ল্যাপটপের দাম বাংলাদেশ: ৳ ২৭,২০০ থেকে ৳ ৯,৮৯,৯০০ — পার্থক্যটা কীসের
উপরের তালিকায় দুটি ল্যাপটপের দামের পার্থক্য ১৫ হাজার টাকা, অথচ কেন — সেটা লিস্টিং দেখে বোঝা যায় না। এখানেই বেশিরভাগ ক্রেতা আটকে যান। বাংলাদেশে ল্যাপটপের দাম এই ১২১টি মডেলে ৳ ২৭,২০০ থেকে ৳ ৯,৮৯,৯০০ পর্যন্ত। আসল প্রশ্ন কোনটা সবচেয়ে সস্তা তা নয় — কোন ১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচে আপনার কাজে সত্যিই পার্থক্য আসবে, সেটাই।
নিচে আছে: কোন বাজেটে আসলে কী পাওয়া যায়, কোন ছয়টি স্পেসিফিকেশন নিয়ে ভাবা দরকার, আর ওয়ারেন্টির কাগজ, FreeDOS, ভোল্টেজ ও সার্ভিস সেন্টারের মতো স্থানীয় বিষয় — যেগুলো ঠিক করে দেয় তিন বছর পরেও আপনি খুশি থাকবেন কি না।
বাজেট অনুযায়ী ল্যাপটপের দাম কত
উপরের তালিকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ল্যাপটপ ৳ ৪০,০০০ থেকে ৳ ১,২০,০০০-এর মধ্যে। কোন বাজেটে কী পাবেন, দেখে নিন।
| বাজেট | যা পাবেন | কাদের জন্য | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ৳ ২৭,২০০ – ৳ ৪০,০০০ | Celeron বা N-series, 4–8GB RAM, 256GB SSD | লেখালেখি, ব্রাউজিং, বাড়ির দ্বিতীয় ল্যাপটপ | Avita ESSENTIAL Lite ১৪ ইঞ্চি — ৳ ২৭,২০০ |
| ৳ ৪০,০০০ – ৳ ৭০,০০০ | Core i3, Core 3 বা Ryzen 3–5, 8–16GB, 512GB SSD | অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, অফিসের কাজ | Lenovo V15 G4 Ryzen 5, 16GB — ৳ ৬৩,৮০০ |
| ৳ ৭০,০০০ – ৳ ১,২০,০০০ | Core i5, Core 5 বা Ryzen 5–7, 16GB, IPS বা OLED | প্রোগ্রামিং, বড় Excel ফাইল, ছবি এডিটিং, ফ্রিল্যান্সিং | Asus ExpertBook P1 Core i5, 16GB — ৳ ৮২,০০০ |
| ৳ ১,২০,০০০ – ৳ ২,৫০,০০০ | Dedicated RTX graphics, Core Ultra, Snapdragon X বা Apple silicon | গেমিং, ভিডিও এডিটিং, চার্জার ছাড়া সারাদিন | Acer Predator RTX 4060 — ৳ ২,৩১,০০০ |
| ৳ ২,৫০,০০০ এর উপরে | ফ্ল্যাগশিপ GPU, 4K OLED, 32GB+ RAM, বড় স্টোরেজ | স্টুডিও রেন্ডারিং, 3D, পেশাদার কালার গ্রেডিং | MSI Titan 18 HX, RTX 5090 — ৳ ৯,৮৯,৯০০ |
ল্যাপটপ কেনার আগে কোন ছয়টি জিনিস দেখবেন
লিস্টিংয়ে ত্রিশটা সংখ্যা থাকে। এর মধ্যে ছয়টি বলে দেয় তিন বছর ব্যবহারের পর মেশিনটা কেমন লাগবে।
প্রসেসর: নম্বরের চেয়ে প্রজন্ম বেশি জরুরি
Celeron ও N-series দিয়ে একসঙ্গে একটাই ভারী কাজ চলে। Core i3, Core 3 বা Ryzen 3 হলে অনেক ট্যাব আর Office একসঙ্গে চলে। বেশিরভাগ ক্রেতার থামা উচিত Core i5, Core 5 বা Ryzen 5-এ। Core i7, Ryzen 7, Core Ultra বা Apple silicon তখনই দরকার যখন আপনি রেন্ডার বা এডিট করেন।
এর মানে আপনার জন্য: ২০২০ সালের Core i7 বর্তমান Core i3-এর কাছে ব্যাটারি ও গরম হওয়ার দিক থেকে হেরে যাবে। শুধু নাম নয়, প্রজন্ম দেখুন।
