বাংলাদেশে ফ্যানের দাম: কোন বাজেটে আসলে কী পাচ্ছেন
এই পেজের ৩৩টি মডেল ধরলে বাংলাদেশে ফ্যানের দাম ৳ ৩,১০০ থেকে ৳ ৩৯,৯০০ পর্যন্ত। একই কাজ করা যন্ত্রের দামে বারো গুণ পার্থক্য দেখে অনেকেই ভাবেন, দামি ফ্যান বুঝি অনেক বেশি বাতাস দেয়।
আসলে তা নয়। পার্থক্যটা মোটরের। ৳ ৭,২০০ পর্যন্ত সব ফ্যানেই সাধারণ induction মোটর, আর ৳ ১২,০০০-এর ওপরে যেগুলো, সেগুলোতে BLDC মোটর — যা প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ টানে।
তাই প্রশ্নটা "সবচেয়ে ভালো ফ্যান কোনটা" নয়। প্রশ্নটা হলো, লোডশেডিংয়ের সময় আপনার বাসা IPS-এ চলে কি না — এই একটা তথ্যই ঠিক করে দেয় আপনার ৳ ১০,০০০-এর কোন পাশে খোঁজা উচিত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ওপরের ফিল্টার দিয়ে তালিকা ছোট করে নিন।
ফ্যানের দাম ২০২৬ — বাজেট অনুযায়ী তালিকা
নিচের চারটি ধাপ বাজারের আন্দাজ থেকে নয়, এই পেজে এখন যে দামগুলো আছে সেখান থেকেই বানানো। খেয়াল করুন, ৳ ৭,২০০ থেকে ৳ ১২,৮০০-এর মাঝে কোনো ফ্যান নেই — কারণ ঠিক ওখানেই induction মোটর শেষ হয়ে BLDC শুরু হয়।
| ধাপ | দাম | এই পেজের উদাহরণ | যা পাবেন |
|---|---|---|---|
| শুরুর ধাপ | ৳ ৩,১০০ – ৳ ৩,৭০০ | Click Crown 56 ইঞ্চি সিলিং ফ্যান ৳ ৩,১০০ | পুরো 56 ইঞ্চি সাইজ, induction মোটর, রেগুলেটর, রিমোট নেই |
| সাধারণ ধাপ | ৳ ৪,৪০০ – ৳ ৫,২০০ | Conion Signature ৪ ব্লেড সিলিং ফ্যান ৳ ৪,৪০০ | ৪ ব্লেড, ভালো ব্যালান্স, ডেকোরেটিভ ফিনিশ |
| উঁচু induction | ৳ ৬,০০০ – ৳ ৭,২০০ | Orient Orina 48 ইঞ্চি সিলিং ফ্যান ৳ ৬,০০০ | কপার ওয়াইন্ডিং, কম শব্দ, লম্বা মোটর ওয়ারেন্টি |
| BLDC ও প্রিমিয়াম | ৳ ১২,৮০০ – ৳ ৩৯,৯০০ | Orient Aeroquiet 35 W BLDC ফ্যান ৳ ১২,৮০০ | BLDC মোটর, রিমোট, প্রায় অর্ধেক ওয়াট |
তালিকার সবচেয়ে দামি ফ্যান KUHL Platin D8 1500mm BLDC — ৳ ৩৯,৯০০, আর Orient Aeroslim (আন্ডারলাইট ও অ্যাপ কন্ট্রোল) ৳ ২০,০০০। দুটোরই সাইজ 1200–1500 mm, অর্থাৎ বাড়তি টাকাটা যাচ্ছে মোটর আর ইলেকট্রনিক্সে, বাড়তি বাতাসে নয়।
কোন ধরনের ফ্যান আপনার দরকার
বেশিরভাগ পরিবারেই এক ধরনের নয়, দুই-তিন ধরনের ফ্যান লাগে। আগে ঘরের জন্য সিলিং ফ্যান ঠিক করুন, তারপর ভাবুন বিদ্যুৎ চলে গেলে কী চলবে।
