মনিটরের দাম কত — এখনকার বাজার
উপরের ১২১টি লিস্টিংয়ে মনিটরের দাম বাংলাদেশে শুরু ৳ ৮,৫০০ থেকে, আর সবচেয়ে দামি মডেলটি ৳ ৩,০১,৫০০। বেশিরভাগ ক্রেতা আসলে ৳ ১৫,০০০ থেকে ৳ ৩০,০০০ এর মধ্যেই কেনেন।
সিদ্ধান্তটা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই একই জায়গায় আটকায় — বাড়তি ৬ হাজার টাকা বড় স্ক্রিনে দেবেন, নাকি দ্রুত প্যানেলে, নাকি বেশি রেজোলিউশনে। এক দামে তিনটাই পাওয়া যায় না। এই পাতায় ঠিক সেটাই পরিষ্কার করা হয়েছে — আপনার কাজের ধরনে কোনটার পেছনে টাকা দেওয়া যুক্তিসঙ্গত, আর কোনটা বাদ দিলে কিছুই হারাবেন না।
বাজেট অনুযায়ী মনিটরের দাম
পুরো ক্যাটালগটি পাঁচটি ভাগে ফেলা যায়। আপনার বাজেটের সারিটি দেখে নিয়ে উপরের সাইজ ও প্যানেল ফিল্টার দিয়ে আরও ছোট করে নিন।
| দামের সীমা | ধরন | কাদের জন্য | উদাহরণ | দাম |
|---|---|---|---|---|
| ৳ ৮,৫০০ – ৳ ১৪,৯৯৯ | এন্ট্রি | দোকানের কাউন্টার, CCTV, ছাত্রছাত্রীর প্রথম ডেস্ক | LG 22MP400-B ২২ ইঞ্চি Full HD মনিটর | ৳ ১০,৯৬০ |
| ৳ ১৫,০০০ – ৳ ২৪,৯৯৯ | প্রতিদিনের ব্যবহার | অফিস, পড়াশোনা, স্প্রেডশিট, হালকা গেমিং | ViewSonic VA2732A-H ২৭ ইঞ্চি 120Hz IPS | ৳ ২১,৫৯৯ |
| ৳ ২৫,০০০ – ৳ ৪৯,৯৯৯ | গেমিং ও ক্রিয়েটিভ | হাই রিফ্রেশ রেট, কার্ভড, প্রথম 4K প্যানেল | ViewSonic Omni VX2758A-2K-PRO ২৭ ইঞ্চি 240Hz QHD | ৳ ৪৩,২০০ |
| ৳ ৫০,০০০ – ৳ ৯৯,৯৯৯ | হাই-এন্ড | আল্ট্রাওয়াইড, ৩২ ইঞ্চি 4K, ক্যালিব্রেটেড কালার | ViewSonic VP2756-4K ২৭ ইঞ্চি 4K UHD IPS | ৳ ৭৭,৪০০ |
| ৳ ১,০০,০০০ এর উপরে | প্রফেশনাল | স্টুডিও কালার গ্রেডিং, OLED, 5K রেফারেন্স প্যানেল | LG 27EP950-B UltraFine OLED Pro 4K | ৳ ৩,০১,৫০০ |
কোন স্পেসিফিকেশন আসলে দাম বদলে দেয়
দাম বাড়ায় মূলত ছয়টি জিনিস। এগুলো ঠিক না করা পর্যন্ত স্পেক শিটের বাকি সব লেখা অপ্রয়োজনীয়।
স্ক্রিন সাইজ ও চোখের দূরত্ব
চোখ থেকে স্ক্রিনের দূরত্ব মেপে নিন। ৬০ সেন্টিমিটারের কম হলে ২২ ইঞ্চি আরামদায়ক, ২৭ ইঞ্চি বেশি কাছে লাগবে। সাধারণ টেবিলে, অর্থাৎ ৬০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটারে, ২৪ ইঞ্চিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। টেবিল গভীর হলে ২৭ ইঞ্চি দামের যোগ্য, আর ৩২ ইঞ্চির জন্য প্রায় এক মিটার দূরত্ব ও 4K রেজোলিউশন দুটোই দরকার।
