বাংলাদেশে ক্যামেরা লেন্সের দাম: ৳ ৯,০০০ থেকে ৳ ১,৩৭,০০০
এই পাতায় ক্যামেরা লেন্সের দাম শুরু হয়েছে ৳ ৯,০০০ টাকায় — Nikon AF FX NIKKOR 50mm f/1.8D প্রাইম লেন্স দিয়ে, আর সবচেয়ে দামি Canon EF 24-70mm f/2.8L II USM পেশাদার জুম লেন্স, দাম ৳ ১,৩৭,০০০। মোট ২৮টি লেন্স। এখানে দুটি 50mm লেন্সের দামের পার্থক্য ৳ ২৩,০০০ — পার্থক্যটা focal length এ নয়, aperture আর focus motor এ।
দাম মেলানোর আগে মাউন্টের হিসাব মিলিয়ে নিন। যে লেন্স আপনার ক্যামেরার বডিতে লাগবেই না, তার দাম যত কমই হোক কোনো মূল্য নেই। Canon EF-S লেন্স full-frame Canon বডিতে লাগানোই যায় না, আর Nikon-এর সবচেয়ে সস্তা প্রাইম লেন্সটি Nikon-এর সবচেয়ে সস্তা বডিতে অটোফোকাস করে না।
তাই ক্রমটা রাখুন এভাবে — আগে মাউন্ট, তারপর focal length, তারপর aperture, শেষে দাম। বাকিটা উপরের ব্র্যান্ড ও দামের ফিল্টার করে দেবে।
বাংলাদেশে ক্যামেরা লেন্সের দামের ধাপগুলো
উপরের ২৮টির মধ্যে ২২টি লেন্সের দাম এখন সরাসরি দেখা যাচ্ছে, আর সেগুলো থেকেই চারটি স্পষ্ট ধাপ বেরিয়ে আসে। ধাপগুলোর মাঝের ফাঁকগুলো বানানো নয়, বাস্তব: ৳ ২৪,০০০ থেকে ৳ ২৮,৫০০ এর মধ্যে কোনো লেন্স নেই, ৳ ৫৭,০০০ থেকে ৳ ৯১,০০০ এর মধ্যেও নেই। এই দুই জায়গাতেই অপটিক্সের মান আসলে বদলে যায়।
| ধাপ | দামের সীমা | সংখ্যা | এই ধাপে যা বদলায় | উদাহরণ |
|---|---|---|---|---|
| শুরুর ধাপ | ৳ ৯,০০০ – ৳ ১৪,৯৯৯ | ৪ | শুধু 50mm প্রাইম আর স্ট্যাবিলাইজেশন ছাড়া টেলিফোটো জুম। প্লাস্টিক মাউন্ট স্বাভাবিক। | Canon EF 50mm f/1.8 STM — ৳ ১২,৫০০ |
| মূল ধাপ | ৳ ১৫,০০০ – ৳ ২৪,৯৯৯ | ৮ | স্ট্যাবিলাইজেশন যুক্ত হয়, ফোকাস মোটর শান্ত হয়। | Nikon AF-S NIKKOR 50mm f/1.8G — ৳ ১৯,০০০ |
| শখের ধাপ | ৳ ২৫,০০০ – ৳ ৫৯,৯৯৯ | ৭ | full-frame কভারেজ, f/1.4–f/1.8 প্রাইম, পুরো রেঞ্জে একই aperture এর জুম। | Sony E 50mm f/1.8 OSS — ৳ ২৮,৫০০ |
| পেশাদার ধাপ | ৳ ৬০,০০০ – ৳ ১,৩৭,০০০ | ৩ | স্থির f/2.8 বা f/4, আবহাওয়ারোধী সিলিং, L-series কাচ। | Canon EF 24-105mm f/4L IS USM — ৳ ৫৬,০০০ |
বাকি ছয়টি লেন্সের দাম দেখানো নেই, কারণ সেগুলো অর্ডার দিলে আনা হয়। এর মধ্যে আছে একমাত্র Canon মাউন্টের Tamron লেন্স এবং একটি Fujifilm X-mount প্রাইম। এগুলোর দাম জেনে নিন, শুরুর ধাপে ধরে নেবেন না।
