পাওয়ার ব্যাংক দাম বাংলাদেশ: আগে ঠিক করুন কত mAh লাগবে
এই পেজে পাওয়ার ব্যাংক দাম ৳ ১,১৯৯ থেকে ৳ ৭,৯৯০ পর্যন্ত। এই পার্থক্যের বেশিরভাগটাই ব্র্যান্ডের নাম নয় — এটা ক্যাপাসিটি, চার্জিং স্পিড আর ম্যাগনেটিক সাপোর্টের হিসাব।
উপরের ৫০টি মডেলের মধ্যে ৪০টিই 10000mAh, ৯টি 20000mAh, আর মাত্র একটি 30000mAh। তাই প্রথম ফিল্টারটা ক্যাপাসিটি দিয়েই শুরু করুন, কারণ দাম আর ওজন — দুটোই এখান থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
হিসাব করুন কত সময় আপনি বিদ্যুৎ ছাড়া থাকবেন। যদি উত্তর হয় এক দিন, তাহলে 10000mAh-তেই থামুন আর বাড়তি টাকাটা ওয়াটের পেছনে খরচ করুন।
পাওয়ার ব্যাংক এর দাম ২০২৬ — বাজেট অনুযায়ী
নিচের চারটি ধাপ উপরের ৫০টি পাওয়ার ব্যাংকের আসল দামের হিসাব থেকে করা। প্রতিটি ধাপে এখন যে মডেলটি পাওয়া যাচ্ছে, সেটির নামও দেওয়া আছে।
| ধাপ | দামের সীমা | কী পাবেন | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| শুরুর ধাপ | ৳ ১,১৯৯ – ৳ ১,৯৯৯ | 10000mAh, 15W–22.5W, একটি USB-A ও একটি Type-C | Havit PB90 10000mAh 22.5W পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ১,৪০০ |
| মাঝারি | ৳ ২,০০০ – ৳ ২,৪৯৯ | 20W–25W এর 10000mAh, অথবা প্রথম 20000mAh | Bwoo BO-P71 20000mAh ফাস্ট চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ২,২২০ |
| উঁচু-মাঝারি | ৳ ২,৫০০ – ৳ ৩,১৯৯ | 30W আউটপুট, ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস, বিল্ট-ইন ক্যাবল | Joyroom JR-PBC06 30W মিনি পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ২,৭৯৯ |
| প্রিমিয়াম | ৳ ৩,২০০ – ৳ ৭,৯৯০ | 30000mAh, 65W ল্যাপটপ চার্জিং, ব্র্যান্ডেড ম্যাগনেটিক | Riversong Phantom Pro 65W 20000mAh পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ৩,৯৯৯ |
দুটি কথা টেবিলে ধরা পড়ে না। ক্যাপাসিটি বাড়লে দাম যত বাড়বে ভাবছেন, ততটা বাড়ে না — সবচেয়ে সস্তা 20000mAh এর দাম ৳ ২,২২০, যা একটা ভালো 10000mAh থেকে সামান্যই বেশি। আর এই মুহূর্তে 30000mAh এর একটিমাত্র অপশন আছে, Hoco Astute 30000mAh 22.5W পাওয়ার ব্যাংক, দাম ৳ ৩,২০০।
10000mAh পাওয়ার ব্যাংক থেকে পুরো 10000mAh কেন পাওয়া যায় না
বাক্সের গায়ে লেখা সংখ্যাটি ভেতরের সেলের হিসাব, যা চলে প্রায় 3.7 ভোল্টে। আপনার ফোন চার্জ নেয় 5 ভোল্ট বা তার বেশিতে। এই রূপান্তরে শক্তি খরচ হয়, সঙ্গে গরম আর সার্কিটের ক্ষতি তো আছেই।
বাস্তবে একটি 10000mAh পাওয়ার ব্যাংক ফোনে পৌঁছে দেয় প্রায় 6000 থেকে 6500mAh। ৫০০০mAh ব্যাটারির একটি ফোনে এর মানে একবার পুরো চার্জ আর দ্বিতীয়বারের বেশিরভাগ — লেবেল দেখে যে দুইবার মনে হয়, তা নয়।