সিলিং ফ্যান
৩৩টির মধ্যে ১৫টিই সিলিং ফ্যান, কারণ আমাদের ঘরগুলো সেভাবেই বানানো — উঁচু ছাদ, প্রতি ঘরে একটা হুক। 56 ইঞ্চি সাইজ প্রায় সব বেডরুম আর ড্রয়িং রুমে যথেষ্ট।
দেখুন
স্ট্যান্ড ফ্যান
ভাড়া বাসায় যেখানে ছাদে হুক লাগানো যায় না, কিংবা দোকান ও ওয়ার্কশপে যেখানে এক জায়গায় বাতাস দরকার — সেখানে এটাই ঠিক। 18 ইঞ্চি ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ড ফ্যান 16 ইঞ্চির চেয়ে অনেক বেশি বাতাস দেয়।
দেখুন
টেবিল ও চার্জার ফ্যান
চার্জার ফ্যান এখানেই পড়ে, আর এর কারণ একটাই — লোডশেডিং। 12 ইঞ্চি একটা রিচার্জেবল ফ্যান পড়ার টেবিল বা একটা বিছানা সামলাতে পারে। স্পিডের সংখ্যার আগে ব্যাটারির mAh দেখুন, ব্যাকআপ কত ঘণ্টা সেটা ওটাই ঠিক করে।
দেখুন
টাওয়ার ও ব্লেডলেস ফ্যান
দেশের বেশিরভাগ সাইটে এই ধরনটা নিয়ে কিছুই লেখা থাকে না। টাওয়ার ফ্যান লম্বা সরু ধারায় বাতাস ছাড়ে আর মেঝেতে এক টাইলের মতো জায়গা নেয় — সরু ফ্ল্যাটের জন্য ভালো। ব্লেডলেস মডেল শব্দ কম করে আর ধুলার মৌসুমে মোছা অনেক সহজ।
দেখুন
এক্সহস্ট ফ্যান
বাথরুম আর রান্নাঘরের সাইজ আলাদা। বাথরুমে 6–8 ইঞ্চি যথেষ্ট, কিন্তু যে রান্নাঘরে রোজ সরিষার তেলে ভাজা হয় সেখানে 10–12 ইঞ্চি না হলে গন্ধ পর্দাতেই থেকে যায়। বাইরের দেয়ালে প্লাস্টিকের বদলে মেটাল বডি নিন — বর্ষার আর্দ্রতায় প্লাস্টিক বেঁকে যায়।
দেখুন
ফ্যানে যখন কাজ হয় না
ফ্যান বাতাস ঘোরায়, ঘরের তাপমাত্রা কমায় না। আর্দ্রতা বেশি থাকলে ৩৪ ডিগ্রির ওপরে শুধু বাতাসে আর আরাম লাগে না।
দেখুন
রুম অনুযায়ী সিলিং ফ্যানের সাইজ
ঘরের লম্বা দেয়ালটা ফুটে মাপুন। ব্লেড ঘুরে যত চওড়া বৃত্ত বানায় সেটাই সাইজ, আর বাজারে প্রতিটা বাক্সে ওই সংখ্যাটাই লেখা থাকে।
| লম্বা দেয়াল | ফ্যানের সাইজ | সাধারণত যে ঘরে |
|---|---|---|
| ৮ ফুটের কম | 36 ইঞ্চি | স্টোর রুম, ছোট রান্নাঘর |
| ৮ – ১১ ফুট | 48 ইঞ্চি | একজনের বেডরুম, পড়ার ঘর, ছোট অফিস কেবিন |
| ১২ – ১৫ ফুট | 56 ইঞ্চি | মাস্টার বেডরুম, ড্রয়িং রুম — দেশে এটাই সবচেয়ে প্রচলিত |
| ১৫ ফুটের বেশি | দুটো ফ্যান, বা 1500 mm | লম্বা ড্রয়িং রুম, দোকান, হল ঘর |
৩ ব্লেড না ৪ ব্লেড?