কোন কাজে কোন লেন্স ভালো
focal length ঠিক করে ফ্রেম কতটা ধরবে, আর aperture ঠিক করে কতটা আলো ঢুকবে ও ব্যাকগ্রাউন্ড কতটা ব্লার হবে। সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ের ছবি তোলেন, দুটোই তার সঙ্গে মেলান।
পোর্ট্রেট ও মানুষের ছবি
full-frame এ 85mm, crop বডিতে 50mm — মুখের অনুপাত সুন্দর থাকে এবং ব্যস্ত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বিষয়বস্তু আলাদা হয়। f/1.8 যথেষ্ট; f/1.4 এর দাম প্রায় দ্বিগুণ।
পরামর্শ
Canon EF 85mm f/1.8 USM পোর্ট্রেট লেন্স — ৳ ৩৬,০০০
কম আলো ও ইনডোর অনুষ্ঠান
বিয়ের হল আর স্টেজ প্রোগ্রামে আলো চোখে যতটা মনে হয়, ক্যামেরার জন্য তার চেয়ে অনেক কম। f/1.8 প্রাইম লেন্স kit জুমের f/3.5 এর চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি আলো ঢোকায়।
পরামর্শ
Nikon 35mm f/1.8G AF-S DX প্রাইম — ৳ ২২,৫০০
ল্যান্ডস্কেপ ও ঘরের ভেতরের ছবি
crop সেন্সরে 18mm এর নিচে মানেই আল্ট্রা-ওয়াইড: গোটা ঘর এক ফ্রেমে, গভীরতা বেশি, কোণায় বাঁকানো ভাব দেখা যায়। ইন্টেরিয়র ফটোগ্রাফাররা একটা সবসময় ব্যাগে রাখেন।
পরামর্শ
Canon EF-S 10-18mm আল্ট্রা-ওয়াইড জুম — ৳ ১৮,০০০
দূরের বিষয়: খেলা, পাখি, মঞ্চ
70-300mm লেন্স kit লেন্সের নাগালের বাইরের জিনিস ধরে। এখানেই স্ট্যাবিলাইজেশন সবচেয়ে দরকারি — Canon-এ IS, Nikon-এ VR, Sony-তে OSS। এটি হাতের কাঁপুনি ঠেকায়, বিষয়ের নড়াচড়া নয়।
পরামর্শ
Nikon AF-P DX 70-300mm VR টেলিফোটো জুম — ৳ ১৮,০০০
ভ্রমণ ও প্রতিদিনের এক লেন্স
এখানেই prime আর zoom এর পথ আলাদা হয়। সাজেকের পাহাড়ে বা কক্সবাজারের সৈকতে লেন্স বদলানো মানেই ধুলো ঢোকার ঝুঁকি, zoom সেটা বাঁচায়। একই টাকায় prime দেয় বড় aperture।
পরামর্শ
Sony 55-210mm OSS ট্রাভেল জুম লেন্স — ৳ ২৪,০০০
ভিডিও ও ভ্লগিং
হাতে ধরে ভিডিও করতে চওড়া focal length লাগে, যাতে ছোট নড়াচড়াও স্থির দেখায়। সঙ্গে দরকার এমন stepping motor যার শব্দ মাইক্রোফোনে ধরা পড়ে না। পাতলা pancake লেন্স gimbal-এর ভারসাম্যও ঠিক রাখে।
পরামর্শ
Canon EF-S 24mm f/2.8 STM pancake লেন্স — ৳ ১৭,০০০
লেন্সটি কি আপনার ক্যামেরায় ফিট হবে?