পছন্দের মডেল
রেজোলিউশন — Full HD, 2K না 4K
২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত Full HD যথেষ্ট। ২৭ ইঞ্চিতে Full HD একটু ঘোলা দেখায়, তাই সেখানে 2K QHD ধরাই বাস্তবসম্মত। 4K দরকার ৩২ ইঞ্চি বা তার বড় স্ক্রিনে, অথবা ২৭ ইঞ্চিতে যদি সারাদিন ছবি এডিট বা কোড পড়েন। ২৪ ইঞ্চির জন্য 4K কেনা মানে টাকা দিয়ে এমন কিছু কেনা যা চোখে ধরা পড়বে না।
পছন্দের মডেল
প্যানেল টাইপ — IPS, VA, TN, OLED
IPS যেকোনো কোণ থেকে রং ঠিক রাখে, তাই মিশ্র কাজের জন্য এটিই নিরাপদ পছন্দ। VA-তে কালো রং গাঢ় হয়, অন্ধকার ঘরে সিনেমা দেখার জন্য ভালো, তবে দ্রুত দৃশ্যে সামান্য দাগ পড়ে। TN সস্তা ও দ্রুত, কিন্তু পাশ থেকে দেখলে রং ফ্যাকাশে। OLED-এর ছবি সবচেয়ে ভালো, তবে স্থির ডেস্কটপ ছবি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা লাগে।
পছন্দের মডেল
HP M22f ২১.৫ ইঞ্চি Full HD IPS প্যানেল মনিটর — ৳ ১৫,৬০০
রিফ্রেশ রেট ও রেসপন্স টাইম
এখন ১০০Hz থেকে ১২০Hz-ই স্বাভাবিক শুরু, আর ৬০Hz থেকে এই লাফটা শুধু পাতা স্ক্রল করলেও বোঝা যায়। ১৪৪Hz থেকে ১৮০Hz সেই জায়গা যেখানে প্রতিযোগিতামূলক শুটিং গেম আলাদা লাগে। ২৪০Hz-এর উপরে গেলে আপনি শেষ কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য টাকা দিচ্ছেন। রেসপন্স টাইম ৫ ms বা তার কম হলেই esports ছাড়া বাকি সব কাজে যথেষ্ট।
পছন্দের মডেল
ViewSonic VA24G1-H ২৪ ইঞ্চি 144Hz IPS গেমিং মনিটর — ৳ ১৭,৭০০
পোর্ট, ক্যাবল ও আপনার পিসির সীমা
এখানেই টাকা দিয়ে কেনা স্পেসিফিকেশন চুপচাপ নষ্ট হয়। HDMI 1.4 দিয়ে 1080p-তে সর্বোচ্চ ১২০Hz আর 4K-তে মাত্র ৩০Hz পাওয়া যায়, তাই ১৪৪Hz বা 4K 60Hz চাইলে HDMI 2.0 অথবা DisplayPort লাগবে। ল্যাপটপ থেকে এক তারে মনিটর চালাতে হলে সেই USB-C পোর্টে DisplayPort Alt Mode থাকতে হবে — এটা মনিটরের নয়, ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশনে দেখুন।
পছন্দের মডেল
Asus ZenScreen MB169CK ১৬ ইঞ্চি USB-C পোর্টেবল মনিটর — ৳ ২৪,৪০০
চোখের জন্য ভালো মনিটর