৪ ব্লেড মসৃণ চলে আর শব্দ কম করে, কিন্তু প্রতি ওয়াটে বাতাস একটু কম দেয়, কারণ বাড়তি ব্লেড বাড়তি বাধা তৈরি করে। গরম বেডরুমে বিছানার ওপর জোরালো বাতাস চাইলে ৩ ব্লেডই ভালো। ঘর মাঝে মাঝে এসিতে চললে আর শুধু বাতাস ঘোরানোই দরকার হলে Conion Signature 56 ইঞ্চি ৪ ব্লেড ফ্যান-এর মতো মডেল নিন।
উঁচু ছাদ আর ডাউনরড
আমাদের অনেক ফ্ল্যাটের ছাদ ১০ ফুটেরও বেশি উঁচু, আর ১২ ফুট ছাদের সাথে সেঁটে লাগানো ফ্যানের বাতাস বিছানা পর্যন্ত ভালোভাবে পৌঁছায় না। লম্বা ডাউনরড লাগিয়ে ব্লেডগুলো মেঝে থেকে ৯ থেকে ৯.৫ ফুট উঁচুতে রাখুন, আর অর্ডারের আগে দেখে নিন মডেলটায় ডাউনরড লাগানো যায় কি না।
ফ্যানে বিদ্যুৎ খরচ কত, আর আইপিএসে কয়টা ফ্যান চলে
সাধারণ 56 ইঞ্চি induction সিলিং ফ্যান প্রায় 75 ওয়াট টানে। একই সাইজের BLDC ফ্যান টানে তার অর্ধেক — Orient Aeroquiet তো নিজের নামেই 35 W লিখে রেখেছে।
দিনে ১২ ঘণ্টা চালালে induction ফ্যানে মাসে প্রায় ২৭ ইউনিট, আর BLDC-তে প্রায় ১২.৬ ইউনিট খরচ হয়। ইউনিট ৳ ৮ ধরলে দাঁড়ায় প্রায় ৳ ২১৬ আর ৳ ১০১ — অর্থাৎ প্রতি ফ্যানে মাসে প্রায় ৳ ১১৫, বছরে প্রায় ৳ ১,৩৮০ সাশ্রয়। আপনার স্ল্যাব রেট আলাদা হবে, তাই বিলের রেট দিয়ে হিসাবটা আবার করে নিন।
BLDC ফ্যানের দাম কি উঠে আসে?
শুধু বিদ্যুৎ বিলের হিসাবে — ধীরে। ৳ ৩,১০০-এর induction ফ্যান আর ৳ ১২,৮০০-এর BLDC ফ্যানের পার্থক্য ৳ ৯,৭০০, যা বছরে ৳ ১,৩৮০ হিসেবে উঠতে প্রায় সাত বছর লাগে। এক মৌসুমেই খরচ উঠে যাবে বললে কেউ আপনাকে কিছু বিক্রি করার চেষ্টা করছে।
আসল যুক্তিটা আইপিএসের
ওয়াটের পার্থক্যটা এখানেই হাতেনাতে বোঝা যায়। 12 V 100 Ah ব্যাটারির একটা IPS-এ ব্যবহারযোগ্য শক্তি থাকে মোটামুটি ৭০০ ওয়াট-ঘণ্টা। চারটা 75 W ফ্যান একসাথে 300 W টানে, ব্যাটারি দুই ঘণ্টার একটু বেশি চলে। চারটা 35 W BLDC ফ্যান টানে 140 W, চলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। এলাকায় এখনো লম্বা লোডশেডিং হলে এই পার্থক্যটাই মাসিক সাশ্রয়ের চেয়ে বড়।
দুটো স্থানীয় কথা: ফ্যান ভোল্টেজ ওঠানামা অন্য যন্ত্রের চেয়ে ভালো সহ্য করে, আলাদা স্টেবিলাইজার লাগে না। কিন্তু ঢিলা হুক ভারী 1500 mm ফ্যানের জন্য সত্যিকারের ঝুঁকি। ওয়ারেন্টি কার্ডটাও রেখে দিন — মোটরের ওয়ারেন্টি সাধারণত এক থেকে দুই বছর, আর কেনার প্রমাণ ছাড়া সেটার কোনো দাম নেই।
ফ্যান কিনতে গিয়ে যে ৫টি ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
সাইজ না মেপে ব্লেড গোনা
৫ ব্লেডের 48 ইঞ্চি ফ্যান ৩ ব্লেডের 56 ইঞ্চিকে হারাবে না। কতটা জায়গা ঠান্ডা হবে সেটা সাইজ ঠিক করে; ব্লেডের সংখ্যা শুধু শব্দ কমায়।
আইপিএসের বাসায় ওয়াট না দেখা
সস্তা চারটা 75 W ফ্যান কিনে পরে ব্যাকআপ দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাওয়ার আফসোসই এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি। দামের আগে ওয়াট ঠিক করুন।
রান্নাঘরে ছোট এক্সহস্ট
