ল্যাপটপের দাম বাংলাদেশ: কোনটা আপনার জন্য
উপরের তালিকা দেখে দাম নিয়ে বিভ্রান্ত লাগছে? স্বাভাবিক। বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম এখন ৳ ৩৫,৭৪৯ থেকে শুরু হয়ে ৳ ৩,৯৭,৮০০ পর্যন্ত যায়, আর এই পার্থক্যটা বিজ্ঞাপনের নয় — আসল হার্ডওয়্যারের। মূল প্রশ্ন হলো, কোন ২০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ আপনার প্রতিদিনের কাজে সত্যিই পার্থক্য গড়বে, আর কোনটা গড়বে না।
এই অংশে সেটাই পরিষ্কার করা হয়েছে — কোন বাজেটে আসলে কী পাওয়া যায়, কোন চারটি স্পেসিফিকেশন তিন বছর পরেও ল্যাপটপকে দ্রুত রাখে, এবং ওয়ারেন্টি, FreeDOS, লোডশেডিং ও শুল্কের মতো স্থানীয় বিষয়গুলো যেগুলো না জানলে পরে আফসোস করতে হয়।
বাজেট অনুযায়ী ল্যাপটপের দাম
| বাজেট | সাধারণত যা পাবেন | কাদের জন্য | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ৳ ৩৫,০০০ – ৳ ৪৫,০০০ | Celeron / N-series, 8GB RAM, 256–512GB SSD | শুধু লেখালেখি ও ব্রাউজিং, বা দ্বিতীয় ল্যাপটপ | Lenovo IdeaPad 1i ১৫.৬ ইঞ্চি — ৳ ৩৫,৭৪৯, IdeaPad 1 14IJL7 — ৳ ৩৭,৮০০ |
| ৳ ৫০,০০০ – ৳ ৬৫,০০০ | Core i3 / Core 3 / Ryzen 5, 8–16GB, 512GB SSD | ছাত্রছাত্রী, অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ | Asus Vivobook Go 14 — ৳ ৫১,৯০০, Lenovo V15 G4 (16GB RAM) — ৳ ৬৩,৮০০ |
| ৳ ৬৫,০০০ – ৳ ১,০০,০০০ | Core 5 / Core i5 / i7, 16GB, 512GB SSD, IPS বা OLED | প্রোগ্রামিং, বড় Excel ফাইল, ছবি এডিটিং | Asus ExpertBook P1 Core i5 — ৳ ৮২,০০০, Lenovo IdeaPad Slim 5i OLED — ৳ ৯৭,৫০০ |
| ৳ ১,০০,০০০ এর উপরে | Dedicated RTX graphics, Core Ultra, Snapdragon X বা Apple silicon | গেমিং, ভিডিও রেন্ডারিং, 3D, সারাদিনের ব্যাটারি | Lenovo LOQ 15IAX9 গেমিং — ৳ ১,২০,০০০, Apple MacBook Pro M4 — ৳ ২,০০,০০০ |
কোন স্পেসিফিকেশনগুলো আসলে গুরুত্বপূর্ণ
স্পেক শিটে ত্রিশটা জিনিস লেখা থাকে। এর মধ্যে চারটি ঠিক করে দেয় তিন বছর পরেও আপনি সন্তুষ্ট থাকবেন কি না।
প্রসেসর: কাজ বুঝে বেছে নিন
Celeron আর N-series চিপ দিয়ে ব্রাউজার, একটা ডকুমেন্ট আর ভিডিও কল — একসঙ্গে একটাই ভালোভাবে চলে। Core i3, Core 3 বা Ryzen 3 হলে অনেকগুলো ট্যাব খোলা রাখা যায়। বেশিরভাগ ক্রেতার জন্য সঠিক জায়গা Core i5, Core 5 বা Ryzen 5। Core i7, Ryzen 7, Core Ultra বা Apple silicon তখনই দরকার যখন আপনি কোড কম্পাইল করেন, ভিডিও এডিট করেন বা ভারী সফটওয়্যার চালান।
এর মানে আপনার জন্য: 8GB RAM-সহ একটা Core i7 দৈনন্দিন কাজে 16GB RAM-সহ Core i5-এর চেয়ে ধীর মনে হবে। বাজেট সীমিত হলে RAM-কে অগ্রাধিকার দিন।