দেখতে পারেন
RAM: ৮GB সর্বনিম্ন, ১৬GB লক্ষ্য
4GB-এর মেশিন কেনার সপ্তাহেই আটকাতে শুরু করে। ৮GB দিয়ে ডকুমেন্ট, ক্লাস আর মোটামুটি ব্রাউজিং চলে। ১৬GB সেই জিনিস যা ২০২৯ সালেও মেশিনটাকে পুরোনো লাগতে দেয় না, আর এখানে ৬০ হাজারের ঘর থেকেই ১৬GB মডেল আছে।
এর মানে আপনার জন্য: কেনার আগে জিজ্ঞেস করুন RAM সোল্ডার করা কি না। পাতলা মডেলে সাধারণত থাকে, আর তখন যা আছে সেটাই স্থায়ী।
দেখতে পারেন
স্টোরেজ: 512GB SSD, বুট ড্রাইভে HDD নয়
প্রতিদিনের ব্যবহারে সবচেয়ে বড় পার্থক্য SSD-ই তৈরি করে — ডেস্কটপে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ সেকেন্ড, HDD হলে এক মিনিটের বেশি। Windows আর দুই বছরের ফাইল রাখার পর 256GB চাপে পড়ে যায়। 512GB ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এর মানে আপনার জন্য: এই দামে যদি এখনো 1TB HDD লেখা থাকে, সেটা বাড়তি সুবিধা নয়। 512GB নিন, আর জায়গা বাড়ান এক্সটার্নাল SSD ও পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভ দিয়ে।
দেখতে পারেন
স্ক্রিন: ১৪ নাকি ১৫.৬ ইঞ্চি, আর প্যানেল কোনটা
১৪ ইঞ্চি মডেলের ওজন প্রায় ১.৩–১.৬ কেজি — ক্লাসের বেঞ্চে বা ভিড় বাসে চলে যায়। ১৫.৬ ইঞ্চি ১.৭–২.০ কেজি, সঙ্গে number pad পাবেন আর পাশাপাশি দুটো ডকুমেন্ট রাখা যায়। ১৬ ইঞ্চি আসলে টেবিলের মেশিন।
এর মানে আপনার জন্য: সাইজের চেয়ে প্যানেলের ধরন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। IPS বা OLED কাত করলেও রং ধরে রাখে, TN রাখে না — আর সেটা প্রতিদিন চোখে পড়ে।
দেখতে পারেন
Graphics: কাজে না লাগলে GPU-র দাম দেবেন না
পড়াশোনা, মিটিং, স্ট্রিমিং আর হালকা ছবির কাজে integrated graphics যথেষ্ট। Dedicated NVIDIA RTX দরকার আধুনিক গেম, ভিডিও টাইমলাইন এডিটিং আর 3D-র জন্য। এখানে এন্ট্রি গেমিং শুরু প্রায় ৳ ৯৬,০০০ থেকে।
এর মানে আপনার জন্য: GPU মানে বাড়তি ওজন, গরম, ফ্যানের শব্দ আর প্রায় এক ঘণ্টা কম ব্যাটারি। সপ্তাহে ব্যবহার না করলে সেই টাকা RAM আর প্যানেলে দিন।
দেখতে পারেন
ব্যাটারি, ওজন আর AI ল্যাপটপ আসলে কী দেয়
ব্যাটারির ক্ষমতা লেখা থাকে watt-hour বা Wh-এ। 40Wh-এর নিচে হলে চার্জার সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে; 50Wh বা বেশি হলে বেশিরভাগ মানুষের কর্মদিবস চলে যায়। Copilot+ PC-তে থাকে NPU, যা ডিভাইসেই AI ফিচার চালায়।
এর মানে আপনার জন্য: আপনার এলাকায় লোডশেডিং দীর্ঘ হলে পাতলা মডেলের চেয়ে বড় ব্যাটারি বেছে নিন। NPU কিন্তু সাধারণ সফটওয়্যার দ্রুত করে না।
বাংলাদেশে কোন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ ভালো