উপরের প্রতিটি লেন্স পাঁচটি মাউন্ট ব্যবস্থার কোনো একটিতে পড়ে। কার্টে যোগ করার আগে প্রথম কলামে নিজের মাউন্ট খুঁজে পুরো সারিটা পড়ুন। বডিও একসঙ্গে কিনলে বাংলাদেশে DSLR ক্যামেরার দাম দেখে আগে মাউন্ট বেছে নিন।
| মাউন্ট | যেসব বডিতে লাগবে | যেখানে লাগবে না | যা খেয়াল রাখবেন |
|---|---|---|---|
| Canon EF | সব Canon DSLR বডি, crop বা full-frame | অ্যাডাপ্টার ছাড়া EOS R ও EOS M বডি | EF-EOS R অ্যাডাপ্টার লাগালে অটোফোকাস পুরোপুরি কাজ করে |
| Canon EF-S | 250D, 850D, 90D এর মতো Canon APS-C DSLR | যেকোনো full-frame Canon বডি — মাউন্টেই আটকে যায় | পরে বিক্রি করতে গেলে ক্রেতা শুধু crop ব্যবহারকারীরা |
| Nikon F — AF-S ও AF-P | সব Nikon DSLR মডেল, শুরুর বডিসহ | FTZ অ্যাডাপ্টার ছাড়া Nikon Z মিররলেস | পুরোনো বডিতে AF-P এর মেনু অপশন নাও থাকতে পারে |
| Nikon F — AF-D | বডিতে ফোকাস মোটর আছে এমন মডেল: D7500, D780, D850 | D3000 ও D5000 সিরিজে অটোফোকাস কাজ করে না | ম্যানুয়াল ফোকাস তখনও চলে |
| Sony E | Sony APS-C ও full-frame মিররলেস বডি | অ্যাডাপ্টার ছাড়া Sony A-mount DSLR | APS-C লেন্স full-frame বডিতে ছবি ক্রপ করে দেয় |
crop factor ফ্রেম বদলে দেয়
বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ DSLR-এ APS-C সেন্সর, যা লেন্সের জন্য নির্ধারিত ফ্রেমের চেয়ে ছোট, তাই দৃশ্য সরু হয়ে আসে। Canon-এ ১.৬ এবং Nikon-এ ১.৫ দিয়ে গুণ করুন। 50mm তখন 80mm এর মতো ফ্রেম দেয় — এ কারণেই সবচেয়ে সস্তা প্রাইম crop বডিতে পোর্ট্রেট লেন্সের কাজ করে, আবার ছোট ঘরে অস্বস্তিকর মনে হয়।
কম দামে ক্যামেরা লেন্স: কোন বাজেটে কী পাবেন
একই টাকায় ব্র্যান্ডভেদে জিনিস আলাদা। ২৮টির মধ্যে ১৫টিই Canon ক্যামেরা লেন্স এবং সব ধাপেই আছে। Nikon লেন্সের তালিকা ছয়টি, বেশিরভাগই ৳ ২২,৫০০ এর নিচে; আর Sony E-mount লেন্স শুরু ৳ ১৮,০০০ থেকে। কোনো ব্র্যান্ডই সব দিকে এগিয়ে নেই।
শুরুর ধাপ
৳ ৯,০০০ – ৳ ১৪,৯৯৯
- একটি fast 50mm প্রাইম, এর বেশি নয়
- এই দামে স্ট্যাবিলাইজেশন নেই
Canon EF-S 55-250mm IS II — ৳ ১২,৫০০
মূল ধাপ
৳ ১৫,০০০ – ৳ ২৪,৯৯৯
- এই পাতার সেরা মূল্যমান
- স্ট্যাবিলাইজড জুম ও ধারালো DX প্রাইম
Canon EF-S 55-250mm IS STM — ৳ ১৫,০০০
শখের ধাপ
৳ ২৫,০০০ – ৳ ৫৯,৯৯৯
- full-frame কভারেজ শুরু হয়
- পুরো জুম রেঞ্জে একই aperture
Canon EF 50mm f/1.4 USM — ৳ ৩২,০০০
পেশাদার ধাপ
৳ ৬০,০০০ – ৳ ১,৩৭,০০০
- স্থির f/2.8 ও আবহাওয়ারোধী সিলিং
- প্রতিদিনের বাণিজ্যিক কাজের জন্য
Canon EF 16–35mm f/2.8L III USM — ৳ ১,১২,০০০
যেসব ভুলে লেন্স কিনতে গিয়ে টাকা নষ্ট হয়
শুরুর Nikon বডির জন্য AF-D প্রাইম কেনা
৳ ৯,০০০ টাকার 50mm f/1.8D এই পাতার সবচেয়ে সস্তা লেন্স, কিন্তু D3500 বা D5600 এ এটি কখনোই অটোফোকাস করবে না — বডি বা লেন্স কোনোটিতেই ফোকাস মোটর নেই। ৳ ১৯,০০০ দিয়ে AF-S সংস্করণ নিন।
পরে full-frame কেনার পরিকল্পনা থাকলেও EF-S নেওয়া