RAM: ৮GB সর্বনিম্ন, ১৬GB আদর্শ
৪GB দিয়ে ২০২৬ সালে কাজ চলে না — Windows নিজেই বেশিরভাগ দখল করে নেয়। ৮GB দিয়ে ডকুমেন্ট, ক্লাস আর মাঝারি ব্রাউজিং চলে। কিন্তু তিন বছর পরেও ল্যাপটপ আরামদায়ক রাখতে চাইলে ১৬GB নিন। এ কারণেই Lenovo V14 G4 (Ryzen 5, 16GB) ৳ ৬৪,৫০০ অনেক ৭৫ হাজার টাকার ৮GB মডেলের চেয়ে ভালো কেনাকাটা।
এর মানে আপনার জন্য: কেনার আগে দেখে নিন RAM সোল্ডার করা কি না। পাতলা মডেলে অনেক সময় পরে RAM বাড়ানো যায় না — তখন ৮GB-ই স্থায়ী।
স্টোরেজ: SSD ছাড়া কিনবেন না
বুট ড্রাইভ হিসেবে কখনো মেকানিক্যাল হার্ড ডিস্ক নেবেন না। SSD থাকলে ল্যাপটপ ১৫ সেকেন্ডে চালু হয়, না থাকলে দুই মিনিট লাগে। Windows, Office আর এক বছরের ছবি রাখার পর ২৫৬GB দ্রুত ভরে যায়; মূল ল্যাপটপের জন্য ৫১২GB ন্যূনতম ধরুন। বেশি জায়গা দরকার হলে ল্যাপটপে ১TB না নিয়ে এক্সটার্নাল SSD বা পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভ কিনুন — খরচ অনেক কম পড়বে।
স্ক্রিন সাইজ: ১৪ ইঞ্চি নাকি ১৫.৬ ইঞ্চি
১৪ ইঞ্চি ল্যাপটপের ওজন প্রায় ১.৩–১.৬ কেজি — ভিড় বাসে, ক্যাফের ছোট টেবিলে বা ক্লাসের বেঞ্চে সহজে চলে। ১৫.৬ ইঞ্চি মডেল ১.৭–২.০ কেজি, সঙ্গে number pad থাকে যা হিসাব-নিকাশের কাজে সত্যিই দরকার, আর পাশাপাশি দুটো ডকুমেন্ট রাখা যায়। Lenovo Legion Slim 5i-এর মতো ১৬ ইঞ্চি মডেল আসলে টেবিলের মেশিন, বহনের নয়।
এর মানে আপনার জন্য: ঢাকায় প্রতিদিন যাতায়াত করলে বাড়তি ৪০০ গ্রাম সত্যিই টের পাবেন। যে সাইজই নিন, IPS বা OLED প্যানেল নিশ্চিত করুন — TN প্যানেল একটু কাত করলেই রং নষ্ট হয়ে যায়।
ClickBD-তে কোন ব্র্যান্ড কেমন
সব কিছুতে সেরা কোনো ব্র্যান্ড নেই, আর বাজেট বদলালে উত্তরও বদলায়।
- Lenovo — এখানে সবচেয়ে বড় সংগ্রহ, ৳ ৩৫,৭৪৯-এর IdeaPad 1 থেকে Yoga Slim 7i Aura (32GB, OLED) ৳ ১,৬৮,০০০ পর্যন্ত। কীবোর্ড সবচেয়ে আরামদায়ক, আর V-series ৬০ হাজারের ঘরে চুপচাপ সবচেয়ে ভালো ভ্যালু দেয়। সীমাবদ্ধতা হলো সস্তা IdeaPad-এ সাধারণ TN প্যানেল থাকে।
- Asus — মাঝারি বাজেটে টাকার তুলনায় স্পেসিফিকেশন সবচেয়ে ভালো। ছাত্রছাত্রীদের জন্য Vivobook Go, আর অফিসের জন্য ExpertBook — যেখানে fingerprint reader ও privacy shutter পাওয়া যায় বাড়তি দাম ছাড়াই। ৮০ হাজারের নিচে বডি প্লাস্টিকের।
- Acer — সংগ্রহ কম, তবে TravelMate 614-53 (16GB, 1TB SSD) ৳ ১,১৯,৮০০ সত্যিই হালকা একটি বিজনেস মেশিন, আর এই দামে এত স্টোরেজ আর কেউ দেয় না।