বাথরুমের জন্য কেনা 6 ইঞ্চি ফ্যান রান্নাঘরে লাগিয়ে ধোঁয়া কখনোই বের হয় না। রান্নাঘরে 10–12 ইঞ্চি লাগে। এক্সহস্ট ফ্যানের তালিকা দামে নয়, সাইজে দেখুন।
শব্দকে স্বাভাবিক ভাবা
এক স্পিডে যে ফ্যান গুনগুন করে, তার সাধারণত ব্লেডের ব্যালান্স নষ্ট বা বেয়ারিং ক্ষয়ে গেছে। শুরুতেই ওয়ারেন্টিতে জানান।
এপ্রিলে কেনা
প্রথম তাপপ্রবাহেই চাহিদা আর দাম দুটোই লাফ দেয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে ফ্যান সবচেয়ে সস্তা, যখন কারও লাগে না।
ফিটিংয়ের কথা না ভাবা
সিলিং ফ্যান লাগানো অবস্থায় আসে না। ইলেকট্রিশিয়ানের খরচ ধরে রাখুন, আর ডেলিভারির আগে হুক ও ডাউনরড মিলছে কি না দেখে নিন।
ClickBD-তে ফ্যানের ব্র্যান্ড
নিচের তালিকা বাজারের সাধারণ র্যাঙ্কিং নয় — এই পেজে এখন যা যা আছে তার হিসাব। চারটি ব্র্যান্ডেই বেশিরভাগ মডেল, বাকিরা এক-দুটো করে।
| ব্র্যান্ড | মডেল | যেখানে ভালো | যেখানে দুর্বল |
|---|---|---|---|
| Click সিলিং ফ্যান | ৯ | কম দামে 56 ইঞ্চি ফ্যান, সারা দেশে যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় | এখানে কোনো BLDC মডেল নেই |
| Orient সিলিং ফ্যান | ৬ | ৳ ১২,৮০০ থেকে ওপরে BLDC ও স্মার্ট ফ্যান | ৳ ৬,০০০-এর নিচে কিছু নেই |
| Super Star | ৫ | পরিচিত দেশি সিলিং ও টেবিল ফ্যান | পাঁচটিই এখন স্টকে নেই |
| Vision স্ট্যান্ড ফ্যান | ৩ | মেটাল বডির স্ট্যান্ড ও এক্সহস্ট ফ্যান, শক্ত ব্যবহারের জন্য | এখানে সিলিং ফ্যান নেই |
| KUHL, Conion, PAK, Havells | ১টি করে | পুরো রেঞ্জ নয়, একেকটা শক্ত মডেল — 1500 mm সাইজটা KUHL-এর দখলে | ওই একটা মডেল শেষ হলে বিকল্প নেই |
পোর্টেবল ঠান্ডার ক্ষেত্রে নামগুলো একেবারে বদলে যায় — Xiaomi ব্লেডলেস টাওয়ার ফ্যান আর JisuLife হ্যান্ডহেল্ড মডেল অ্যাপ্লায়েন্স নয়, কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সের ঘরানার, দামও সেভাবেই।
ফ্যান কেনা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ফ্যানের দাম কত?
এই পেজের ৩৩টি মডেলে ফ্যানের দাম ৳ ৩,১০০ থেকে ৳ ৩৯,৯০০ পর্যন্ত। 56 ইঞ্চি induction সিলিং ফ্যান ৳ ৩,১০০ থেকে ৳ ৫,২০০, উঁচু ধাপের induction ফ্যান ৳ ৬,০০০ থেকে ৳ ৭,২০০, আর BLDC সিলিং ফ্যান শুরু ৳ ১২,৮০০ থেকে। টেবিল, স্ট্যান্ড, টাওয়ার ও এক্সহস্ট ফ্যান এর চেয়ে কম দামে পড়ে।
সিলিং ফ্যানে মাসে কত বিদ্যুৎ খরচ হয়?
সাধারণ 56 ইঞ্চি induction সিলিং ফ্যান প্রায় 75 ওয়াট টানে, দিনে ১২ ঘণ্টা চললে মাসে প্রায় ২৭ ইউনিট। ইউনিট ৳ ৮ ধরলে মাসে প্রায় ৳ ২১৬। একই নিয়মে 35 W BLDC ফ্যানে খরচ প্রায় ১২.৬ ইউনিট, অর্থাৎ প্রায় ৳ ১০১।
আইপিএসে সিলিং ফ্যান চলে কি?
হ্যাঁ চলে, আর কত ঘণ্টা চলবে সেটা ঠিক করে ফ্যানের ওয়াট। 12 V 100 Ah ব্যাটারির IPS-এ ব্যবহারযোগ্য শক্তি প্রায় ৭০০ ওয়াট-ঘণ্টা। চারটা 75 W ফ্যান 300 W টেনে দুই ঘণ্টার একটু বেশি চলে, আর চারটা 35 W BLDC ফ্যান 140 W টেনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলে।
BLDC ফ্যান কি বাড়তি দাম দিয়ে কেনা উচিত?
