অপো মোবাইল দাম বাংলাদেশ: বাজেট অনুযায়ী পুরো ছবি
এই পেজে অপো মোবাইল দাম ৳ ১৩,৯৯০ থেকে ৳ ১,৫০,০০০ পর্যন্ত, মোট ২৬টি লিস্টিং। বেশিরভাগ ক্রেতাই আটকে যান একই জায়গায় — ৳ ২০,০০০ থেকে ৳ ৩৫,০০০-এর মাঝে, যেখানে ২৬টির মধ্যে ৯টি ফোন আছে আর পার্থক্যগুলো এত কম যে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
নিচে পাবেন আসল দামের ভাগ, এক বছর ব্যবহারের পর যে চার-পাঁচটা স্পেসিফিকেশন সত্যিই পার্থক্য গড়ে দেয়, আর বাংলাদেশের নিজস্ব প্রশ্নগুলোর উত্তর — অফিসিয়াল না আনঅফিসিয়াল, লোডশেডিং, বর্ষার আর্দ্রতা এবং রিসেল ভ্যালু।
শুরুর ফোন ৳ ১৩,৯৯০ টাকার Oppo A17k, আর সবচেয়ে দামি ৳ ১,৫০,০০০ টাকার Oppo Find X7 Ultra। বাকি সব এর মাঝেই।
ClickBD-তে অপো ফোনের দামের রেঞ্জ
২৬টি লিস্টিং, মডেল নম্বর নয় — আপনি আসলে কী পাচ্ছেন সেই হিসাবে সাজানো।
| বাজেট | ফোন | কাদের জন্য | উদাহরণ | দাম |
|---|---|---|---|---|
| ৳ ১৫,০০০-এর নিচে | ৩ | প্রথম ফোন, সেকেন্ড সিম বা বাবা-মায়ের জন্য | Oppo A18 4GB 64GB | ৳ ১৩,৯৯০ |
| ৳ ১৫,০০০ – ৳ ২৫,০০০ | ৬ | শিক্ষার্থী ও দৈনন্দিন ব্যবহারকারী, বেশি storage দরকার | OPPO Reno13 F 8GB 256GB | ৳ ১৮,৯৯৯ |
| ৳ ২৫,০০০ – ৳ ৩৫,০০০ | ৯ | সবচেয়ে ভিড়ের রেঞ্জ — বেশিরভাগ ক্রেতা এখানেই | Oppo A78 8GB 256GB | ৳ ২৭,৯৯০ |
| ৳ ৩৫,০০০ – ৳ ৬০,০০০ | ৭ | চার বছর চালাবেন, বা অনেক ভিডিও করেন | OPPO Reno13 Pro 5G 12GB 256GB | ৳ ৩৯,৯৯৮ |
| ৳ ৬০,০০০-এর উপরে | ১ | ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরা, কোনো ছাড় নয় | Oppo Find X7 Ultra 16GB 512GB | ৳ ১,৫০,০০০ |
খেয়াল করুন, ২৬টির মধ্যে ১৬টিই ৳ ৩৫,০০০-এর নিচে। অর্থাৎ এটি মূলত বাজেট ও মিড-রেঞ্জের তালিকা, উপরে একটিমাত্র ফ্ল্যাগশিপ।
কেনার আগে যে স্পেসিফিকেশনগুলো আসলেই দেখা দরকার
প্রথম মাসের পর ছয়টা জিনিসই আসল পার্থক্য গড়ে। বাকিগুলো শুধু বাক্সের গায়ের সংখ্যা।
RAM আর storage কতটুকু নেবেন
4GB RAM-এ কল, WhatsApp আর ব্রাউজার ভালোই চলে। 8GB হলে ফেসবুক থেকে ক্যামেরায় গেলে পেছনের অ্যাপ আর বন্ধ হয়ে যায় না। storage-এ 64GB ভিডিও করলে এক বছরেই ভরে যায়, 128GB দুই-তিন বছর চলে, আর 256GB নিলে কিছু মুছতে হয় না। আপনার জন্য মানে: দুটো ফোনের দাম ৳ ২,০০০-এর মধ্যে হলে বেশি storage-এরটা নিন, নতুন মডেল নম্বরেরটা নয়।
দেখতে পারেন
AMOLED নাকি LCD ডিসপ্লে