- Apple — ব্যাটারি ব্যাকআপ ও নীরব পারফরম্যান্সে অতুলনীয়, আর M-series-এর রিসেল ভ্যালু বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো থাকে। সমস্যা একটাই: কিছু ব্যাংকিং পোর্টাল, সরকারি সাবমিশন টুল ও বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার এখনো Windows ধরে নিয়ে বানানো।
- Dell — এখানে বেশিরভাগ পুরোনো স্টক। তালিকা মন দিয়ে পড়ুন: Dell Vostro 3400 ৳ ৭৫,৩০০-তে ১১তম প্রজন্মের Core i5-এর সঙ্গে মাত্র 4GB RAM আর ১TB মেকানিক্যাল ড্রাইভ — এই দামে ঠিক যে কনফিগারেশন এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে।
বাজেট অনুযায়ী পছন্দ
৪০ হাজার টাকার নিচে
এখানে Celeron, 8GB RAM আর প্লাস্টিক বডি পাবেন। লেখালেখি, ব্রাউজিং বা পরিবারের দ্বিতীয় ল্যাপটপ হিসেবে ঠিক আছে। IdeaPad 1 14IGL7 — ৳ ৩৭,৬৫০ যুক্তিসঙ্গত পছন্দ, তবে মনে রাখবেন আপনি একটি সীমিত ক্ষমতার মেশিন কিনছেন, সস্তায় দ্রুত মেশিন নয়।
৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা
এই রেঞ্জটা গত এক বছরে অনেক ভালো হয়েছে। ৫১২GB SSD, আধুনিক Core 3 বা Ryzen 5, আর ক্রমশ ১৬GB RAM পাওয়া যাচ্ছে। ১৫.৬ ইঞ্চি টেবিল-মেশিনের জন্য IdeaPad Slim 3i 15IRU8 — ৳ ৫৩,৮৯৯, ব্যাটারির জন্য Asus Vivobook Go 15 (Ryzen 5) — ৳ ৫৯,৩০০, আর বড় ও সহজপাঠ্য স্ক্রিনের জন্য IdeaPad Slim 3i 14IRU10 WUXGA — ৳ ৬২,০০০ দেখতে পারেন।
৬৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা
এখানে আর আপস করতে হয় না। Asus Vivobook 15 (Core 5 120U) ৳ ৭৯,৭০০ ভারী মাল্টিটাস্কিং সামলায়। সঙ্গে মনিটর যোগ করলেই পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কস্টেশন।
১ লাখ টাকার উপরে
এখানে তিন রকম মেশিন আছে। গেমিংয়ের জন্য চাই dedicated NVIDIA RTX graphics আর high refresh rate স্ক্রিন। সারাদিনের ব্যাটারি ও নীরবতার জন্য IdeaPad Slim 5x (Snapdragon X Plus) ৳ ১,১০,৫০০ ঠান্ডা ও নিঃশব্দ থাকে, তবে কিছু পুরোনো Windows সফটওয়্যার Arm-এ চালাতে অতিরিক্ত স্তর লাগে। ক্রিয়েটিভ কাজে Apple silicon এখনো দক্ষতার মানদণ্ড।
বাংলাদেশে ল্যাপটপ কেনার আগে যা জানা দরকার
অফিসিয়াল নাকি আনঅফিসিয়াল
একই মডেল অন্য কোথাও ১০–২০ হাজার টাকা কমে পাওয়ার কারণ সাধারণত একটাই — সেটি শুল্ক না দিয়ে দেশে ঢুকেছে এবং তার কোনো স্থানীয় ওয়ারেন্টি নেই। মাদারবোর্ড নষ্ট হলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার সেটি ছোঁবে না, পুরো খরচ আপনার। টাকা দেওয়ার আগে ওয়ারেন্টি কার্ডে আমদানিকারকের নাম আছে কি না দেখুন, কার্ডের সিরিয়াল নম্বর ল্যাপটপের নিচের স্টিকারের সঙ্গে মেলান, আর কোন সার্ভিস সেন্টার ওয়ারেন্টি দেবে তা জেনে নিন। যে বিক্রেতা লিখিতভাবে ওয়ারেন্টির শর্ত দিতে রাজি নন, তিনি আসলে উত্তরটা দিয়েই দিচ্ছেন।