দিনে ছয় ঘণ্টার বেশি ডেস্কে থাকলে flicker-free ব্যাকলাইট ও low blue light মোড কাজে দেয়। তবে ঢাকার উজ্জ্বল ঘরে anti-glare ম্যাট কোটিং এই দুটোর চেয়েও বেশি জরুরি। সবচেয়ে অবহেলিত সুবিধাটি হলো উচ্চতা সমন্বয় — স্ক্রিন নিচে থাকলে সারাদিন ঘাড় ঝুঁকে থাকে, আর শুধু tilt করা স্ট্যান্ড দিয়ে সেটা ঠিক করা যায় না।
পছন্দের মডেল
Asus VU249HFI-W ২৪ ইঞ্চি Eye Care IPS মনিটর — ৳ ২৪,২০০
কোন ব্র্যান্ডের মনিটর কিনবেন
এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বড় সংগ্রহ তিনটি ব্র্যান্ডের — LG, Asus ও ViewSonic — এবং এরা মিলিয়ে প্রায় সব বাজেট ঢেকে দেয়। বাকিগুলো নির্দিষ্ট কারণে বেছে নেওয়া ভালো। কোনো ব্র্যান্ডই সব দিকে সেরা নয়, তাই ব্যাজ দেখে নয়, প্রয়োজন দেখে বাছুন।
| ব্র্যান্ড | কোথায় শক্তিশালী | যা খেয়াল রাখবেন |
|---|---|---|
| LG মনিটর বাংলাদেশ | সবচেয়ে বিস্তৃত পরিসর — ১৫ হাজারের নিচের অফিস প্যানেল থেকে UltraGear গেমিং ও UltraFine OLED Pro পর্যন্ত | পুরোনো MK ও MP সিরিজও তালিকায় আছে; শুধু দাম নয়, রিফ্রেশ রেট দেখে নিন |
| Asus গেমিং ও ProArt মনিটর | কম দামে হাই রিফ্রেশের জন্য TUF, কালার কাজের জন্য ProArt, পোর্টেবলের জন্য ZenScreen | মডেল নম্বর কাছাকাছি; VA249 আর VA279 আলাদা প্রজন্ম নয়, শুধু আলাদা সাইজ |
| ViewSonic IPS ও ColorPro ডিসপ্লে | ৳ ১৪,০০০–৩০,০০০ সীমায় প্রতি হার্টজে সবচেয়ে ভালো মূল্য, সঙ্গে ক্যালিব্রেটেড ColorPro | VA, VX ও VP সিরিজ নাম কাছাকাছি হলেও একেবারে আলাদা ক্রেতার জন্য |
| Dell বিজনেস মনিটর ও HP অফিস ডিসপ্লে | উচ্চতা সমন্বয়যোগ্য স্ট্যান্ড, দীর্ঘ প্রোডাক্ট লাইফসাইকেল, অফিস কেনাকাটায় সুবিধা | বাড়তি দামটা স্ট্যান্ড ও বিল্ড কোয়ালিটির জন্য, গতির জন্য নয় |
| Gigabyte গেমিং মনিটর ও MSI কার্ভড ডিসপ্লে | কম দামে কার্ভড ও হাই রিফ্রেশ গেমিং প্যানেল | স্ট্যান্ড সাধারণত শুধু tilt; উচ্চতা চাইলে আলাদা আর্মের বাজেট রাখুন |
| Acer সাশ্রয়ী মনিটর ও Philips ডিসপ্লে | দামের সর্বনিম্ন সীমা ধরে রাখে Acer; 4K ও আল্ট্রাওয়াইড বিজনেস প্যানেলে শক্তিশালী Philips | সবচেয়ে সস্তা Acer মডেলগুলো HD, Full HD নয় — রেজোলিউশন দুইবার দেখে নিন |
কম দামে ভালো মনিটর — বাজেট অনুযায়ী পছন্দ
চারটি বাজেট, প্রতিটিতে বাস্তবে কী পাওয়া যায় এবং উপরের তালিকা থেকে সরাসরি মডেল।
সীমিত বাজেট
৳ ৮,৫০০ – ৳ ১২,০০০
- ১৮.৫ থেকে ২২ ইঞ্চি, HD বা Full HD, ৬০–৭৫Hz