AMOLED প্যানেলে কালো সত্যিকারের কালো দেখায় আর কড়া রোদেও স্ক্রিন পড়া যায় — ঢাকায় এটা অনেক বড় ব্যাপার, কারণ ফোন আপনি রাস্তায়, দুপুরের রোদে ব্যবহার করেন। LCD সস্তা, কিন্তু বাইরে গেলে ধুয়ে যায়। আপনার জন্য মানে: বাইরে বেশি থাকলে ৳ ৩,০০০ থেকে ৳ ৫,০০০ বেশি খরচ করে AMOLED নেওয়াটাই সবচেয়ে কাজের আপগ্রেড, বড় ক্যামেরা নম্বরের আগে।
দেখতে পারেন
ব্যাটারি আর ফাস্ট চার্জিং
mAh-কে নম্বর হিসেবে না দেখে ঘণ্টা হিসেবে দেখুন। মিড-রেঞ্জ Oppo-তে ভারী ব্যবহারকারী ছয় ঘণ্টার মতো স্ক্রিন টাইম নিয়ে সারাদিন চালাতে পারেন; হালকা ব্যবহারে প্রায় দুই দিন। ফাস্ট চার্জিং এখানে অন্য কারণে জরুরি — কারেন্ট আসার অল্প সময়টুকুতেই ফোন কাজের মতো ভরে যায়। আপনার জন্য মানে: লোডশেডিং বেশি হলে বাড়তি ৫০০ mAh-এর চেয়ে দ্রুত চার্জিং বেশি দরকারি।
দেখতে পারেন
5G এখনই লাগবে কি না
এখানকার ২৬টি Oppo লিস্টিংয়ের ৯টির নামেই 5G আছে। বাংলাদেশে 5G কভারেজ এখনো সীমিত ও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়, তাই আজ 5G কেনা মানে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি, এই সপ্তাহের দ্রুত ইন্টারনেট নয়। আপনার জন্য মানে: দুই বছর পরপর ফোন বদলালে 5G বাদ দিয়ে টাকাটা storage-এ দিন। চার-পাঁচ বছর চালানোর পরিকল্পনা হলে নিন — একই ফোনের 5G ভার্সন সাধারণত ৳ ৩,০০০ থেকে ৳ ৬,০০০ বেশি।
দেখতে পারেন
ক্যামেরা: মেগাপিক্সেল দেখে ঠকবেন না
Oppo-র নাম হয়েছে পোর্ট্রেট আর সেলফি দিয়ে, সেটা এখনো ঠিক আছে। কিন্তু মেগাপিক্সেল সংখ্যাটাই সবচেয়ে কম কাজের তথ্য — ৳ ২০,০০০ টাকার ফোনের 50MP আর ৳ ৬০,০০০ টাকার ফোনের 50MP ঘরের ভেতরে বা রাতে সম্পূর্ণ আলাদা ছবি দেয়। আপনার জন্য মানে: ঠিক ওই মডেলের কম আলোর ছবির নমুনা দেখে সিদ্ধান্ত নিন, সংখ্যা দেখে নয়।
দেখতে পারেন
ColorOS ও আপডেট সাপোর্ট
ColorOS হলো Oppo-র নিজস্ব Android স্তর, আর কোন মডেল কত দিন আপডেট পাবে তা বাজেট ও প্রিমিয়াম টিয়ারে বেশ আলাদা। প্রতিদিন বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করলে ভার্সন নম্বরের চেয়ে সিকিউরিটি প্যাচ বেশি জরুরি। আপনার জন্য মানে: দুই-তিন বছর পুরোনো মডেল কেনার আগে প্রোডাক্ট পেজে আপডেটের তথ্য দেখে নিন।
দেখতে পারেন
বাংলাদেশে Oppo-র সিরিজ: A, Reno, F ও Find
চারটি সিরিজ, আর এগুলো খারাপ থেকে ভালো এই ক্রমে সাজানো নয় — আলাদা আলাদা দরকার মেটায়। নিচের হিসাব এই পেজে আসলে যা আছে তার, Oppo-র বিশ্বব্যাপী তালিকার নয়।