FreeDOS মানে Windows আলাদা কিনতে হবে
বাজারের সবচেয়ে সস্তা তালিকাগুলোর বড় অংশ আসে FreeDOS নিয়ে, Windows নিয়ে নয়। মেশিন চালু হয়ে শুধু একটি কমান্ড প্রম্পট দেখায় — Office, Zoom বা Chrome কিছুই চলবে না যতক্ষণ না অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করছেন। তাই দামের সঙ্গে জেনুইন Windows লাইসেন্সের খরচ যোগ করে হিসাব করুন, নইলে "সস্তা" ল্যাপটপ আসলে সস্তা নয়। তালিকায় অপারেটিং সিস্টেম লেখা না থাকলে ধরে নিন FreeDOS, আর জিজ্ঞেস করে নিন।
লোডশেডিং, ভোল্টেজ ও ব্যাটারি
ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপ লোডশেডিং অনেক ভালো সামলায়, কিন্তু দুর্বল জায়গা হলো চার্জার — ভোল্টেজ ওঠানামায় অ্যাডাপ্টার, কখনো কখনো পেছনের বোর্ডও নষ্ট হয়। আপনার এলাকায় বিদ্যুৎ অস্থির হলে চার্জার সরাসরি না লাগিয়ে stabilizer বা pure sine wave IPS-এর মাধ্যমে চালান; সস্তা square wave IPS-এ অ্যাডাপ্টার গরম হয় ও শব্দ করে। লোডশেডিং দীর্ঘ হলে ৫০Wh বা তার বেশি ব্যাটারির মডেল বেছে নিন — অতি-পাতলা ল্যাপটপ ওজন কমাতে ব্যাটারি ছোট করে। প্রয়োজনের আগেই চার্জার ও অ্যাডাপ্টার কী পাওয়া যাচ্ছে দেখে রাখুন।
বর্ষার আর্দ্রতা ও ধুলা
ঢাকার ধুলা ল্যাপটপের ভেন্ট নির্মাতাদের হিসাবের চেয়ে অনেক দ্রুত আটকে দেয়, আর বর্ষার আর্দ্রতা সেটা আরও বাড়ায়। বছরে অন্তত একবার পেশাদারভাবে ফ্যান পরিষ্কার করান, গেমিং ল্যাপটপ হলে আরও ঘন ঘন। বিছানা বা বালিশের উপর রেখে কাজ করবেন না — ভেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়াই অতিরিক্ত গরম হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। স্যাঁতসেঁতে সময়ে বন্ধ ল্যাপটপ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ব্যাগে আটকে রাখবেন না।
ওয়ারেন্টি, সার্ভিস সেন্টার, কিস্তি ও ডেলিভারি
ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে ওয়ারেন্টি সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর, আর ইন্টারন্যাশনাল ওয়ারেন্টি মানেই স্থানীয় সার্ভিস নয়। অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারগুলো মূলত ঢাকায়, বড় ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামেও ভালো উপস্থিতি আছে, অন্য জেলায় তুলনায় কম — এই দুই শহরের বাইরে থাকলে কেনার আগেই যাচাই করে নিন। কিস্তিতে (EMI) কেনা এখন স্বাভাবিক; শুধু নিশ্চিত হোন আপনার কার্ডে সুবিধাটি আছে কি না এবং সেটি সত্যিই ০% নাকি ব্যাংকের প্রসেসিং ফি আছে — সেই ফি অনেক সময় ছাড়ের পুরোটা খেয়ে ফেলে। এই পাতার পণ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি ও ৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা প্রযোজ্য।