সত্যিকারের হিসাবটা Wh বা ওয়াট-আওয়ারে। 10000mAh মানে প্রায় 37Wh, আর 20000mAh মানে প্রায় 74Wh। এই সংখ্যাটি পাওয়ার ব্যাংকের নিচের দিকে ছাপা থাকে, এয়ারলাইন এটাই দেখে, আর দুটি পাওয়ার ব্যাংক ন্যায্যভাবে তুলনা করার একমাত্র উপায়ও এটাই।
ফাস্ট চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক: ওয়াট, পোর্ট আর ম্যাগনেট
ক্যাপাসিটি ঠিক হয়ে গেলে এরপর দেখার বিষয় আউটপুট ওয়াট। উপরের প্রতিটি মডেলের নামেই ওয়াট লেখা আছে, তাই ফিল্টার করা সহজ।
15W–22.5W: বেশিরভাগের জন্য
তালিকার বেশিরভাগ মডেল এই ধাপে। যে ফোন দেয়ালের চার্জারে 18W–25W নেয়, তার জন্য যথেষ্ট। আধা ঘণ্টায় ৫০০০mAh ব্যাটারির অর্ধেক ভরে যাবে।
পরামর্শ
Hoco J105 22.5W 10000mAh পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ১,৯৭৯
25W–30W: বড় ব্যাটারির ফোনে
আপনার ফোনের সঙ্গে যদি 30W বা তার বেশি চার্জার এসে থাকে, তবেই বাড়তি দাম যুক্তিসঙ্গত। না হলে বাড়তি ওয়াট অব্যবহৃতই থেকে যায়।
পরামর্শ
PD না QC — কোনটা আপনার
PD চলে USB-C দিয়ে, iPhone আর নতুন Android ফ্ল্যাগশিপে। QC চলে USB-A দিয়ে, পুরোনো Snapdragon ফোনে। দুটোই আছে এমন পাওয়ার ব্যাংক নিলে ঝামেলা থাকে না।
পরামর্শ
USAMS 20000mAh PD20W ও QC3.0 ডুয়াল পোর্ট পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ২,৫০০
65W: ল্যাপটপ চালানোর জন্য
USB-C দিয়ে 45W বা তার বেশি দিলে বেশিরভাগ আল্ট্রাবুক চার্জ হবে। ৳ ৩,৫০০ এর বেশি খরচ করার এটাই একমাত্র বাস্তব কারণ, আর এটি বাংলাদেশে ল্যাপটপ এর সঙ্গে ভালো যায়।
পরামর্শ
Riversong Phantom Pro PB103 65W পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ৩,৯৯৯
ম্যাগনেটিক ও ওয়্যারলেস
এখানে ১৪টি মডেল ম্যাগনেটিক বা ওয়্যারলেস চার্জ করে। ক্যাবলের চেয়ে ধীর, আর ভালোভাবে আটকায় শুধু iPhone 12 বা পরের মডেলে, কিংবা MagSafe কেস পরানো Android ফোনে।
পরামর্শ
WiWU Wi-P041 22.5W ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ২,৮০০
পোর্ট আর বিল্ট-ইন ক্যাবল
দুটি আউটপুট থাকলে ফোন ও ইয়ারবাড একসঙ্গে চার্জ দেওয়া যায়, তবে ওয়াট ভাগ হয়ে যায়। বিল্ট-ইন ক্যাবল সুবিধাজনক, কিন্তু আগে নষ্ট হয় — তাই ডেটা ক্যাবল একটা হাতে রাখুন।
পরামর্শ
Anker Zolo 10000mAh বিল্ট-ইন Type-C ক্যাবল পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ৩,৪৭০
বাংলাদেশে পাওয়ার ব্যাংক ব্র্যান্ড — কোনটা কীসের জন্য
