এসির দাম ২০২৬: এখন বাজারে কত পড়ছে
বাংলাদেশে এসির দাম নিয়ে বেশিরভাগ মানুষ একটা জায়গায় এসে আটকে যান — কম দামের এসিটা আসলে ঠকা কি না। উপরের 76টি মডেলে দাম ৳ 33,999 থেকে ৳ 249,990 পর্যন্ত, আর সত্যি কথা হলো এই পার্থক্যটা মূলত টন, কম্প্রেসরের ধরন আর সার্ভিস নেটওয়ার্কের — প্রথম দিনের ঠান্ডার নয়।
শোবার ঘরের জন্য 1 টন এসি শুরু ৳ 34,000-এর কাছাকাছি। ঢাকার বেশিরভাগ ফ্ল্যাটে যেটা আসলে দরকার, সেই 1.5 টন ইনভার্টার পড়ে ৳ 46,000 থেকে ৳ 68,000-এর মধ্যে। ৳ 100,000-এর উপরে গেলে আপনি কম শব্দ, লম্বা ওয়ারেন্টি আর ঘন সার্ভিস নেটওয়ার্ক কিনছেন — বাড়তি ঠান্ডা নয়।
বাজেট অনুযায়ী এসির দাম
এই রেঞ্জগুলো উপরের লাইভ লিস্টিং থেকে নেওয়া, বাজারের গড় হিসাব নয়। মডেল দেখা শুরু করার আগে ফিল্টারে দামের সীমা ঠিক করে নিন।
| রেঞ্জ | ধরন | কাদের জন্য | উদাহরণ | দাম |
|---|---|---|---|---|
| ৳ 34 – 50 হাজার | এন্ট্রি | একটি শোবার ঘর, ভাড়া বাসা, মৌসুমি ব্যবহার | Viomi A1 1 টন স্প্লিট এসি | ৳ 33,999 |
| ৳ 50 – 70 হাজার | সবচেয়ে জনপ্রিয় | মাস্টার বেডরুম বা বসার ঘর, প্রতিদিনের ব্যবহার | Hisense 1.5 টন DC ইনভার্টার এসি | ৳ 58,000 |
| ৳ 70 হাজার – 1 লাখ | 2 টন রেঞ্জ | বড় বসার ঘর, ছোট অফিস | Gree 2 টন ইনভার্টার এসি GS-24XLMV32 | ৳ 82,900 |
| ৳ 1 – 1.5 লাখ | প্রিমিয়াম | কম শব্দ, লম্বা ওয়ারেন্টি, ভালো সার্ভিস | Samsung 1.5 টন WindFree AI এসি | ৳ 114,900 |
| ৳ 1.5 লাখের উপরে | কমার্শিয়াল | শোরুম, রেস্টুরেন্ট, 600 বর্গফুটের বেশি জায়গা | Gree 5 টন ক্যাসেট ইনভার্টার এসি | ৳ 249,990 |
এসি কেনার আগে যে পাঁচটি বিষয় দেখতেই হবে
এই কয়েকটা ঠিক না হলে স্পেসিফিকেশনের বাকি সব লেখা অর্থহীন।
এসির টন কিভাবে বুঝব
1 টন মানে ঘণ্টায় 12,000 BTU তাপ সরানোর ক্ষমতা। 8 থেকে 9 ফুট সিলিংয়ে 1 টন প্রায় 110–140 বর্গফুট, 1.5 টন 150–200 বর্গফুট এবং 2 টন 220–300 বর্গফুট ঘরের জন্য ঠিক থাকে।
আপনার জন্য এর মানে: ঘরের মাপ নিন, তারপর ছাদের নিচের তলা হলে, পশ্চিমমুখী হলে বা কাচের দরজা থাকলে প্রায় 20 শতাংশ যোগ করুন। ছাদের নিচের 170 বর্গফুটের ঘর বাস্তবে 2 টনের ঘর।
দেখতে পারেন
Haier 2 টন TurboCool এসি — ৳ 59,000, এই পাতার সবচেয়ে কম দামি 2 টন
ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার
নন-ইনভার্টার কম্প্রেসর পুরো গতিতে চলে, বন্ধ হয়, আবার চালু হয়। ইনভার্টার কম্প্রেসর গতি কমিয়ে একটানা চলে — তাই ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে বিদ্যুৎ কম টানে আর শব্দও কম করে।