আমদানি শুল্ক ও দামের গতিপ্রকৃতি
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, সার্ভার ও মনিটরের আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছিল; খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে এতে খুচরা দাম প্রায় ১০–১৫ শতাংশ কমতে পারে। তাই ২০২৬ সালের মাঝামাঝির আগে প্রকাশিত কোনো প্রাইস লিস্টের উপর ভরসা না করে সরাসরি বর্তমান দাম মিলিয়ে দেখুন।
যে ভুলগুলো ক্রেতাদের টাকা নষ্ট করে
- প্রজন্ম দেখে কেনা, কনফিগারেশন না দেখে। ১৬GB RAM-সহ নতুন Core i3 প্রায় সব কাজে 4GB RAM-সহ পুরোনো i7-কে হারায়।
- পরে RAM বাড়ানো যাবে ধরে নেওয়া। অনেক পাতলা মডেলে RAM সোল্ডার করা থাকে। তিন বছর পর যা লাগবে, আজই নিন।
- প্যানেল উপেক্ষা করা। এই দামে TN স্ক্রিন এমন একটা আপস, যেটা প্রতিদিন চোখে পড়বে।
- Windows-এর খরচ হিসাবে না ধরা। FreeDOS মেশিন + লাইসেন্স মিলিয়ে প্রায়ই সেই Windows মডেলের চেয়ে বেশি পড়ে, যেটা আপনি বাদ দিয়েছিলেন।
- শুধু সবচেয়ে কম দাম খোঁজা। চলতি মডেলের অস্বাভাবিক কম দাম মানে সাধারণত ওয়ারেন্টিহীন আনঅফিসিয়াল স্টক।
- পোর্ট না দেখা। পেনড্রাইভ, প্রজেক্টর বা তারের LAN ব্যবহার করলে USB-A, HDMI ও RJ45 আছে কি না দেখে নিন — নইলে পরে কম্পোনেন্ট ও অ্যাডাপ্টার কিনতে হবে।
- বহনের জন্য গেমিং ল্যাপটপ কেনা। আড়াই কেজি ওজন আর বড় চার্জার প্রতিদিন বহনের জিনিস নয়।
- কীবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড পরখ না করা। স্পেক শিটের যেকোনো কিছুর চেয়ে এগুলো আপনি বেশি ব্যবহার করবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
৮GB RAM কি এখন যথেষ্ট?
ডকুমেন্ট, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও কল ও সাধারণ ব্রাউজিংয়ের জন্য ৮GB যথেষ্ট। কিন্তু বিশটা ট্যাবের সঙ্গে Photoshop বা কোড এডিটর চালালে সমস্যা শুরু হয়। RAM সোল্ডার করা থাকলে এবং তিন বছরের বেশি ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে এখনই ১৬GB নিন — পরে যোগ করা যাবে না।
FreeDOS ল্যাপটপ মানে কী?
FreeDOS একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম, যা দিলে নির্মাতাকে Windows লাইসেন্সের দাম যোগ করতে হয় না। হার্ডওয়্যার ঠিকঠাক চলে, কিন্তু মেশিন শুধু কমান্ড প্রম্পটে চালু হয় — Windows বা Linux ইনস্টল না করা পর্যন্ত Office, Chrome বা Zoom চলবে না। তাই দাম তুলনার আগে লাইসেন্সের খরচ যোগ করুন।
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আছে কি না বুঝব কীভাবে?