| সিরিজ | এখানে আছে | সোজা কথায় |
|---|---|---|
| A সিরিজ | ১২ | সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় এই সিরিজ, আর এ কারণেই বাংলাদেশে Oppo সবখানে। গতি নয়, ব্যাটারি আর টেকসই গড়নের উপর জোর। গেমিং আর রাতের ছবিতে দুর্বল, তিন বছরের রোজকার ধকল সামলাতে সবচেয়ে শক্ত। |
| Reno সিরিজ | ১০ | ডিজাইন, ডিসপ্লে আর ক্যামেরা প্রসেসিং একসাথে উপরে ওঠে এখানেই। বেশিরভাগ 5G মডেলও এই সিরিজে। ডিজাইনের জন্য বাড়তি দাম দিতে হয় — একই স্পেসের ফোন অন্য ব্র্যান্ডে প্রায়ই কম দামে মেলে। |
| F সিরিজ | ৩ | সেলফি-কেন্দ্রিক লাইন, ধীরে ধীরে Reno-র সাথে মিশে যাচ্ছে। ছাড়ে পেলে ভালো দাম, তবে নতুন রিলিজের অপেক্ষায় থাকার মতো সিরিজ নয়। |
| Find সিরিজ | ১ | ফ্ল্যাগশিপ টিয়ার, ক্যামেরায় সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশে কম পাওয়া যায় ও দাম বেশি, রিসেল বাজারও ছোট — কিনলে অনেক দিন চালানোর পরিকল্পনা নিয়েই কিনুন। |
সিদ্ধান্তের আগে অন্য ব্র্যান্ডও দেখে নিন। এই দামগুলোতে বাংলাদেশে Realme মোবাইলের দাম স্পেসিফিকেশনে এগিয়ে থাকে, Xiaomi ফোনের দাম বাংলাদেশে প্রসেসরের হিসাবে ভালো, আর Samsung মোবাইল ফোনের দাম রিসেলে বেশি টেকে। Oppo-র শক্তি বিল্ড কোয়ালিটি, স্ক্রিন আর পোর্ট্রেট ছবিতে। সাথে দেখতে পারেন Vivo স্মার্টফোনের দাম আর কম দামে Infinix মোবাইল।
কোন বাজেটে কোন অপো ফোন
চারটি বাজেট, আর এই মুহূর্তে প্রতিটিতে যা আছে।
১৫ হাজারের মধ্যে
৳ ১৩,৯৯০ – ৳ ১৪,৯৯০
- Oppo A17k 3GB 64GB — ৳ ১৩,৯৯০
- Oppo A18 4GB 64GB — ৳ ১৩,৯৯০
- Oppo A6X 4G 4GB 64GB — ৳ ১৪,৯৯০
- একই দামে 4GB ভালো — A17k-র বদলে A18 নিন
২০ হাজারের মধ্যে
৳ ১৫,৯৯০ – ৳ ১৮,৯৯৯
- Oppo A38 4GB 128GB — ৳ ১৫,৯৯০
- OPPO A3X 4GB 128GB — ৳ ১৭,৫০০
- পুরো তালিকার সেরা ভ্যালু: OPPO Reno13 F 8GB 256GB — ৳ ১৮,৯৯৯
২৫ থেকে ৩৫ হাজার
৳ ২৪,৯৯০ – ৳ ৩৩,৩০০
- Oppo A6 6GB 128GB — ৳ ২৪,৯৯০
- Oppo F21 Pro 8GB 128GB — ৳ ২৯,৯৯০
- Oppo Reno 12 5G 12GB 256GB — ৳ ৩২,৫০০
প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ
৳ ৩৯,৯৯০ – ৳ ১,৫০,০০০
- Oppo A6s Pro 8GB 256GB — ৳ ৩৯,৯৯০
- Oppo Reno10 Pro 5G 12GB 256GB — ৳ ৫৫,০০০
- Oppo Reno 12 5G 12GB 512GB — ৳ ৫৭,০০০
অফিসিয়াল না আনঅফিসিয়াল, ওয়ারেন্টি, কিস্তি ও লোডশেডিং
অফিসিয়াল বনাম আনঅফিসিয়াল সেট