সব দিক থেকে সেরা একটি ব্র্যান্ড নেই। বাজেট বদলালে উত্তরও বদলায়, আর কোন আপসটা আপনি মেনে নেবেন তার উপরও নির্ভর করে।
| ব্র্যান্ড | কোথায় সবচেয়ে ভালো | যা জেনে রাখা দরকার |
|---|---|---|
| Asus ল্যাপটপ | ৫০ থেকে ৯০ হাজারের ঘরে টাকার তুলনায় স্পেসিফিকেশন; সবচেয়ে বেশি অপশন | ৮০ হাজারের নিচে বডি প্লাস্টিকের, আর একই মডেলের রং আলাদা লিস্টিং হিসেবে আসে |
| Lenovo ল্যাপটপ | কীবোর্ড, আর ৳ ৩৫,৭৪৯ থেকে প্রিমিয়াম OLED পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংগ্রহ | সস্তা IdeaPad-এ প্রায়ই সাধারণ প্যানেল থাকে — কেনার আগে দেখে নিন |
| HP ল্যাপটপ | ProBook বিজনেস সিরিজ, আর সারা দেশে সবচেয়ে বিস্তৃত সার্ভিস কভারেজ | 15s কনজিউমার লাইন কম দামে বানানো — কব্জা ও বডি হাতে দেখে নিন |
| MSI গেমিং ল্যাপটপ | সব বাজেটে গেমিং ও ক্রিয়েটর মডেল, ৳ ৯,৮৯,৯০০-এর ফ্ল্যাগশিপ পর্যন্ত | লোড পড়লে কুলিং ফ্যান বেশ জোরে চলে — শান্ত অফিসের মেশিন নয় |
| MacBook দাম | ব্যাটারি, নীরবতা, আর এই বাজারে সবচেয়ে ভালো রিসেল ভ্যালু | কিছু ব্যাংকিং পোর্টাল ও বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার এখনো Windows ধরে বানানো |
| Acer ল্যাপটপ | দামের তুলনায় স্টোরেজ ও স্ক্রিন; এই বিভাগে একমাত্র Chromebook অপশন | সংগ্রহ তুলনায় ছোট, তাই নির্দিষ্ট মডেল না-ও থাকতে পারে |
| Dell ল্যাপটপ | দুই প্রান্তে Latitude ও Alienware; বিজনেস মডেলের বিল্ড কোয়ালিটি মজবুত | এখানে কয়েকটি লিস্টিং পুরোনো প্রজন্মের — RAM ও ড্রাইভের ধরন মন দিয়ে পড়ুন |
| Microsoft Surface 2-in-1 | ট্যাবলেট ও ল্যাপটপ একসাথে, নোট নেওয়া আর সত্যিকারের বহনযোগ্যতা | কীবোর্ড ও পেন সাধারণত আলাদা দামে কিনতে হয় |
কম দামে ভালো ল্যাপটপ: বাজেট অনুযায়ী পছন্দ
সবচেয়ে কম দামে
৳ ২৭,২০০ – ৳ ৪০,০০০
- Avita ESSENTIAL Lite ১৪ ইঞ্চি, 8GB, 256GB SSD — ৳ ২৭,২০০
- Lenovo IdeaPad 1i ১৫.৬ ইঞ্চি FHD — ৳ ৩৫,৭৪৯
সত্যিকারের মেশিন, তবে সীমিত। লেখালেখি, ব্রাউজিং আর ভিডিও কলের জন্য কিনুন — সস্তায় দ্রুত মেশিন ভেবে নয়।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য
৳ ৪৫,০০০ – ৳ ৭০,০০০
এই পাতার সবচেয়ে শক্ত রেঞ্জ। ৬৩ হাজার পর্যন্ত যেতে পারলে ১৬GB মডেলগুলো পুরো ডিগ্রি পার করে দেবে।
গেমিং ও ক্রিয়েটিভ
৳ ৯৬,০০০ – ৳ ৯,৮৯,৯০০
দুটো আলাদা উত্তর। গেম ও রেন্ডারিংয়ের জন্য RTX; নীরবতা ও ব্যাটারির জন্য Apple silicon।
বাংলাদেশে ল্যাপটপ কিনতে গেলে যা জানা দরকার
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আছে — প্রমাণ করবেন কীভাবে