ওয়ারেন্টি কার্ডে অনুমোদিত আমদানিকারকের নাম আছে কি না দেখুন, আর কার্ডের সিরিয়াল নম্বর ল্যাপটপের নিচের স্টিকারের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। কোন সার্ভিস সেন্টার ওয়ারেন্টি দেবে জিজ্ঞেস করুন। আনঅফিসিয়াল ইউনিট সস্তা হয় শুল্ক না দেওয়ার কারণে, আর ব্র্যান্ড যাই হোক অনুমোদিত সেন্টার সেগুলো নেয় না।
৫১২GB SSD কি যথেষ্ট, নাকি ১TB নেব?
Windows, Office আর কয়েক বছরের ডকুমেন্ট ও ছবি ধরলে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য ৫১২GB যথেষ্ট। বড় ভিডিও প্রজেক্ট বা গেম লাইব্রেরি রাখলে ১TB নিন। নইলে ৫১২GB নিয়ে একটি এক্সটার্নাল ড্রাইভ যোগ করুন — ল্যাপটপের ভেতরের স্টোরেজ আপগ্রেডের চেয়ে এটি প্রায় সবসময়ই সস্তা।
Intel নাকি AMD নেব?
কোনোটিই সব দিক থেকে এগিয়ে নয়। ব্র্যান্ড নয়, নির্দিষ্ট চিপ মডেল ও পুরো কনফিগারেশন মিলিয়ে দেখুন। একই দামে এখানে AMD Ryzen মডেলে প্রায়ই বেশি RAM পাওয়া যায়, আর Intel Core-এর মডেল ও সাইজের বৈচিত্র্য বেশি। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় RAM, SSD ও প্যানেলের মান প্রসেসর ব্র্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।
ল্যাপটপের জন্য কি stabilizer বা IPS লাগে?
স্বল্প সময়ের লোডশেডিং ল্যাপটপের ব্যাটারিই সামলে নেয়। ঝুঁকিটা ভোল্টেজ ওঠানামার সময় চার্জারের। বিদ্যুৎ অস্থির হলে অ্যাডাপ্টার stabilizer বা pure sine wave IPS-এর মাধ্যমে চালান, square wave নয়। দীর্ঘ বা ঘন ঘন লোডশেডিং হলে সবচেয়ে পাতলা মডেল না নিয়ে ৫০Wh বা বড় ব্যাটারির ল্যাপটপ বেছে নিন।
কিস্তিতে বা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কেনা যাবে?
হ্যাঁ। কার্ড পেমেন্টে কিস্তির সুবিধা বহুল প্রচলিত, তবে দুটি বিষয় আগে নিশ্চিত করুন: আপনার নির্দিষ্ট ব্যাংক ও কার্ডে সুবিধাটি আছে কি না, এবং কিস্তি সত্যিই ০% নাকি প্রসেসিং ফি আছে যা ছাড়ের সুবিধা কমিয়ে দেয়। উপরের তালিকার পণ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি ও ৭ দিনের রিটার্ন প্রযোজ্য।
এ বছর কি ল্যাপটপের দাম কমবে?
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ল্যাপটপ ও সংশ্লিষ্ট কম্পিউটিং পণ্যের আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছিল, আর খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে খুচরা দাম প্রায় ১০–১৫ শতাংশ কমতে পারে। বাস্তবায়ন ও পুরোনো স্টক শেষ হতে সময় লাগে, তাই পুরোনো প্রাইস লিস্টের বদলে বর্তমান দাম সরাসরি মিলিয়ে দেখুন।
এখনই বেছে নিন
উপরের ফিল্টার থেকে প্রথমে বাজেটের সর্বোচ্চ সীমা দিন, তারপর RAM দিয়ে ফিল্টার করুন — অন্য যেকোনো অপশনের চেয়ে এটি বেশি অমিল বাদ দেয়। দুটি মডেল বেছে নিয়ে প্যানেল, ব্যাটারি ক্ষমতা ও ওজন পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন। পুরো সেটআপ সাজাতে চাইলে কীবোর্ড ও মাউস, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস থেকে রাউটার যোগ করুন, আর ল্যাপটপ যদি টেবিল ছেড়ে কোথাও না যায় তবে একবার ডেস্কটপ-এর সঙ্গেও তুলনা করে নিন।