একই মডেলের আনঅফিসিয়াল Oppo অফিসিয়াল দামের চেয়ে ৳ ৩,০০০ থেকে ৳ ৮,০০০ কমে মেলে, আর সাশ্রয়টা সত্যি। বিনিময়ে হারান ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টি সার্ভিস, নিবন্ধিত IMEI, আর ফোনে কোন অঞ্চলের ফার্মওয়্যার চলছে সেই নিশ্চয়তা। টাকা দেওয়ার আগেই IMEI যাচাই করুন, পরে নয়।
ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সেন্টার
Oppo-র অনুমোদিত সার্ভিস নেটওয়ার্ক ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভালো, জেলা শহরে পাতলা। ঢাকার বাইরে থাকলে আর ডিসপ্লে বদলাতে হলে এটা বড় ব্যাপার। প্রতিটি লিস্টিংয়ে ওয়ারেন্টির শর্ত আলাদা করে লেখা থাকে — ধরে না নিয়ে প্রোডাক্ট পেজে পড়ে নিন, আর বক্স ও ইনভয়েস রেখে দিন, সার্ভিস সেন্টার দুটোই চায়।
লোডশেডিং ও ব্যাটারির হিসাব
কারেন্ট কয়েক ঘণ্টা না থাকলে ফোনটাই হয়ে যায় ঘরের স্ক্রিন, টর্চ আর হটস্পট — চার্জ তখন স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন গুণ দ্রুত শেষ হয়। এ কারণেই বড় ব্যাটারির চেয়ে দ্রুত চার্জিং বেশি কাজে দেয়: কারেন্ট আসার অল্প সময়েই ফোন ৭০ শতাংশে পৌঁছাক, সারা রাত ধরে নয়। ফোনের ব্যাটারির দ্বিগুণ ক্ষমতার একটি পাওয়ার ব্যাংক পুরো দিনের লোডশেডিং সামলে দেয়।
বর্ষাকাল, আর্দ্রতা ও চার্জিং পোর্ট
এই সমস্যাটার কথা কেউ আগে বলে না। জুন থেকে সেপ্টেম্বরে বাতাসের আর্দ্রতা USB-C পোর্টের ভেতরে জমে ধাতব সংযোগে মরিচা ধরায় — ফোন প্রথমে থেমে থেমে চার্জ নেয়, পরে একেবারেই নেয় না। আর পানিজনিত ক্ষতি কোনো ওয়ারেন্টিতেই পড়ে না। বৃষ্টিতে ভেজা ফোন পোর্ট পুরো না শুকানো পর্যন্ত চার্জে দেবেন না, আর কভার ব্যবহার করলে রাতে খুলে রাখুন যাতে ভেতরের ভেজা ভাব বেরিয়ে যায়।
পেমেন্ট, কিস্তি ও ডেলিভারি
বিকাশ, নগদ বা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পেমেন্ট করা যায়, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে ডেলিভারি আছে। কিস্তির সুবিধা বিক্রেতা ও আপনার কার্ড ভেদে আলাদা হয়, তাই কিস্তি ধরে বাজেট বানানোর আগে ওই নির্দিষ্ট লিস্টিংয়ের পেমেন্ট অপশন দেখে নিন।
দুই বছর পর রিসেল ভ্যালু
বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ পুরোনো ফোন বিক্রি করেই নতুনটা কেনেন, তাই রিসেল দামও আসল খরচের অংশ। দুটো জিনিস এখানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে: সেটটি অফিসিয়াল ও IMEI পরিষ্কার কি না, আর বক্স-ইনভয়েস আছে কি না। কাগজপত্রহীন আনঅফিসিয়াল সেট একই মডেলের অফিসিয়াল সেটের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি হয় — কেনার সময়ের সাশ্রয়টা তখন মুছে যায়।