আপনার জন্য এর মানে: একই মানের মডেলে ইনভার্টারের বাড়তি দাম প্রায় ৳ 5,000 থেকে ৳ 10,000। গরমকালে প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টা চললে টাকাটা উঠে আসে। সপ্তাহে দুইদিন চালালে আসে না।
দেখতে পারেন
Haier 1 টন CleanCool ইনভার্টার এসি — ৳ 44,900
গ্যাস R32 না R410A
R32 নতুন, পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর, আর একক উপাদান বলে সামান্য লিক হলে টেকনিশিয়ান শুধু গ্যাস ভরে দিতে পারেন। R410A মিশ্রণ, পুরোটা খালি করে নতুন করে ভরতে হয়।
আপনার জন্য এর মানে: তিন বছর পর লিক সারাতে R32 মডেলের সার্ভিস খরচ কম পড়বে। মডেল নম্বরে সাধারণত 32 থাকলে বুঝবেন এটি R32।
দেখতে পারেন
Gree 1.5 টন ইনভার্টার এসি GS-18XFV32 — ৳ 63,487
লবণ বাতাস ও কয়েলের মরিচা
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বা খুলনায় আউটডোর ইউনিট লবণাক্ত বাতাসে থাকে; ঢাকার বড় রাস্তার পাশে থাকে ধোঁয়ায়। কোটিং ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ফিনে মরিচা ধরে কম্প্রেসর নষ্ট হওয়ার অনেক আগেই ঠান্ডা কমে যায়।
আপনার জন্য এর মানে: সমুদ্রের কাছাকাছি বা ব্যস্ত রাস্তার পাশে থাকলে অ্যান্টি-করোশন বা ব্লু-ফিন কোটিং শখের জিনিস নয়, দরকারি জিনিস।
দেখতে পারেন
Haier 1.5 টন CleanCool ইনভার্টার এসি — ৳ 51,490
উইন্ডো এসির দাম ও কখন লাগবে
স্প্লিট এসি ঘরের ভেতরে শান্ত, তাই উপরের তালিকায় এটাই বেশি। উইন্ডো এসিতে দেয়ালে বা জানালায় জায়গা লাগে, তবে কপার পাইপ লাগে না বলে লাগানোর খরচ কম পড়ে।
আপনার জন্য এর মানে: ধানমন্ডি বা ওয়ারীর পুরনো অনেক ভবনে বাইরের দেয়ালে আউটডোর ইউনিট বসানো নিষেধ — সেখানে উইন্ডো এসিই একমাত্র উপায়।
দেখতে পারেন
Jadroo 1 টন উইন্ডো টাইপ এসি — ৳ 55,800
হট অ্যান্ড কুল এসি কাদের দরকার
হট অ্যান্ড কুল এসি ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে গরম বাতাসও দেয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ জায়গায় সেটা বছরে কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার — তাই উপরের তালিকায় এমন মডেল আছে মাত্র একটি।
আপনার জন্য এর মানে: সিলেট, রংপুর বা পঞ্চগড়ে কাজে লাগে। অন্য জায়গায় সেই বাড়তি টাকা কম্প্রেসর ওয়ারেন্টির পেছনে দেওয়া ভালো।
দেখতে পারেন
Gree 1.5 টন হট অ্যান্ড কুল এসি — ৳ 58,900
কোন ব্র্যান্ডের এসি ভালো
সব দিক থেকে সেরা কোনো একটি ব্র্যান্ড নেই। উপরের 76টি লিস্টিং ধরে প্রতিটি ব্র্যান্ড কোথায় ভালো আর কোথায় নয়, সেটাই নিচে।
| ব্র্যান্ড | মডেল | যেখানে ভালো | যেখানে দুর্বল |
|---|---|---|---|