এই টেবিল উপরের তালিকায় আসলে যা আছে তারই হিসাব, প্রতিটি ব্র্যান্ডের মডেল সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো। কোনো ব্র্যান্ডই সব দিকে সেরা নয়, আর সস্তা মানেই খারাপ নয়।
| ব্র্যান্ড | মডেল সংখ্যা | কাদের জন্য |
|---|---|---|
| Bwoo পাওয়ার ব্যাংক | ৮ | মাঝারি দামে ম্যাগনেটিক ও MagSafe ধরনের মডেল |
| Baseus পাওয়ার ব্যাংক দাম | ৬ | ৳ ১,৬৭৫ থেকে ডিজিটাল ডিসপ্লের 10000mAh |
| Joyroom পাওয়ার ব্যাংক | ৬ | একাধিক পোর্ট ও বিল্ট-ইন ক্যাবলের ডিজাইন |
| Adata পাওয়ার ব্যাংক | ৪ | সাদামাটা কিন্তু মজবুত 20000mAh |
| Awei পাওয়ার ব্যাংক | ৪ | সবচেয়ে কম দামে শুরু করার জায়গা |
| Hoco পাওয়ার ব্যাংক | ৪ | এখন একমাত্র 30000mAh অপশন এখানেই |
| Anker পাওয়ার ব্যাংক দাম | ৩ | সবচেয়ে ভালো ওয়ারেন্টি সাপোর্ট, দামও বেশি |
| Havit পাওয়ার ব্যাংক | ৩ | কম দামে ম্যাগনেটিক ও ডিজিটাল ডিসপ্লে |
WiWU, Ugreen, Zendure, Riversong, USAMS, Blisbond, Borofone ও VyVylabs এর এক থেকে তিনটি করে মডেল আছে, বেশিরভাগই উপরের ধাপে। স্পেসিফিকেশনের চেয়ে ব্র্যান্ড বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে গ্রিড না ঘেঁটে সরাসরি ব্র্যান্ড পেজ থেকে শুরু করুন।
কম দামে পাওয়ার ব্যাংক: বাজেট অনুযায়ী পছন্দ
৳ ২,০০০ এর নিচে
৳ ১,১৯৯ – ৳ ১,৯৯৯
- Awei P20K 10000mAh স্লিম পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ১,১৯৯
- Baseus Bipow 10000mAh ডিজিটাল ডিসপ্লে — ৳ ১,৬৭৫
- 2.4A বা 15W আউটপুট, ম্যাগনেট নেই, প্লাস্টিক বডি
প্রায় ৳ ২,৪০০
৳ ২,০০০ – ৳ ২,৪৯৯
- Adata C20 20000mAh 15W পাওয়ার ব্যাংক — ৳ ২,৩৯০
- ছাত্রছাত্রী ও দূরের যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে মানানসই
- এখানে ক্যাপাসিটি বাড়ে, ওয়াট সাধারণত বাড়ে না
প্রায় ৳ ৩,০০০
৳ ২,৫০০ – ৳ ৩,১৯৯
- Zendure Super Mini 10000mAh 20W PD — ৳ ৩,১০০
- Hoco Astute 30000mAh — ৳ ৩,২০০
- এই ধাপ থেকেই ম্যাগনেটিক চার্জিং সহজলভ্য
৳ ৩,২০০ এর উপরে
৳ ৩,২০০ – ৳ ৭,৯৯০
- Joyroom JR-PBF02 20000mAh 30W তিন পোর্ট — ৳ ৩,২৯৯
- Ugreen PB561 20W ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস — ৳ ৩,৬০০
- এখানে টাকা যায় ওয়াট আর ওয়ারেন্টির পেছনে, ক্যাপাসিটির নয়
পাওয়ার ব্যাংক কিনতে গিয়ে যে পাঁচটি ভুলে টাকা নষ্ট হয়
ওয়াট বাদ দিয়ে শুধু mAh দেখা
10W এর 20000mAh, 30W এর 10000mAh থেকে ধীরে চার্জ দেবে। mAh ঠিক করে কতবার চার্জ দেবে, ওয়াট ঠিক করে কত সময় লাগবে।
নকল চিনতে না পারা