ভবিষ্যতে 6D বা 5D নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে আজ কেনা প্রতিটি EF-S লেন্স সেদিন অকেজো হয়ে যাবে। বরং EF নিন, সেটি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন।
যে স্ট্যাবিলাইজেশন কাজেই লাগবে না
স্ট্যাবিলাইজেশনের দাম উসুল হয় মোটামুটি 100mm এর উপরে গিয়ে। 35mm বা 50mm প্রাইমে এটি দাম বাড়ায়, ছবিতে খুব একটা বদল আনে না।
সস্তা মানেই অফিসিয়াল ধরে নেওয়া
সবার চেয়ে কয়েক হাজার টাকা কম দামের লেন্স সাধারণত আনঅফিসিয়াল আমদানি। এটি নেওয়া অন্যায় নয়, তবে জেনেবুঝে নেওয়াই শর্ত।
প্রথম প্রাইমের আগে দ্বিতীয় জুম
সঙ্গের kit 18-55mm ইতিমধ্যেই ওয়াইড থেকে নরমাল কভার করে, তাই দ্বিতীয় জুম সেটিরই পুনরাবৃত্তি। fast প্রাইম দেয় যা kit লেন্স পারেই না: ঘরের আলোয় ছবি আর সত্যিকারের ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ড।
লেন্সের সঙ্গে যা লাগে তা ভুলে যাওয়া
fast প্রাইম ঘরের আলোর সমস্যা একটা সীমা পর্যন্তই সামলায়। এর পরে দরকার ক্যামেরা ফ্ল্যাশ; শুরুতেই এর বাজেট রাখলে ভুল লেন্স কেনা এড়ানো যায়।
বর্ষায় লেন্স ভালো রাখার উপায়
ঢাকায় পুরোনো লেন্স কম দামে বিক্রি হওয়ার বড় কারণ ছত্রাক, অথচ এটি ঠেকানো যায়। আর্দ্রতা প্রায় ৬০% ছাড়ালেই কাচ ও ভেতরের কোটিংয়ে ছত্রাক জন্মাতে শুরু করে, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার বাতাস মাসের পর মাস এর উপরেই থাকে। একবার কোটিং ক্ষয়ে গেলে সেই ক্ষতি আর ফেরানো যায় না।
৪০% থেকে ৫০% আর্দ্রতায় রাখুন
সস্তা উপায় হলো indicating silica gel দেওয়া বায়ুরোধী বাক্স, তবে রং বদলালে জেল আবার শুকিয়ে নিতে হবে। electronic dry cabinet কোনো তদারকি ছাড়াই মাত্রা ধরে রাখে। যা কখনোই করবেন না: শুটিং শেষে ভেজা ক্যামেরা ব্যাগ এর ভেতর লেন্স আটকে রাখা — আলো নেই, বাতাস চলাচল নেই, আর ভেতরে জমা আর্দ্রতা; ছত্রাকের ঠিক এটাই দরকার। মুছে এক দিন খোলা রেখে তারপর তুলে রাখুন।
অফিসিয়াল না আনঅফিসিয়াল, এবং কেন তা জরুরি
অফিসিয়াল পণ্যের ওয়ারেন্টি ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি পরিবেশক দেয়। আনঅফিসিয়াল আমদানির দাম কম, কারণ সেই সুরক্ষাটাই নেই। বডির চেয়ে লেন্সে ঝুঁকিটা বেশি, কারণ লেন্স মেরামত মানে যন্ত্রাংশ বদল নয়, অপটিক্যাল অ্যালাইনমেন্ট। কোনটা দেওয়া হচ্ছে জেনে নিন এবং রসিদ রাখুন।
সেকেন্ড হ্যান্ড, EMI ও পেমেন্ট
বাংলাদেশে পুরোনো লেন্সের বাজার বেশ বড়। সেখান থেকে কিনলে পেছন দিক থেকে টর্চ ফেলে এলিমেন্টের ফাঁকে সাদা আঁশ আছে কি না দেখুন, aperture ব্লেডে তেল জমেছে কি না দেখুন, আর zoom রিং ঘুরিয়ে খরখরে শব্দ শুনুন। উপরের ধাপগুলোতে কার্ড EMI সহজেই পাওয়া যায়। ফিল্টার ও হুড আছে ক্যামেরা অ্যাকসেসরিজ এ; আর বেশিরভাগ কাজ ঘরে হলে আরেকটি লেন্সের চেয়ে স্টুডিও লাইটিং বেশি কাজে দেবে।
ক্যামেরা লেন্স নিয়ে ক্রেতাদের সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ক্যামেরা লেন্সের দাম কত?