- দোকানের কাউন্টার, CCTV বা দ্বিতীয় স্ক্রিনের জন্য উপযুক্ত
- Acer KA222Q ২১.৫ ইঞ্চি Full HD মনিটর — ৳ ৯,৫০০
- Realview RV215GW ২২ ইঞ্চি 100Hz IPS — ৳ ১১,০০০
ছাত্র ও হোম অফিস
৳ ১২,০০০ – ৳ ২০,০০০
- ২৪ ইঞ্চি Full HD IPS, ১০০–১৪৪Hz — ক্যাটালগের সবচেয়ে লাভজনক ধাপ
- স্পষ্ট লেখা, সঠিক রং, আট ঘণ্টা কাজেও আরামদায়ক
- MSI Pro MP251 ২৪.৫ ইঞ্চি 100Hz IPS — ৳ ১৯,৬৯০
- Asus TUF VG249Q5R ২৩.৮ ইঞ্চি 200Hz — ৳ ২০,৯০০
সিরিয়াস গেমিং
৳ ২৫,০০০ – ৳ ৪৫,০০০
- ২৭ ইঞ্চি, ১৬৫–২৪০Hz, কার্ভড অথবা 2K QHD
- গ্রাফিক্স কার্ড ফ্রেম রেট ধরে রাখতে পারলেই কেবল যুক্তিসঙ্গত
- Gigabyte GS27FC ২৭ ইঞ্চি 180Hz কার্ভড মনিটর — ৳ ২৯,৪০০
- ViewSonic VX2719-PC-MHD ২৭ ইঞ্চি 240Hz কার্ভড — ৳ ৩২,০০০
ক্রিয়েটিভ ও প্রফেশনাল
৳ ৫০,০০০ এর উপরে
- ক্যালিব্রেটেড কালার, 4K, আল্ট্রাওয়াইড বা OLED
- ফ্রেম রেট নয়, নির্ভুলতা ও কাজের জায়গার জন্য কিনুন
- Asus ProArt PA278QGV ২৭ ইঞ্চি 2K QHD প্রফেশনাল মনিটর — ৳ ৫০,৯০০
- ViewSonic VX3418C-2K ৩৪ ইঞ্চি UWQHD আল্ট্রাওয়াইড — ৳ ৫৬,৫০০
বাংলাদেশে মনিটর কেনার আগে যা জানা দরকার
এই অংশটুকু বিদেশি কোনো বায়িং গাইডে পাবেন না, অথচ তিন বছর পর মনিটরটি চালু থাকবে কি না তা অনেকটাই এর উপর নির্ভর করে।
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি বনাম দোকানের ওয়ারেন্টি
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি মানে ব্র্যান্ডের অনুমোদিত পরিবেশক নিজেদের সার্ভিস সেন্টারে দায়িত্ব নেবে। দোকান বা আমদানিকারকের ওয়ারেন্টি মানে দায়িত্ব দোকানের — যা ততদিনই কাজে দেয় যতদিন সেই দোকান ওই ব্র্যান্ড রাখে। টাকা দেওয়ার আগে জেনে নিন কোনটি পাচ্ছেন, এবং ওয়ারেন্টির ধরন মুখে নয়, ইনভয়েসে লিখিয়ে নিন। ৪০ হাজার টাকার প্যানেলে এটাই মেরামত আর পুরো ক্ষতির মধ্যে পার্থক্য।
ডেড পিক্সেল নীতি আলাদা করে জিজ্ঞেস করুন। বেশিরভাগ কোম্পানি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ডেড বা স্টাক পিক্সেল হলে তবেই প্যানেল বদলায়, একটি ডেড পিক্সেল সাধারণত ওয়ারেন্টিতে পড়ে না। পণ্য হাতে পাওয়ার দিনেই সম্পূর্ণ সাদা ও সম্পূর্ণ কালো ছবিতে স্ক্রিনটি পরীক্ষা করে নিন, যখন ফেরত দেওয়া সহজ।
ভোল্টেজ ওঠানামা, IPS ও লোডশেডিং