আসল 20000mAh পাওয়ার ব্যাংকের ওজন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রাম। হালকা লাগলে, কিংবা দাম এখানকার সবচেয়ে সস্তা 20000mAh ৳ ২,২২০ এর অনেক নিচে হলে ভেতরের সেল লেবেলের সঙ্গে মেলে না।
প্রোটেকশন সার্কিট না দেখা
ওভার-চার্জ, ওভার-ডিসচার্জ ও শর্ট-সার্কিট প্রোটেকশন উপরের ব্র্যান্ডেড মডেলগুলোতে থাকে, খোলা বাজারের নামহীন পণ্যে থাকে না। ছোট গোলমাল আগুনে গড়াবে কি না, এটাই ঠিক করে।
ভুল ফোনে ম্যাগনেটিক কেনা
ম্যাগনেটিক পাওয়ার ব্যাংক আটকায় iPhone 12 ও পরের মডেলে। বেশিরভাগ Android ফোনে মেটাল রিং বা উপযুক্ত কেস ছাড়া খুলে পড়ে যায়, আর তখনও চার্জিং ধীর।
ফ্রি পাওয়া ক্যাবল ব্যবহার
30W পাওয়ার ব্যাংকের সঙ্গে 2A ক্যাবল লাগালে পাবেন প্রায় 10W। ক্যাবলের রেটিং দেখে নিন, বা চার্জার ও চার্জিং অ্যাকসেসরিজ থেকে একটা নিন।
পাসথ্রু চার্জিং ধরে নেওয়া
পাসথ্রু মানে পাওয়ার ব্যাংক নিজে চার্জ হতে হতেই ফোন চার্জ দেওয়া। অনেক মডেলে এটি নেই, আর জোর করে করলে দুটো ব্যাটারিই গরম হয়।
লোডশেডিং, ওয়ারেন্টি আর বিমানযাত্রা
লোডশেডিং
আপনার এলাকায় লোডশেডিং দুই-তিন ঘণ্টা হলে 10000mAh যথেষ্ট। এর বেশি হলে বা দিনে কয়েকবার হলে অন্তত দুটি আউটপুট পোর্টসহ 20000mAh নিন, যাতে একটি ফোন চার্জ হওয়ার সময় আরেকটি আটকে না থাকে। পাওয়ার ব্যাংকটি রাতে চার্জ দিন, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে নয়।
ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস
বাংলাদেশে পাওয়ার ব্যাংকের ওয়ারেন্টি সাধারণত ছয় থেকে আঠারো মাস, আর দেয় স্থানীয় পরিবেশক, প্রস্তুতকারক নয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে Anker এবং Ugreen এর সার্ভিস সবচেয়ে বিস্তৃত; ছোট ব্র্যান্ডের দায়িত্ব বিক্রেতার। বক্স ও ইনভয়েস রেখে দিন — এগুলো ছাড়া বেশিরভাগ ক্লেইম বাতিল হয়।
বিমান, গরম ও সংরক্ষণ
ঢাকা থেকে ছাড়া ফ্লাইটে 100Wh পর্যন্ত পাওয়ার ব্যাংক শুধু হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া যায়, যার মধ্যে এই পেজের সব মডেলই পড়ে। লাগেজে কখনও দেবেন না। বর্ষায় শুকনো জায়গায় রাখুন, পার্ক করা গাড়িতে রেখে যাবেন না — ৪০ ডিগ্রির বেশি টানা গরমে সেলের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে প্রতি তিন মাসে অর্ধেক পর্যন্ত চার্জ দিয়ে রাখুন।
বেশি দামের অর্ডারে EMI পাওয়া যায়, যা মূলত প্রিমিয়াম ধাপেই কাজে লাগে; ৳ ২,০০০ এর পাওয়ার ব্যাংকে এর মানে নেই। গাড়িতে ব্যবহারের জন্য মোবাইল কার অ্যাকসেসরিজ থেকে 12V অ্যাডাপ্টার নেওয়াই সাশ্রয়ী।
পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
পাওয়ার ব্যাংক এর দাম কত?