বাংলাদেশে ClickBD-তে ক্যামেরা লেন্সের দাম ৳ ৯,০০০ থেকে ৳ ১,৩৭,০০০ পর্যন্ত, মোট ২৮টি লেন্স রয়েছে। সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায় Nikon 50mm f/1.8D, দাম ৳ ৯,০০০। প্রতিদিনের ব্যবহারের স্ট্যাবিলাইজড zoom লেন্স ৳ ১৫,০০০ থেকে ৳ ২৪,০০০ এর মধ্যে, আর পেশাদার Canon L-series লেন্সের দাম ৳ ১,৩৭,০০০ পর্যন্ত ওঠে।
পোর্ট্রেট ছবির জন্য কোন লেন্স ভালো?
পোর্ট্রেটের জন্য 85mm f/1.8 সবচেয়ে প্রচলিত পছন্দ, এবং এখানে Canon EF 85mm f/1.8 USM এর দাম ৳ ৩৬,০০০। তবে crop sensor DSLR-এ 50mm লেন্স 80mm এর মতো ফ্রেম দেয়, তাই ৳ ১২,৫০০ টাকার Canon EF 50mm f/1.8 STM দিয়েও প্রায় একই ফল অনেক কম খরচে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দামের ক্যামেরা লেন্স কোনটি?
উপরের তালিকায় সবচেয়ে কম দামের লেন্স Nikon AF FX NIKKOR 50mm f/1.8D, দাম ৳ ৯,০০০। কেনার আগে সতর্ক থাকুন, কারণ এই D-series লেন্সে নিজস্ব focus motor নেই, তাই D3000 ও D5000 সিরিজের বডিতে এটি অটোফোকাস করবে না। ওই ক্যামেরাগুলোর জন্য ৳ ১৯,০০০ টাকার AF-S 50mm f/1.8G নেওয়াই ঠিক হবে।
Canon EF লেন্স কি EOS R মিররলেস ক্যামেরায় লাগবে?
হ্যাঁ, তবে শুধু Canon EF-EOS R মাউন্ট অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে। উপরের সব EF ও EF-S লেন্স Canon-এর DSLR মাউন্টের জন্য তৈরি, EOS R বডির RF মাউন্টের জন্য নয়। অ্যাডাপ্টার লাগালে অটোফোকাস ও স্ট্যাবিলাইজেশন স্বাভাবিকভাবেই কাজ করে। অ্যাডাপ্টার ছাড়া EF লেন্স RF বডিতে লাগানোই যাবে না।
prime লেন্স আর zoom লেন্সের পার্থক্য কী?
prime লেন্সের focal length একটাই, আর zoom লেন্স একটি পুরো রেঞ্জ কভার করে। একই টাকায় prime বেশি বড় aperture দেয় — ৳ ১২,৫০০ টাকার Canon EF 50mm f/1.8 STM f/1.8 পর্যন্ত খোলে, অথচ ৳ ১৫,০০০ টাকার EF-S 55-250mm zoom সর্বোচ্চ f/4 পর্যন্ত যায়। zoom বদলে দেয় ফ্রেমিংয়ের স্বাধীনতা।
বাংলাদেশে লেন্সে ছত্রাক পড়া ঠেকাবেন কীভাবে?