একই মডেল অন্য সবার চেয়ে ১০–২০ হাজার টাকা কমে থাকার মানে সাধারণত একটাই: শুল্ক না দিয়ে দেশে ঢোকা, অর্থাৎ পেছনে কোনো স্থানীয় ওয়ারেন্টি নেই। বোর্ড নষ্ট হলে অনুমোদিত সেন্টার সেটি নেবে না, পুরো খরচ আপনার। টাকা দেওয়ার আগে আমদানিকারকের নামসহ ওয়ারেন্টি কার্ড চেয়ে নিন, তার সিরিয়াল ল্যাপটপের নিচের স্টিকারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, আর কোন সার্ভিস পার্টনার এটি গ্রহণ করবে তার নাম জেনে নিন। যে বিক্রেতা এটা লিখে দিতে রাজি নন, তিনি উত্তরটা দিয়েই দিয়েছেন।
FreeDOS ল্যাপটপ দেখতে যত সস্তা, আসলে তত নয়
বাজারের সবচেয়ে কম দামের অনেক মডেলই FreeDOS। হার্ডওয়্যার ঠিকঠাক, কিন্তু মেশিন চালু হয়ে কমান্ড প্রম্পটে থামে — Office নেই, Zoom নেই, Chrome নেই — যতক্ষণ না আপনি নিজে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করছেন। জেনুইন Windows লাইসেন্স যোগ করলে মোট খরচ প্রায়ই সেই Windows-সহ মডেলটাকেই ছাড়িয়ে যায়, যেটা আপনি আগে বাদ দিয়েছিলেন। লিস্টিংয়ে অপারেটিং সিস্টেমের নাম না থাকলে ধরে না নিয়ে জিজ্ঞেস করুন।
লোডশেডিং, ভোল্টেজ ওঠানামা ও আপনার চার্জার
স্বল্প সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ব্যাটারিই সামলে নেয়। নষ্ট হয় অ্যাডাপ্টার। ভোল্টেজ স্পাইকে চার্জার, কখনো তার পেছনের বোর্ডও যায়। বিদ্যুৎ অস্থির হলে অ্যাডাপ্টার stabilizer বা pure sine wave IPS-এর মাধ্যমে চালান — সস্তা square wave ইউনিটে অ্যাডাপ্টার শব্দ করে ও গরম হয়। প্রয়োজন পড়ার আগেই চার্জার ও ল্যাপটপ অ্যাক্সেসরিজ দেখে রাখুন।
ধুলা ও বর্ষার আর্দ্রতা
ঢাকার বাতাস ল্যাপটপের ভেন্ট নির্মাতাদের হিসাবের চেয়ে অনেক দ্রুত আটকে দেয়, আর স্যাঁতসেঁতে মাসগুলোতে সেটা আরও বাড়ে। বছরে একবার পেশাদারভাবে ফ্যান পরিষ্কার করান, গেমিং মেশিন হলে দুবার। বিছানা বা বালিশে রেখে চালাবেন না — ভেন্ট বন্ধ হওয়াই থ্রটলিংয়ের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। বর্ষায় বন্ধ ল্যাপটপ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ব্যাগে আটকে রাখবেন না।
সার্ভিস সেন্টার, কিস্তি, ডেলিভারি ও রিটার্ন
ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে ওয়ারেন্টি ১ থেকে ৩ বছর, আর ইন্টারন্যাশনাল ওয়ারেন্টি মানে স্থানীয় সার্ভিস নয়। অনুমোদিত সেন্টারগুলো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক, বড় ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামেও ভালো উপস্থিতি, অন্য জেলায় তুলনায় কম — এই দুই শহরের বাইরে থাকলে কেনার আগেই যাচাই করে নিন। কার্ড পেমেন্টে কিস্তি বহুল প্রচলিত; শুধু নিশ্চিত হোন আপনার নির্দিষ্ট ব্যাংক ও কার্ডে সুবিধাটি আছে কি না, আর কিস্তি সত্যিই ০% নাকি প্রসেসিং ফি আছে — সেই ফি অনেক সময় ছাড়ের পুরোটাই খেয়ে ফেলে। উপরের পণ্যে ক্যাশ অন ডেলিভারি ও ৭ দিনের রিটার্ন প্রযোজ্য।