বাংলাদেশে পাওয়ার ব্যাংক এর দাম ৳ ১,১৯৯ থেকে ৳ ৭,৯৯০, এই পেজের ৫০টি মডেল ধরে। শুরুর ধাপের 10000mAh পড়ে ৳ ১,১৯৯ থেকে ৳ ১,৯৯৯ এর মধ্যে, 20000mAh শুরু ৳ ২,২২০ থেকে, আর একমাত্র 30000mAh মডেলটির দাম ৳ ৩,২০০। দাম নির্ভর করে ক্যাপাসিটি, ওয়াট আর ম্যাগনেটিক সাপোর্টের উপর।
10000mAh পাওয়ার ব্যাংকে ফোন কতবার চার্জ হবে?
10000mAh পাওয়ার ব্যাংকে বেশিরভাগ ফোন দেড় থেকে দুইবার পুরো চার্জ হয়। ভোল্টেজ রূপান্তর আর গরমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শক্তি খরচ হয়ে যায়, ফলে ফোনে পৌঁছায় প্রায় 6000 থেকে 6500mAh। ৫০০০mAh ব্যাটারির ফোনে এর মানে একবার পুরো চার্জ, সঙ্গে দ্বিতীয়বারের বড় অংশ।
20000mAh পাওয়ার ব্যাংক কি বাড়তি টাকার যোগ্য?
দুই দিন বা তার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছাড়া থাকলে 20000mAh নেওয়াই ঠিক। এখানে সবচেয়ে সস্তা 20000mAh এর দাম ৳ ২,২২০, আর সবচেয়ে সস্তা 10000mAh ৳ ১,১৯৯ — অর্থাৎ হাজার টাকার মতো বাড়তিতে ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ। বিনিময়ে ওজন বাড়ে প্রায় ৪০০ গ্রামে, আর নিজে চার্জ হতে সময় বেশি লাগে।
বিমানে পাওয়ার ব্যাংক নেওয়া যাবে কি?
হ্যাঁ, তবে শুধু হ্যান্ড লাগেজে এবং 100Wh এর নিচে হতে হবে। 20000mAh মানে প্রায় 74Wh আর 30000mAh মানে প্রায় 111Wh, তাই সবচেয়ে বড় মডেলগুলো গেটে আটকে যেতে পারে। চেক-ইন লাগেজে কখনোই দেওয়া যাবে না। Wh সংখ্যাটি যেন ক্রু দেখতে পান, সেভাবে রাখুন।
PD আর QC ফাস্ট চার্জিংয়ের পার্থক্য কী?
PD হলো USB-C এর স্ট্যান্ডার্ড আর QC হলো Qualcomm এর, যা চলে USB-A দিয়ে। PD দিয়ে iPhone ও নতুন Android ফ্ল্যাগশিপ চার্জ হয়; QC মানানসই পুরোনো Snapdragon ফোনে। ফোনের বক্সে কোন চার্জার এসেছিল দেখে নিন, নয়তো ৳ ২,৫০০ এর USAMS 20000mAh এর মতো দুটোই সাপোর্ট করা মডেল নিন।
লোডশেডিংয়ের জন্য কোন পাওয়ার ব্যাংক ভালো?