| Gree এসির দাম | 20 | 1 টন থেকে 5 টন ক্যাসেট পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অপশন; যন্ত্রাংশ সহজে মেলে | ৳ 52,000-এর নিচে কিছু নেই |
| Haier এসির দাম | 7 | টাকার হিসাবে সেরা ইনভার্টার; 1 টন ও 1.6 টনে শক্ত অপশন | কমার্শিয়াল ক্যাপাসিটি নেই |
| General এসির দাম | 9 | টেকসই হিসেবে পরিচিত; উইন্ডো এসিতে সবচেয়ে বেশি অপশন | একই টনে অন্যদের চেয়ে দাম বেশি |
| Samsung ইনভার্টার এসি | 6 | সবচেয়ে কম শব্দ, অ্যাপ কন্ট্রোল, WindFree মোড | প্রায় সবই ৳ 85,000-এর উপরে |
| Viomi কম দামের এসি | 5 | ৳ 33,999-এ এই পাতার সবচেয়ে কম দাম | ঢাকার বাইরে সার্ভিস সেন্টার কম |
| Hisense DC ইনভার্টার এসি | 3 | মাঝারি দামে ফুল DC ইনভার্টার | মাত্র তিনটি ক্যাপাসিটি |
| ওয়ালটন এসির দাম | 2 | সারা দেশে সবচেয়ে ঘন সার্ভিস নেটওয়ার্ক | এই পাতায় মাত্র দুটি মডেল |
| Kelvinator স্মার্ট WiFi এসি | 4 | ৳ 54,900 থেকেই WiFi কন্ট্রোল | 2 টন মডেলে দামের বড় লাফ |
| Midea স্প্লিট এসি | 3 | 1.5 ও 2 টনে ধরাবাঁধা মাঝারি দাম | এই তালিকায় 1 টন নেই |
সবচেয়ে কম দামে এসি এবং প্রতিটি বাজেট রেঞ্জ
চারটি রেঞ্জ, উপরের গ্রিড থেকে নেওয়া আসল মডেল ও আসল দাম।
50 হাজারের নিচে
৳ 33,999 – ৳ 49,990
- Viomi A1 1 টন স্মার্ট এসি — ৳ 33,999
- Rangs RAC-14SH 1 টন এসি — ৳ 35,000
- Haier 1 টন TurboCool এসি — ৳ 39,500
- Viomi A2 1.5 টন স্প্লিট এসি — ৳ 45,900
সবচেয়ে জনপ্রিয়
৳ 50,000 – ৳ 69,999
- Haier 1.5 টন CleanCool ইনভার্টার — ৳ 51,490
- Hisense 1.5 টন DC ইনভার্টার — ৳ 58,000
- LG 1.5 টন Dual Inverter এসি — ৳ 59,000
- Gree 1.5 টন ইনভার্টার GS-18XFV32 — ৳ 63,487
2 টনের রেঞ্জ
৳ 70,000 – ৳ 99,999
- Haier 2 টন EnergyCool ইনভার্টার — ৳ 74,500
- Midea 2 টন ইনভার্টার MSI24CRN — ৳ 75,000
- Gree 2 টন ইনভার্টার GS-24XLMV32 — ৳ 82,900
প্রিমিয়াম ও কমার্শিয়াল
৳ 100,000 – ৳ 249,990
- Samsung 1.5 টন WindFree AI এসি — ৳ 114,900
- General 1.5 টন ইনভার্টার এসি — ৳ 117,900
- Gree 5 টন ক্যাসেট ইনভার্টার এসি — ৳ 249,990
স্ট্যাবিলাইজার, IPS, ওয়ারেন্টি ও লাগানোর খরচ
এসিতে স্ট্যাবিলাইজার লাগে কি
এই প্রশ্নের ঠিক উত্তর কেউ দেয় না, অথচ ভুল হলে খরচ সবচেয়ে বেশি। বর্তমানের বেশিরভাগ ইনভার্টার মডেল নিজেই ভোল্টেজ সামলে নেয়, আলাদা স্ট্যাবিলাইজার লাগে না। নন-ইনভার্টার কম্প্রেসরে সেই সুরক্ষা নেই। সন্ধ্যায় পাম্প চালু হলে যদি বাতি স্পষ্ট নিভু নিভু করে, তাহলে ৳ 3,000 থেকে ৳ 6,000 ধরে রাখুন এবং বিক্রেতার কাছে জেনে নিন স্ট্যাবিলাইজার না দিলে কম্প্রেসর ওয়ারেন্টি নষ্ট হয় কি না।
লোডশেডিংয়ে IPS দিয়ে এসি চালানো যায়?