আমদানি শুল্ক ও দাম কোন দিকে যাচ্ছে
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, সার্ভার ও মনিটরের আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছিল; খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে খুচরা দাম প্রায় ১০–১৫ শতাংশ কমতে পারে। বাস্তবায়ন ও পুরোনো স্টক শেষ হতে সময় লাগে, তাই ২০২৬ সালের মাঝামাঝির আগের কোনো প্রাইস লিস্টে ভরসা না করে সরাসরি বর্তমান দাম মিলিয়ে দেখুন।
যে ৮টি ভুলে ক্রেতাদের টাকা নষ্ট হয়
নাম দেখা, প্রজন্ম না দেখা
4GB RAM-সহ পুরোনো Core i7 প্রায় সব কাজেই 16GB RAM-সহ চলতি Core i3-এর কাছে হারে।
৫ হাজার বাঁচাতে 4GB নেওয়া
সেই সাশ্রয়ে কয়েক সপ্তাহেই আটকে যাওয়া মেশিন পাবেন, আর সোল্ডার করা RAM হলে ফেরার পথ নেই।
1TB HDD-কে বাড়তি সুবিধা ভাবা
বুট ড্রাইভে মেকানিক্যাল ডিস্ক থাকলে বাকি স্পেসিফিকেশনের সুবিধা নষ্ট হয়ে যায়। 512GB SSD বেশি মূল্যবান।
FreeDOS ও Windows-এর দাম মেলানো
দুটো আলাদা জিনিস। কোনটা সস্তা ঠিক করার আগে FreeDOS দামের সঙ্গে লাইসেন্সের খরচ যোগ করুন।
অব্যবহৃত RTX graphics কেনা
বছরে দুবার লাগে এমন পারফরম্যান্সের জন্য প্রতিদিন ওজন, গরম, শব্দ আর ব্যাটারির দাম দিতে হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ওয়ারেন্টিকে স্থানীয় ভাবা
সাধারণত তা নয়। টাকা দেওয়ার আগে বাংলাদেশের কোন সেন্টার ইউনিটটি নেবে, নিশ্চিত হয়ে নিন।
ওজন আর চার্জারের আকার না দেখা
আড়াই কেজি আর বড় অ্যাডাপ্টার প্রতিদিন ঢাকার যানবাহনে বহনের জিনিস নয়।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা না দেখা
কম উজ্জ্বল প্যানেল জানালার পাশে অচল। nits কত দেখুন, আর TN-এর বদলে IPS বা OLED নিন। টেবিলে স্থির সেটআপ হলে একবার ডেস্কটপ কম্পিউটার-এর সঙ্গেও তুলনা করুন।
ল্যাপটপের দাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
এই পাতায় সবচেয়ে কম দামের ল্যাপটপ কোনটি?
উপরের ১২১টি মডেলের মধ্যে সর্বনিম্ন দাম ৳ ২৭,২০০ — ১৪ ইঞ্চি Avita ESSENTIAL Lite, Celeron প্রসেসর, 8GB RAM ও 256GB SSD। এটি ওয়ারেন্টিসহ নতুন মেশিন, তবে সীমিত ক্ষমতার। লেখালেখি, ব্রাউজিং ও ভিডিও কলের জন্য উপযুক্ত, সস্তায় দ্রুত ল্যাপটপ হিসেবে নয়।
৬০ হাজার টাকার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?
৬০ হাজারের নিচে আধুনিক Core i3, Core 3 বা Ryzen 3, 8GB RAM আর 512GB SSD পাওয়া যায় — ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও ব্রাউজিংয়ের জন্য যথেষ্ট। বাজেট ৬৩ হাজারের ঘরে নিতে পারলে ১৬GB মডেল আসে, আর পুরো ডিগ্রি জুড়ে মেশিন ব্যবহারযোগ্য রাখতে এই একটি পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর।
২০২৬ সালে ৮GB RAM কি যথেষ্ট?