লেন্স ৪০% থেকে ৫০% আপেক্ষিক আর্দ্রতায় রাখুন। আর্দ্রতা প্রায় ৬০% ছাড়ালে কাচের উপর ছত্রাক জন্মাতে শুরু করে, আর ঢাকার বাতাস বর্ষার বেশিরভাগ সময় এর উপরেই থাকে। সস্তা সমাধান silica gel দেওয়া বায়ুরোধী বাক্স, নির্ভরযোগ্য সমাধান electronic dry cabinet। ভেজা ক্যামেরা ব্যাগে লেন্স আটকে রাখবেন না।
EF-S লেন্স কি full-frame Canon ক্যামেরায় চলে?
না। EF-S লেন্স তৈরি হয়েছে 250D, 850D ও 90D এর মতো APS-C crop বডির জন্য, এবং Canon এগুলোকে 6D বা 5D এর মতো full-frame বডিতে লাগাতেই দেয় না। উপরে থাকা Canon EF-S 10-18mm ও EF-S 55-250mm শুধু crop বডির জন্যই। full-frame ব্যবহারকারীদের বদলে EF লেন্স নিতে হবে।
লেন্সের গায়ে "no warranty" লেখা থাকলে কী বোঝায়?
এর মানে লেন্সটি আনঅফিসিয়াল আমদানি, এবং ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি পরিবেশক এটির ওয়ারেন্টি সার্ভিস দেবে না। আনঅফিসিয়াল স্টকের দাম কম, কিন্তু মেরামতের পুরো খরচ আপনাকেই দিতে হবে। লেন্স মেরামত মানে যন্ত্রাংশ বদল নয়, অপটিক্যাল অ্যালাইনমেন্ট। তাই টাকা দেওয়ার আগে অফিসিয়াল না আনঅফিসিয়াল জেনে নিন।
নতুনদের প্রথম কোন লেন্স কেনা উচিত?
দ্বিতীয় zoom লেন্স কেনার আগে একটি fast 50mm প্রাইম কিনুন। সঙ্গে থাকা kit 18-55mm লেন্স ওয়াইড থেকে নরমাল ফ্রেম কভার করে, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করতে বা ঘরের আলোয় কাজ করতে পারে না। ৳ ১২,৫০০ টাকার Canon EF 50mm f/1.8 STM বা ৳ ১৯,০০০ টাকার Nikon AF-S 50mm f/1.8G দুটোই সঙ্গে সঙ্গে সেই সুবিধা এনে দেয়।
লেন্সে image stabilisation থাকা কি জরুরি?
হ্যাঁ, যদি আপনি 100mm এর বেশি ফোকাল লেংথে হাতে ধরে ছবি তোলেন বা ফ্ল্যাশ ছাড়া ঘরের ভেতর কাজ করেন। Canon-এ IS, Nikon-এ VR এবং Sony-তে OSS নামে পরিচিত এই সুবিধা হাতের কাঁপুনি ঠেকায়, বিষয়বস্তুর নড়াচড়া নয়। ৳ ১৮,০০০ টাকার Nikon 70-300mm VR এ এটি অপরিহার্য, কিন্তু 35mm প্রাইমে ততটা নয়।
উপরের তালিকা তিন ধাপে ছোট করুন
প্রথমে ব্র্যান্ড ফিল্টারে নিজের ক্যামেরার মাউন্ট বেছে নিন — এতেই ২৮টির বেশিরভাগ বাদ পড়ে যাবে। তারপর নিজের দামের ধাপ ঠিক করুন, শেষে aperture দেখে বাছুন; একই ধাপের মধ্যে ছবিতে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য এই সংখ্যাটাই আনে।
এখনো দ্বিধায় থাকলে ৳ ১২,৫০০ টাকার Canon EF 50mm f/1.8 STM এর সঙ্গে ৳ ১৫,০০০ টাকার EF-S 55-250mm IS STM মিলিয়ে দেখুন। প্রায় একই টাকা, কিন্তু prime বনাম zoom প্রশ্নের সম্পূর্ণ উল্টো উত্তর — যেটির পক্ষে আপনি যুক্তি খুঁজছেন, সেটিই বলে দেবে আপনি কোন ধরনের ফটোগ্রাফার।



























