খুব বড় বা Mini LED প্যানেলের ক্ষেত্রে লিস্টিংয়ে ওয়াটেজ দেখে নিন।

এখান থেকে কেনা টিভিতে কত বছর ওয়ারেন্টি পাব?

এটা ব্র্যান্ড নয়, লিস্টিং অনুযায়ী ঠিক হয়, আর পার্থক্যটা বড় — এখন একটি Hisense লিস্টিংয়ে চার বছর আর একই বিক্রেতার একটি Samsung লিস্টিংয়ে এক বছর। বিশেষভাবে প্যানেল বা ম্যানুফ্যাকচারার ওয়ারেন্টি কত বছর তা দেখুন, কারণ সার্ভিস ওয়ারেন্টিতে শুধু শ্রম কাভার হতে পারে আর পার্টসের দাম আপনাকে দিতে হয়।

ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে কি, আর রিটার্নের সময় কতদিন?

টেলিভিশন লিস্টিংয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে, তাই টাকা দেওয়ার আগে কার্টন দেখে নিতে পারবেন। রিটার্নের সময়সীমা সাইটজুড়ে এক নয়, লিস্টিং ভেদে আলাদা — কোথাও তিন দিন, কোথাও সাত দিন। অর্ডার করার আগে নিজের প্রোডাক্ট পেজে মেয়াদটা মিলিয়ে নিন।

PS5 বা Xbox গেমিংয়ের জন্য কোন টিভি ভালো?

HDMI 2.1, নেটিভ 120Hz রিফ্রেশ রেট (বিজ্ঞাপনের motion rate নয়), আর স্পেসিফিকেশন টেবিলে ALLM বা VRR আছে কিনা দেখুন। অন্ধকার দৃশ্যের কনট্রাস্ট Mini LED ও QLED প্যানেল সাধারণ LED-র চেয়ে ভালো সামলায়। HDMI পোর্টের সংখ্যাও দেখুন, তিনটা পোর্ট দ্রুত ভরে যায়।

এখান থেকে পছন্দ ছোট করে আনুন

উপরের প্রাইস ফিল্টারে আপনার বাজেট আর সাইজ ফিল্টারে আপনার বসার দূরত্ব অনুযায়ী মাপ বসান। তারপর শেষ দুটো অপশন পাশাপাশি খুলে ঠিক তিনটা সংখ্যা মেলান: প্যানেল ওয়ারেন্টি কত বছর, পাওয়ার সাপ্লাই রেঞ্জ, আর VESA মাপ। ৳ ৬০,০০০-এর আশেপাশে থাকলে Pentanik ৫৫ ইঞ্চি Google 4K QLED বনাম Hisense 55A6F3 তুলনাটা আগে করুন — একই সাইজ, ওয়ারেন্টিতে বিশাল ফারাক। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কালেকশন আছে Vision বিভাগে।

এই সাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। ক্লিক করে আপনি আমাদের গোপনীয়তা নীতিতে সম্মতি দিচ্ছেন।