অপো ফোন কিনতে গিয়ে যে ভুলগুলো সবাই করে
৳ ২,০০০ বাঁচাতে 64GB নেওয়া
বেশিরভাগ মডেলে পরে storage বাড়ানো যায় না, আর ভর্তি ফোন ধীর হয়ে যায়। 64GB থেকে 128GB-তে যাওয়াই সাধারণত এই পেজের সবচেয়ে সস্তা আসল আপগ্রেড।
মেগাপিক্সেলের পেছনে ছোটা
সস্তা সেন্সরে বড় সংখ্যা আলো কমলেই ভালো সেন্সরের ছোট সংখ্যার কাছে হেরে যায়। দুটো নির্দিষ্ট মডেলের রাতের ছবি মিলিয়ে দেখুন।
যে 5G ব্যবহারই হবে না
দুই বছর পরপর ফোন বদলান আর এলাকায় 5G নেই — তাহলে ওই বাড়তি টাকায় কিছুই পাচ্ছেন না। বরং RAM বা storage-এ দিন।
IMEI যাচাই না করা
টাকা দেওয়ার আগে নিবন্ধন যাচাই করুন, ডেলিভারির পরে নয়। অনিবন্ধিত সেটের সমস্যা পরে ঠিক করা যায় না, আর রিসেলেও পিছু ছাড়ে না।
নতুন নম্বর মানেই নতুন হার্ডওয়্যার ভাবা
সিরিজ রিফ্রেশে পরিবর্তন প্রায়ই সামান্য। ৳ ২৪,৯৯৮ টাকার পুরোনো Reno 8 Pro 12GB 256GB একই দামের নতুন এন্ট্রি-লেভেল মডেলকে হারিয়ে দিতে পারে।
বক্স ফেলে দেওয়া
সার্ভিস সেন্টার বক্স চায়, আর ক্রেতা বক্স ছাড়া কম দাম দেন। বক্স, ইনভয়েস আর ওয়ারেন্টি কার্ড একসাথে রেখে দিন।
শুধু এক ব্র্যান্ড দেখা
Oppo ঠিক করে ফেলে বাকিগুলো না দেখলে টাকা নষ্ট হয়। আগে নিজের বাজেটে পুরো মোবাইল ফোনের দাম দেখে নিন।
যেকোনো চার্জার ব্যবহার করা
Oppo-র ফাস্ট চার্জিং পুরো গতিতে চলতে নিজের চার্জার ও কেবল লাগে। অস্থির বিদ্যুতে সস্তা থার্ড-পার্টি চার্জার ব্যাটারির জন্য সত্যিকারের ঝুঁকি।
অপো মোবাইল দাম বাংলাদেশ — সাধারণ জিজ্ঞাসা
এখন বাংলাদেশে অপো মোবাইলের দাম কত থেকে কত?
এই পেজের ২৬টি Oppo লিস্টিংয়ে দাম ৳ ১৩,৯৯০ টাকার Oppo A17k থেকে ৳ ১,৫০,০০০ টাকার Find X7 Ultra পর্যন্ত। এর মধ্যে ১৬টিই ৳ ৩৫,০০০-এর নিচে, তাই বেশিরভাগ ক্রেতার কার্যকর রেঞ্জ ৳ ১৪,০০০ থেকে ৳ ৩৫,০০০। স্টক ও বিক্রেতাভেদে দাম বদলায়, তাই প্রতিটি লিস্টিংয়ের লাইভ দাম দেখে নিন।
১৫ হাজার টাকার মধ্যে সেরা অপো ফোন কোনটি?
৳ ১৫,০০০-এর নিচে আছে তিনটি ফোন। ৳ ১৩,৯৯০ টাকায় 4GB RAM ও 64GB storage-এর Oppo A18 সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত, কারণ 3GB-র A17k-র দামও ঠিক একই কিন্তু RAM এক গিগাবাইট কম। বাজেট একটু বাড়াতে পারলে ৳ ১৪,৯৯০ টাকার A6X 4G নতুন ডিজাইনের।
২০ হাজার টাকার মধ্যে কোন অপো ফোনে সবচেয়ে ভালো ভ্যালু?