এদেশে বিক্রি হওয়া মনিটরে সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই থাকে যা বিস্তৃত ভোল্টেজ সহ্য করে, তাই স্ট্যাবিলাইজার সবসময় জরুরি নয়। তবে এসি চালু হলে যদি লাইন স্পষ্টভাবে নেমে যায়, বড় প্যানেলের জন্য একটি স্ট্যাবিলাইজার বা ভালো সার্জ প্রোটেক্টর সস্তা নিরাপত্তা। আসলে মনিটর নষ্ট করে কম ভোল্টেজ নয়, বিদ্যুৎ ফিরে আসার মুহূর্তের ঝটকা।
বাসার বেশিরভাগ IPS মডিফাইড সাইন ওয়েভ দেয়। মনিটর সাধারণত এতে চলে, তবে সস্তা ইনভার্টারে প্যানেল থেকে হালকা শব্দ বা মাঝে মাঝে ফ্লিকার আসতে পারে। লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে হলে পিওর সাইন ওয়েভ ইনভার্টারই নিরাপদ। খরচের হিসাব: ২৪ ইঞ্চি Full HD প্যানেল সাধারণত ২০ থেকে ২৫ ওয়াট টানে, আর ৩২ ইঞ্চি 4K তার প্রায় তিনগুণ — ব্যাকআপের সময় হিসাব করার সময় এটি মাথায় রাখুন।
বর্ষার আর্দ্রতা ও ডেস্ক কোথায় রাখবেন
চালু অবস্থায় আর্দ্রতা মনিটরের ক্ষতি করে না, কারণ প্যানেল যথেষ্ট গরম থাকে। ঝুঁকি তখনই, যখন বর্ষায় বন্ধ ঘরে সপ্তাহের পর সপ্তাহ মনিটর বন্ধ পড়ে থাকে এবং বেজেলের পেছনে আর্দ্রতা জমে। কয়েকদিন পরপর এক ঘণ্টা চালিয়ে রাখুন, ঘাম ধরা বাইরের দেয়াল ঘেঁষে বসাবেন না, আর যে জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছাঁট আসে তার নিচে কখনোই রাখবেন না।
কিস্তি, ডেলিভারি ও সার্ভিস সেন্টার
কিস্তির শর্ত বিক্রেতা ও কার্ড ভেদে আলাদা হয়, তাই কত মাসের কিস্তি এবং সুদ আছে কি না — দুটোই আগে নিশ্চিত করে নিন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডেলিভারি সহজ; অন্য জেলার জন্য প্যাকেজিং নিয়ে জেনে নিন, কারণ পরিবহনে প্যানেল ভঙ্গুর এবং ফাটা স্ক্রিন ওয়ারেন্টিতে পড়ে না। বড় ব্র্যান্ডগুলোর অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামেই, তাই ঢাকার বাইরে থাকলে স্থানীয় উপস্থিতি আছে এমন ব্র্যান্ড বাছাই যুক্তিসঙ্গত।
আরেকটি স্থানীয় বাস্তবতা: পণ্যের প্রজন্ম বদলানোর চেয়ে আমদানি শুল্ক ও ডলারের দর মনিটরের দাম বেশি বদলায়। গত বছর যে প্যানেল ২২ হাজার টাকা ছিল, হার্ডওয়্যারে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আজ তা ২৫ হাজার হতে পারে। কোনো দাম যদি একই ধাপের বাকি মডেলগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিক কম মনে হয়, সেটিকে সুযোগ ভাবার আগে ওয়ারেন্টির ধরনটা দেখে নিন।