ফ্যান-বাতির জন্য কেনা সাধারণ IPS দিয়ে এসি চলবে না। চালু হওয়ার মুহূর্তে কম্প্রেসর স্বাভাবিকের কয়েকগুণ কারেন্ট টানে, ফলে IPS হয় ট্রিপ করবে নয়তো নষ্ট হবে। 1 টন এসিও অফ-গ্রিডে চালাতে বড় পিওর সাইন ওয়েভ ইনভার্টার আর ব্যাটারি ব্যাংক লাগবে, যার খরচ এসির চেয়েও বেশি। লোডশেডিংয়ের সময়ের জন্য সিলিং ও স্ট্যান্ড ফ্যান রাখাই বাস্তবসম্মত।
এসি কত বিদ্যুৎ খরচ করে
1.5 টন ইনভার্টার এসি 25°C ধরে রাখলে ঘর ঠান্ডা হওয়ার পর প্রায় 1.0 থেকে 1.4 কিলোওয়াট টানে। রাতে ছয় ঘণ্টা করে ত্রিশ দিন চললে মোটামুটি 180 থেকে 250 ইউনিট। আপনার শেষ বিলের স্ল্যাব রেট দিয়ে গুণ করলেই টাকার অঙ্ক পাবেন। ব্র্যান্ডের চেয়ে স্ল্যাবটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসি চালালে অনেক পরিবার উপরের স্ল্যাবে উঠে যায়।
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি না আনঅফিসিয়াল
আনঅফিসিয়াল ইউনিটের দাম কম, কারণ ওয়ারেন্টি দেয় আমদানিকারক, ব্র্যান্ড নয় — আর কম্প্রেসরের দাবিটাই আসল। ওয়ারেন্টি কার্ড ব্র্যান্ডের নামে কি না দেখুন, মডেল কোডটি ব্র্যান্ডের বাংলাদেশ সাইটে আছে কি না মিলিয়ে নিন, আর কোন সার্ভিস সেন্টার দাবি গ্রহণ করবে তা জেনে নিন। কম্প্রেসরে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি এখন স্বাভাবিক।
এসি লাগানোর খরচ কত, কী কী বাদ থাকে
সাধারণ ইনস্টলেশনে একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের কপার পাইপ — প্রায়ই তিন মিটার — ইনডোর ব্র্যাকেট আর দেয়ালের সাধারণ ছিদ্র ধরা থাকে। বাড়তি কপার, আউটডোর খাঁচা, ঢালাই দেয়ালে কোর ড্রিলিং আর স্ট্যাবিলাইজারের খরচ আলাদা। টেকনিশিয়ান আসার আগেই প্রতি মিটার কপারের রেট জেনে নিন। এপ্রিল-মে মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইনস্টলেশনের সিরিয়াল এক সপ্তাহ বা তারও বেশি লম্বা হয়, তাই আগেভাগে বুকিং দিন।
বর্ষার আর্দ্রতা আর ড্রেন পাইপ
জুন থেকে সেপ্টেম্বর এসি ঠান্ডা করার পাশাপাশি সমান পরিমাণে আর্দ্রতা টানে। ড্রেন পাইপের ঢাল ঠিক না থাকলে পানি জমে দেয়াল বেয়ে পড়বে। ইনডোর ইউনিট থেকে বাইরে পর্যন্ত পাইপ যেন একটানা নিচের দিকে নামে, সেটা নিশ্চিত করুন। গরমের চেয়ে স্যাঁতসেঁতে ভাবটাই যদি মূল সমস্যা হয়, তাহলে অনেক কম খরচে ডিহিউমিডিফায়ার কাজে দেবে।