৳ ১৮,৯৯৯ টাকায় 8GB RAM ও 256GB storage-এর OPPO Reno13 F এই পেজের সবচেয়ে ভালো ভ্যালু, বেশ বড় ব্যবধানে। ৳ ২০,০০০-এর নিচে আর কোনো ফোনে এই RAM আর storage একসাথে নেই, আর স্পেসিফিকেশনে এটি নিজের দামের চেয়ে ৳ ৩০,০০০ রেঞ্জের কাছাকাছি।
অপো ফোন অফিসিয়াল কি না বুঝব কীভাবে?
টাকা দেওয়ার আগে IMEI-এর নিবন্ধন যাচাই করুন, আর বক্সে লেখা IMEI-র সাথে ফোনের ডায়াল প্যাডে দেখানো নম্বর মিলিয়ে নিন। অফিসিয়াল সেটে সিলড বক্স, ওয়ারেন্টি কার্ড ও বিক্রেতার নামসহ ইনভয়েস থাকে। এর কোনোটি না থাকলে বা বিক্রেতা ওয়ারেন্টি নিয়ে এড়িয়ে গেলে ধরে নিন এটি আনঅফিসিয়াল।
ফাস্ট চার্জিংয়ে কি অপো ফোনের ব্যাটারি নষ্ট হয়?
ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম চার্জার আর ফোন মিলে তাপ ও ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই স্বাভাবিক ব্যবহারে সমস্যা নেই। যেকোনো লিথিয়াম ব্যাটারিই বছরের পর বছরে ক্ষমতা হারায়, আর তাপ সেটা দ্রুত করে। বক্সের চার্জার ব্যবহার করুন, গরম জায়গায় বা বালিশের নিচে চার্জ দেবেন না।
বাংলাদেশে 5G ফোনে বাড়তি টাকা দেওয়া কি ঠিক হবে?
চার বছর বা তার বেশি চালানোর পরিকল্পনা থাকলেই কেবল। কভারেজ এখনো সীমিত ও নির্দিষ্ট এলাকায়, তাই আজকের 5G মূলত ভবিষ্যতের প্রস্তুতি। এখানকার ২৬টির মধ্যে ৯টি 5G মডেল। দুই বছর পরপর ফোন বদলালে ওই ৳ ৩,০০০ থেকে ৳ ৬,০০০ storage বা RAM-এ দিন।
অপো ফোন কি কিস্তিতে বা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কেনা যায়?
ক্যাশ অন ডেলিভারি আছে, সাথে বিকাশ ও নগদে পেমেন্টের সুবিধাও। কিস্তি ব্র্যান্ডের উপর নয়, নির্ভর করে বিক্রেতা ও আপনার কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের উপর। তাই কিস্তি ধরে নেওয়ার আগে পছন্দের লিস্টিংটি খুলে সেখানকার পেমেন্ট অপশন দেখে নিন।
অপো নাকি রিয়েলমি — বাংলাদেশে কোনটায় ভ্যালু বেশি?
Realme সাধারণত একই টাকায় বেশি প্রসেসর আর দ্রুত চার্জিং দেয়, কারণ তারা স্পেসিফিকেশনে প্রতিযোগিতা করে। Oppo এগিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি, স্ক্রিন আর পোর্ট্রেট ছবিতে, আর ঢাকার বাইরে সার্ভিস নেটওয়ার্কও তুলনামূলক ভালো। পারফরম্যান্স চাইলে Realme, রোজকার ব্যবহারের আরাম চাইলে Oppo।
এবার বেছে নিন
উপরের ফিল্টারে নিজের বাজেট বসান, storage 128GB বা 256GB করুন, তারপর দুটো মডেল পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন — মাঝের বাজেটের বেশিরভাগ ক্রেতা শেষ পর্যন্ত ৳ ২৭,৯৯০ টাকার Oppo A78 আর ৳ ২৯,৯৯০ টাকার Oppo F21s Pro-র মধ্যেই তুলনা করেন।
এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি? দেখে নিন মোবাইল ও অ্যাকসেসরিজের পুরো সংগ্রহ, অথবা বাকি সেটআপের দাম মিলিয়ে নিন: বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম, টেলিভিশনের দাম ও DSLR ক্যামেরার দাম।

