যে আটটি ভুলে টাকা নষ্ট হয়
দুর্বল কার্ডের সঙ্গে দ্রুত প্যানেল
২৪০Hz স্ক্রিন ততগুলো ফ্রেমই দেখাবে যতগুলো গ্রাফিক্স কার্ড তৈরি করতে পারে। বাড়তি টাকাটা আগে কার্ডে দিন।
ছোট টেবিলে ২৭ ইঞ্চি
৫৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে চোখ সারাক্ষণ স্ক্রিন জুড়ে ঘুরতে থাকে। একই দামে ২৪ ইঞ্চি সেই টেবিলের জন্য ভালো স্ক্রিন।
বক্সের ক্যাবলেই চলবে ধরে নেওয়া
অনেক মনিটরে শুধু HDMI ক্যাবল থাকে। ১৪৪Hz বা 4K কিনলে DisplayPort ক্যাবলের বাজেট রাখুন এবং ভার্সন দেখে নিন।
HD আর Full HD গুলিয়ে ফেলা
সবচেয়ে সস্তা লিস্টিংগুলো 1366×768, 1920×1080 নয়। লেখা স্পষ্ট কম দেখায়। ইঞ্চি নয়, রেজোলিউশন পড়ুন।
স্ট্যান্ড উপেক্ষা করা
শুধু tilt করা স্ট্যান্ড ওঠানো যায় না, আর মনিটরের নিচে বই দেওয়া থেকেই ঘাড়ব্যথা শুরু হয়। উচ্চতা সমন্বয় আছে কি না দেখুন।
উজ্জ্বল ঘরে VA বেছে নেওয়া
দিনের আলোয় VA-র গাঢ় কালো কাজে আসে না, কোণ থেকে রংও বেশি বদলায়। আলোভরা ঘরে IPS প্যানেল নিরাপদ।
ওয়ারেন্টির ধরন না জেনে কেনা
অফিসিয়াল আর দোকানের ওয়ারেন্টির দাম প্রায় সমান, কিন্তু দুটো এক জিনিস নয়। জিজ্ঞেস করুন, ইনভয়েসে লিখিয়ে নিন।
দুই রকম স্ক্রিন মেলানো
ডুয়াল সেটআপে সাইজ, রেজোলিউশন ও উচ্চতা মিলিয়ে নিন। অমিল দুটি প্যানেলের চেয়ে একটি ভালো মনিটর বেশি কাজের।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
এখন মনিটরের সর্বনিম্ন দাম কত?
এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে কম দাম ৳ ৮,৫০০, যা ১৮.৫ থেকে ১৯.৫ ইঞ্চির HD প্যানেল — দোকানের কাউন্টার, CCTV বা দ্বিতীয় স্ক্রিনের জন্য উপযুক্ত। কাজ করে আরাম পাওয়ার মতো Full HD স্ক্রিনের জন্য প্রায় ৳ ১১,০০০ থেকে ধরুন, আর ২৪ ইঞ্চি Full HD IPS-এর জন্য প্রায় ৳ ১৪,৫০০।
কম দামে ভালো মনিটর কোনটি?
১৫ হাজার টাকার আশেপাশে ২৪ ইঞ্চি Full HD IPS প্যানেলই সবচেয়ে ভালো ভারসাম্য দেয় — স্পষ্ট লেখা, ঠিক রং এবং ১০০Hz বা তার বেশি রিফ্রেশ রেট। এর নিচে নামলে সাধারণত সাইজ, প্যানেলের মান বা রেজোলিউশনের কোনো একটিতে ছাড় দিতে হয়, তাই সম্ভব হলে এই ধাপেই থাকুন।
অফিস ও পড়াশোনার জন্য কোন সাইজ ভালো?