ডকুমেন্ট, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও কল ও সাধারণ ব্রাউজিংয়ের জন্য যথেষ্ট। সমস্যা শুরু হয় যখন বিশটা ট্যাবের সঙ্গে কোড এডিটর বা ছবি এডিটিং সফটওয়্যার চলে। RAM সোল্ডার করা থাকলে — পাতলা মডেলে যা সাধারণ — এবং তিন বছরের বেশি রাখার পরিকল্পনা থাকলে এখনই ১৬GB নিন, পরে যোগ করা যাবে না।
লিস্টিংয়ে FreeDOS লেখা থাকলে কী বোঝায়?
FreeDOS একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম, যা দিলে নির্মাতাকে Windows লাইসেন্সের দাম যোগ করতে হয় না বলে দাম কম দেখায়। হার্ডওয়্যার স্বাভাবিকভাবেই চলে, কিন্তু মেশিন কমান্ড প্রম্পটে চালু হয় এবং Windows বা Linux ইনস্টল না করা পর্যন্ত Office, Chrome বা Zoom চলবে না। দাম তুলনার আগে লাইসেন্সের খরচ ধরুন।
AI ল্যাপটপ বা Copilot+ PC কী, আমার কি দরকার?
এগুলোতে মূল প্রসেসরের পাশে একটি NPU থাকে, যা লাইভ ক্যাপশন বা ছবির টুলের মতো AI ফিচার সার্ভারে না পাঠিয়ে ডিভাইসেই চালায়। এগুলো দক্ষ ও নীরব। তবে Excel, ব্রাউজার বা গেম দ্রুত হয় না — তাই ব্যাটারি ও AI ফিচারের জন্য কিনুন, সাধারণ গতি বাড়ানোর আশায় নয়।
বাংলাদেশে গেমিং ল্যাপটপ কেনা কি যুক্তিসঙ্গত?
এখানে এন্ট্রি গেমিং মডেল শুরু প্রায় ৳ ৯৬,০০০ থেকে, আর সর্বোচ্চ ৳ ৯,৮৯,৯০০। গেম ও ভিডিওর কাজে দারুণ, তবে ভারী, শব্দ করে, এই আবহাওয়ায় গরম হয় এবং ব্যাটারি দ্রুত ফুরায়। মাঝেমধ্যে গেম খেললে একটি মিড-রেঞ্জ ল্যাপটপ ও মনিটর একই টাকায় বেশি কাজে দেবে।
লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে ল্যাপটপ বাঁচাব কীভাবে?
স্বল্প সময়ের বিভ্রাট ব্যাটারিই সামলে নেয়। ঝুঁকিটা ভোল্টেজ ওঠানামার সময় চার্জারের। বিদ্যুৎ অস্থির হলে অ্যাডাপ্টার stabilizer বা pure sine wave IPS-এর মাধ্যমে চালান, square wave ইউনিটে নয়। লোডশেডিং দীর্ঘ হলে সবচেয়ে পাতলা মডেলের বদলে ৫০Wh বা বড় ব্যাটারির মডেল বেছে নিন।
কিস্তিতে বা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কেনা যাবে?
উপরের তালিকার পণ্যে দুটোই আছে, সঙ্গে ৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা। কিস্তিতে যাওয়ার আগে ব্যাংকের কাছে দুটি বিষয় নিশ্চিত করুন: আপনার নির্দিষ্ট কার্ডে সুবিধাটি প্রযোজ্য কি না, আর সেটি সত্যিই ০% নাকি প্রসেসিং ফি আছে — সেই ফি অনেক সময় ছাড়ের সুবিধা পুরোটাই কেড়ে নেয়।
উপরের তালিকা থেকে বেছে নিন
প্রথমে দামের ফিল্টারে সর্বোচ্চ সীমা দিন, তারপর RAM দিয়ে ফিল্টার করুন — অন্য যেকোনো অপশনের চেয়ে এটি বেশি অনুপযুক্ত মডেল বাদ দেয়। এরপর ঠিক দুটি মডেল বেছে নিয়ে প্যানেলের ধরন, ব্যাটারি ক্ষমতা ও ওজন মিলিয়ে দেখুন — একই দামের মডেলগুলোর পার্থক্য এখানেই সবচেয়ে বেশি।
পুরো সেটআপ সাজাতে চাইলে কীবোর্ড ও মাউস, অথবা নেটওয়ার্কিং ডিভাইস থেকে রাউটার যোগ করে নিন।






