এসি কিনতে গিয়ে যে সাতটি ভুল সবাই করে
৳ 8,000 বাঁচাতে ছোট টন কেনা
180 বর্গফুট ঘরে 1 টন এসি কখনো সেট তাপমাত্রায় পৌঁছায় না, তাই একটানা চলে — মাস শেষে খরচ 1.5 টনের চেয়েও বেশি।
ইচ্ছে করে বড় টন কেনা
ছোট ঘরে 2 টন দ্রুত ঠান্ডা করে বন্ধ হয়ে যায়, আর্দ্রতা টানার সময়ই পায় না। ফলে ঘর ঠান্ডা কিন্তু চটচটে, আর ঘন ঘন চালু-বন্ধে কম্প্রেসরও ক্ষয় হয়।
কোন তলায় থাকেন সেটা না ভাবা
ছাদের নিচের ঘরে ঢালাই ছাদ সারাদিন তাপ ধরে রাখে। একই মাপের নিচতলার ঘরের চেয়ে এখানে এক ধাপ বড় টন লাগবে।
সার্ভিস সেন্টার না দেখে কেনা
অর্ডারের আগে দেখে নিন আপনার জেলায় ব্র্যান্ডটির সার্ভিস পয়েন্ট আছে কি না। তিন ঘণ্টা দূরের টেকনিশিয়ান মানে তৃতীয় বছরে সস্তা এসিটা আর সস্তা থাকে না।
16°C-এ সেট করে রাখা
24-এর বদলে 16 দিলে ঘর তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয় না, শুধু পুরো শক্তিতে বেশিক্ষণ চলে। 24 থেকে 25 রাখুন, কম্প্রেসরকে গতি কমাতে দিন।
গরমের আগে সার্ভিসিং না করানো
ধুলো জমা ফিল্টার আর কয়েল ঠান্ডা করার ক্ষমতা অনেকটা কমিয়ে দেয়। মার্চে একবার পরিষ্কার করানোর খরচ জুনের বাড়তি বিলের চেয়ে কম। ফিল্টার ও কভার আছে এসির পার্টস ও অ্যাকসেসরিজ-এ।
আউটডোর ইউনিট ঘিরে রাখা
কনডেন্সারের চারপাশে খোলা বাতাস দরকার। আলো-বাতাসের সরু জায়গায় বা আঁটসাঁট গ্রিলে বন্দি করলে নিজের গরম বাতাসই আবার টানে, দক্ষতা স্থায়ীভাবে কমে যায়।
এসি নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
এই পাতায় সবচেয়ে কম দামে এসি কত?
সবচেয়ে কম দাম ৳ 33,999 — Viomi A1 1 টন স্প্লিট মডেল। ৳ 34,000-এর নিচে সাধারণত পুরনো বা আনঅফিসিয়াল ইউনিট মেলে। 1.5 টনে এখানে সর্বনিম্ন ৳ 45,900 এবং 2 টনে ৳ 59,000।
150 বর্গফুট ঘরের জন্য কত টনের এসি লাগবে?
150 বর্গফুটে নিরাপদ উত্তর 1.5 টন। 1 টনেও ঠান্ডা হবে, তবে তখনই যখন সিলিং নয় ফুটের কম, ঘর পশ্চিমমুখী নয় এবং ছাদের নিচের তলা নয়। এই তিনটির দুটি মিলে গেলে 1.5 টনেই যান।
ইনভার্টার এসিতে সত্যিই বিদ্যুৎ বিল কমে?