সাধারণ টেবিলে, যেখানে চোখ থেকে স্ক্রিনের দূরত্ব ৬০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার, ২৪ ইঞ্চি Full HD IPS প্যানেলই সবচেয়ে ভালো সর্বজনীন পছন্দ। মাথা না ঘুরিয়েই পুরো স্ক্রিন দেখা যায় এবং এই ধাপেই দামের প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। টেবিল গভীর হলে তবেই ২৭ ইঞ্চিতে যান।
১০০Hz যথেষ্ট, নাকি ১৪৪Hz দরকার?
অফিস, পড়াশোনা, ভিডিও ও সাধারণ গেমিংয়ের জন্য ১০০Hz থেকে ১২০Hz যথেষ্ট, আর ৬০Hz থেকে এই ধাপটাই সবচেয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়। ১৪৪Hz বা তার বেশিতে যান কেবল তখনই, যখন প্রতিযোগিতামূলক গেম খেলেন এবং গ্রাফিক্স কার্ড সেই ফ্রেম রেট ধরে রাখতে পারে।
চোখের জন্য কোন মনিটর ভালো?
flicker-free ব্যাকলাইট, low blue light মোড এবং anti-glare ম্যাট কোটিং — এই তিনটি একসঙ্গে থাকলে দীর্ঘ সময় কাজ করা অনেক আরামদায়ক হয়। উজ্জ্বল ঘরে anti-glare সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। সেই সঙ্গে স্ক্রিনের উপরের প্রান্ত চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন, তাতে ঘাড়ের চাপ কমে।
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আর দোকানের ওয়ারেন্টির পার্থক্য কী?
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টির দায়িত্ব ব্র্যান্ডের অনুমোদিত পরিবেশকের, নিজস্ব সার্ভিস সেন্টারে। দোকানের ওয়ারেন্টির দায়িত্ব দোকানের, যা ততদিনই টেকে যতদিন তারা ওই ব্র্যান্ড রাখে। টাকা দেওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন এবং ওয়ারেন্টির ধরন ইনভয়েসে লিখিয়ে নিন।
কিস্তিতে মনিটর কেনা যায়?
কিস্তির সুবিধা বিক্রেতা ও ব্যাংক কার্ড ভেদে আলাদা হয়, তাই মাসের সংখ্যা এবং সুদ প্রযোজ্য কি না অর্ডার করার আগেই দেখে নিন। বড় দামের প্যানেলে কিস্তি বেশি প্রচলিত। যেসব লিস্টিংয়ে কিস্তির সুবিধা আছে, পণ্যের পাতায় তা উল্লেখ থাকে।
ঢাকার বাইরে মনিটর ডেলিভারি পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, তবে অর্ডার করার আগে প্যাকেজিং নিয়ে জেনে নিন — পরিবহনে প্যানেল সবচেয়ে ভঙ্গুর অংশ এবং ফাটা স্ক্রিন ওয়ারেন্টিতে পড়ে না। হাতে পাওয়ার সময় বাক্স খুলে স্ক্রিন পরীক্ষা করে নিন। বড় ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামে, তাই ব্র্যান্ড বাছাইয়ের সময় এটি বিবেচনায় রাখুন।
এবার ফিল্টার করে দেখুন
উপরের দামের ফিল্টারে আপনার বাজেট বসান, তারপর সাইজ বেছে নিন — সাধারণ টেবিলে ২৪ ইঞ্চি, গভীর টেবিলে ২৭ — এবং রিফ্রেশ রেট অনুযায়ী সাজান। দুটি মডেল কাছাকাছি মনে হলে দুটোই খুলে প্যানেল টাইপ ও স্ট্যান্ড মিলিয়ে দেখুন; পার্থক্য সাধারণত ওখানেই থাকে। পুরো সেটআপ গোছাচ্ছেন? দেখে নিন বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম, পুরো কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বিভাগ, ঘরের জন্য স্ক্রিন হলে টেলিভিশনের দাম, আর ছবি এডিটের জন্য মনিটর কিনলে DSLR ক্যামেরা।





