লোডশেডিংয়ের জন্য দুই বা তার বেশি আউটপুট পোর্টসহ 20000mAh পাওয়ার ব্যাংক সবচেয়ে ভালো। এটি দুটি ফোনে কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামলে দেয়, নিজে আবার চার্জ না দিয়েই। এই দুটি শর্ত পূরণ করে সবচেয়ে কম দামে আছে ৳ ২,২২০ এর Bwoo BO-P71 20000mAh। রাতেই চার্জ দিয়ে রাখুন।
পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে কি ল্যাপটপ চার্জ হয়?
হ্যাঁ, যদি USB-C Power Delivery দিয়ে অন্তত 45W দেয়। বেশিরভাগ আল্ট্রাবুক 45W থেকে 65W এ চার্জ নেয়, তাই ৳ ৩,৯৯৯ এর Riversong Phantom Pro এর মতো 65W মডেল কাজ করবে। কম ওয়াটের পাওয়ার ব্যাংক ব্যাটারি কমার গতি ধীর করবে, কিন্তু ব্যবহারের সময় চার্জ ভরবে না।
ম্যাগনেটিক পাওয়ার ব্যাংক কি Android ফোনে কাজ করে?
ম্যাগনেটিক পাওয়ার ব্যাংক Android ফোনে আটকায় শুধু মেটাল রিং বা MagSafe উপযোগী কেস থাকলে। ম্যাগনেট সাজানো হয় iPhone 12 ও পরের মডেলের জন্য। এই দুটোর কোনোটি না থাকলে খুলে পড়ে যাবে, আর আটকে থাকলেও ওয়্যারলেস চার্জিং চলে 15W বা তার কমে, যেখানে ক্যাবলে 22.5W বা বেশি।
একটি পাওয়ার ব্যাংক কত দিন চলে?
বেশিরভাগ পাওয়ার ব্যাংক প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ চার্জ সাইকেল পর্যন্ত কার্যকর ক্ষমতা ধরে রাখে, অর্থাৎ নিয়মিত ব্যবহারে দুই থেকে তিন বছর। প্রথম লক্ষণ হলো চার্জ হতে বেশি সময় লাগা আর কম বার ফোন ভরা। গরমে এই আয়ু অনেক কমে, তাই গাড়িতে ফেলে রাখা পাওয়ার ব্যাংক দ্রুত নষ্ট হয়।
আসল পাওয়ার ব্যাংক চেনার উপায় কী?
লেখা ক্যাপাসিটির সঙ্গে ওজন আর দাম মিলিয়ে দেখুন। আসল 20000mAh পাওয়ার ব্যাংকের ওজন ৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রাম এবং দাম বাংলাদেশে অন্তত ৳ ২,২২০। নকল পণ্য হালকা লাগে, Wh রেটিং লেখা থাকে না, আর মডেল নম্বর খুঁজে পাওয়া যায় না। ব্র্যান্ড, মডেল ও ওয়াট স্পষ্ট লেখা আছে এমন লিস্টিং থেকে কিনুন।
এবার বেছে নিন
উপরে আগে ক্যাপাসিটি ফিল্টার দিন, তারপর দাম অনুযায়ী সাজিয়ে প্রতিটি নামের ভেতরের ওয়াট দেখে নিন। দুটি তুলনাতেই বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত হয়ে যায়: সস্তায় কাজ চালানোর জন্য ৳ ১,১৯৯ এর Awei P20K বনাম ৳ ১,৪০০ এর Havit PB90, আর 20000mAh এর জন্য ৳ ২,২২০ এর Bwoo BO-P71 বনাম ৳ ২,৩৯০ এর Adata C20। ব্র্যান্ড আগে থেকে ঠিক থাকলে সরাসরি ব্র্যান্ড পেজে যান, অথবা মোবাইল অ্যাকসেসরিজ ও মোবাইল ফোন দেখে হ্যান্ডসেটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।





