বিদ্যুৎ বিলে খরচ ওঠে ধীরে, কিন্তু ব্যাকআপে লাভ সাথে সাথেই। ৳ ৩,১০০-এর induction ফ্যান আর ৳ ১২,৮০০-এর BLDC ফ্যানের পার্থক্য শুধু বিল বাঁচিয়ে উঠতে প্রায় সাত বছর লাগে। গরমে বাসা IPS-এ চললে BLDC নিন, কারণ এতে ব্যাকআপ প্রায় দ্বিগুণ হয়।
আমার রুমের জন্য কত ইঞ্চি সিলিং ফ্যান লাগবে?
ঘরের লম্বা দেয়াল ফুটে মেপে সাইজ মেলান। ৮ ফুটের কম হলে 36 ইঞ্চি, ৮ থেকে ১১ ফুট হলে 48 ইঞ্চি, আর ১২ থেকে ১৫ ফুট হলে 56 ইঞ্চি — এ কারণেই দেশে 56 ইঞ্চি মডেলই সবচেয়ে বেশি চলে। ১৫ ফুটের বেশি লম্বা ঘরে একটা বড় ফ্যানের বদলে দুটো ফ্যান দিন।
লোডশেডিংয়ের জন্য কোন ফ্যান ভালো?
রিচার্জেবল টেবিল বা চার্জার ফ্যানই কাজের ব্যাকআপ, কারণ এটা বিদ্যুৎ ও IPS দুটোরই বাইরে চলে। স্পিডের সংখ্যা নয়, ব্যাটারির mAh দেখে বাছুন — ব্যাকআপ কত ঘণ্টা সেটা ওটাই ঠিক করে। সিলিং ফ্যান আগে থেকেই IPS-এ চললে কম ওয়াটের BLDC ফ্যান সেই ব্যাকআপ বাড়িয়ে দেয়।
টাওয়ার ফ্যান আর স্ট্যান্ড ফ্যানের পার্থক্য কী?
টাওয়ার ফ্যান সরু লম্বা বডি থেকে উঁচু সরু ধারায় বাতাস দেয়, আর স্ট্যান্ড ফ্যান উচ্চতা বদলানো মাথা থেকে বেশি চওড়া ও জোরালো বাতাস দেয়। টাওয়ার ফ্যান সরু ফ্ল্যাটে ভালো আর শব্দ কম করে; স্ট্যান্ড ফ্যান বেশি বাতাস দেয় ও দামে কম। ব্লেডলেস মডেল পরিষ্কার করা সবচেয়ে সহজ।
রান্নাঘর আর বাথরুমে কি এক্সহস্ট ফ্যান লাগে?
দুই জায়গাতেই লাগে, তবে সাইজ আলাদা। বাথরুমে 6 থেকে 8 ইঞ্চি এক্সহস্ট ফ্যানেই কাজ চলে, কিন্তু রোজ ভাজাভুজি হয় এমন রান্নাঘরে ধোঁয়া ও তেলের বাষ্প বের করতে 10 থেকে 12 ইঞ্চি লাগে। বাইরের দেয়ালে প্লাস্টিকের বদলে মেটাল বডি নিন, কারণ বর্ষার আর্দ্রতায় প্লাস্টিক দ্রুত বেঁকে যায়।
ফ্যান কেনার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটা?
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিনুন, তখন চাহিদা কমে যায় আর দোকানিরা স্টক ছাড়ে। মার্চ থেকে প্রথম তাপপ্রবাহের সাথে দাম বাড়তে থাকে আর এপ্রিল-মে-তে সর্বোচ্চে ওঠে, তখনই জনপ্রিয় 56 ইঞ্চি মডেলগুলো স্টকে থাকে না। ঈদের অফারও ছাড় পাওয়ার আরেকটা নির্ভরযোগ্য সময়।
এবার বেছে নিন
আগে ঘরের লম্বা দেয়ালটা মাপুন, তারপর ওপরের তালিকা দাম অনুযায়ী সাজিয়ে শুধু আপনার সাইজের ধাপটা দেখুন। মোটর নিয়ে দ্বিধা থাকলে ৳ ৩,১০০-এর Click Crown আর ৳ ১২,৮০০-এর Orient Aeroquiet পাশাপাশি খুলে একটাই প্রশ্নের উত্তর দিন: গরমে এই বাসা কি IPS-এ চলে?
সমস্যাটা শুধু ফ্যানের না হলে হিটিং ও কুলিং অ্যাপ্লায়েন্সের বাকি অংশে ধুলার মৌসুম আর ছোট শীতের সমাধানও আছে।





