কমে, তবে নিয়মিত ব্যবহারেই। সাশ্রয়টা আসে কম্প্রেসর বারবার চালু না হয়ে গতি কমিয়ে চলার কারণে, আর সেটা বুঝতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা দরকার। গরমকালে রাতে ছয় ঘণ্টা চললে পার্থক্য বোঝা যাবে; সপ্তাহে দুইদিন চালালে বাড়তি দাম উঠবে না।
নতুন এসিতে স্ট্যাবিলাইজার লাগবে কি?
বর্তমানের বেশিরভাগ ইনভার্টার মডেল নিজেই ভোল্টেজ সামলায়, আলাদা স্ট্যাবিলাইজার লাগে না। নন-ইনভার্টারে সেই সুরক্ষা নেই। এলাকায় সন্ধ্যায় ভোল্টেজ স্পষ্ট কমে গেলে ইউনিটের চাহিদার চেয়ে বেশি রেটিংয়ের স্ট্যাবিলাইজার নিন এবং ওয়ারেন্টির শর্ত জেনে নিন।
IPS দিয়ে এসি চালানো যাবে?
সাধারণ ঘরোয়া IPS দিয়ে যাবে না। চালু হওয়ার সময় কম্প্রেসর স্বাভাবিকের কয়েকগুণ কারেন্ট টানে, ফলে ফ্যান-বাতির IPS ট্রিপ করে বা নষ্ট হয়। অফ-গ্রিডে চালাতে বড় পিওর সাইন ওয়েভ ইনভার্টার ও ব্যাটারি ব্যাংক লাগবে, যার খরচ সাধারণত এসির চেয়েও বেশি।
এসি লাগানোর খরচ কত এবং কী কী বাদ থাকে?
সাধারণ ইনস্টলেশনে নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের কপার পাইপ, ইনডোর ব্র্যাকেট আর দেয়ালের সাধারণ ছিদ্র ধরা থাকে। বাড়তি কপার, আউটডোর খাঁচা, কোর ড্রিলিং ও স্ট্যাবিলাইজারের খরচ আলাদা। আগেই প্রতি মিটার কপারের রেট জেনে নিন এবং এপ্রিলের আগে বুকিং দিন।
R32 না R410A — কোনটা ভালো?
সার্ভিসিংয়ের দিক থেকে R32 ভালো। এটি একক উপাদান, তাই ছোট লিকের পর টেকনিশিয়ান শুধু গ্যাস ভরে দিতে পারেন। R410A মিশ্রণ বলে পুরোটা খালি করে নতুন করে ভরতে হয়। R32 পরিবেশের জন্যও কম ক্ষতিকর, আর এই পাতার নতুন মডেলগুলোর বেশিরভাগেই R32 ব্যবহার হয়।
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আছে কিনা বুঝব কীভাবে?
ওয়ারেন্টি কার্ড আমদানিকারকের নয়, প্রস্তুতকারকের নামে আছে কি না দেখুন। মডেল কোডটি ব্র্যান্ডের বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে আছে কি না মিলিয়ে নিন এবং কোন সার্ভিস সেন্টার দাবি গ্রহণ করবে তা নিশ্চিত করুন। কম্প্রেসরে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি এখন বাজারের স্বাভাবিক মান।
এবার বেছে নিন
উপরের ফিল্টারে ঘরের মাপ অনুযায়ী টন বেছে নিন, বাজেটের সীমা বসান, তারপর দুটি মডেল পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন — ৳ 51,490-এর Haier CleanCool আর ৳ 58,000-এর Hisense DC ইনভার্টার, এই পাতার সবচেয়ে পরিষ্কার 1.5 টনের সিদ্ধান্ত। ছোট জায়গা বা বারান্দার জন্য দেখুন এয়ার কুলার অথবা শুকনো মৌসুমের ধুলোর জন্য এয়ার পিউরিফায়ার।





























