ব্লেন্ডার মেশিনের দাম বাংলাদেশে — ব্লেন্ডার, গ্রাইন্ডার ও মিক্সার

৭২টি মডেল, ৳ ১,৮০০ থেকে ৳ ২০,৫০০ পর্যন্ত। ওয়াট, জার সংখ্যা ও ওয়ারেন্টি মিলিয়ে দেখে নিন।

Blanders, Grinders & Mixers category

ব্লেন্ডার মেশিনের দাম কত — আসল হিসাব

উপরের ৭২টি মডেলে ব্লেন্ডার মেশিনের দাম ৳ ১,৮০০ থেকে ৳ ২০,৫০০ পর্যন্ত। বেশির ভাগ ক্রেতা একটা জায়গাতেই আটকে যান — ৳ ৬,০০০ টাকার মিক্সার গ্রাইন্ডারই কি যথেষ্ট, নাকি ৳ ১২,০০০ টাকারটা সত্যিই দ্বিগুণ ভালো?

সাধারণত না। ৳ ৩,০০০ থেকে ৳ ৬,০০০-এ উঠলে মোটর আর জারের মানে সত্যিকারের পার্থক্য পাওয়া যায়। কিন্তু ৳ ৬,০০০ থেকে ৳ ১২,০০০-এ উঠলে মূলত বাড়তি জার, জুসার অ্যাটাচমেন্ট আর লম্বা ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। আপনার রান্নার ধরন অনুযায়ী কোন লাফটা দেওয়া দরকার, সেটাই নিচে বলা আছে।

বাজেট অনুযায়ী ব্লেন্ডার ও মিক্সার গ্রাইন্ডার দাম

চারটি ভাগে পুরো ক্যাটেগরি ধরা যায়। মাঝের দুই ভাগেই আছে ৭২টির মধ্যে ৪৭টি মডেল — বেশির ভাগ পরিবার এখানেই থামে।

দামের সীমা যা পাবেন কাদের জন্য উদাহরণ
৳ ১,৮০০ – ৳ ৩,৯৯৯ একটাই কাজ, একটি জার বা একটি অ্যাটাচমেন্ট। হ্যান্ড মিক্সার, চপার, ছোট গ্রাইন্ডার ব্যাচেলর, হোস্টেল, বেকিংয়ের বাড়তি যন্ত্র Sokany SK-6632 ৫ স্পিড হ্যান্ড মিক্সার — ৳ ১,৮০০
৳ ৪,০০০ – ৳ ৭,৪৯৯ ৫০০W–৮৫০W, দুই বা তিনটি স্টেইনলেস স্টিল জার, ভেজা ও শুকনা দুই ধরনের গ্রাইন্ডিং তিন থেকে পাঁচ জনের পরিবার, প্রতিদিনের রান্না Havells Momenta NV 750W, SS-304 ব্লেড — ৳ ৬,০০০
৳ ৭,৫০০ – ৳ ১১,৯৯৯ ৭৫০W–১০০০W, তিন বা চারটি জার, প্রায়ই জুসার জার ও ভালো বেয়ারিং নিয়মিত মসলা বাটা, বড় পরিবার, দিনে একাধিকবার ব্যবহার Panasonic MX-GC3550 900W, ৩ জার — ৳ ৮,৫০০
৳ ১২,০০০ – ৳ ২০,৫০০ ১০০০W–১৮০০W, চার বা পাঁচটি জার, স্ট্যান্ড মিক্সার, কমার্শিয়াল গ্রাইন্ডার বেকিং, টিফিন ব্যবসা, ছোট রেস্টুরেন্ট Panasonic MX-AV325 1500W হেভি ডিউটি — ৳ ১২,০০০

কেনার আগে যে পাঁচটি জিনিস আসলে দেখা দরকার

আট বছর টেকা মেশিন আর দেড় বছরে পুড়ে যাওয়া মেশিনের পার্থক্য এই কয়েকটা জিনিসেই। বাকি স্পেসিফিকেশন মূলত সাজানো।

মোটরের ওয়াট কত হলে ভালো

৪৫০W দিয়ে জুস, শেক আর নরম ফল ভালোভাবেই হয়। শুকনা হলুদ, ধনে বা গোটা মসলা গুঁড়ো করতে চাইলে ৭৫০W-এর নিচে নামা ঠিক না। ১০০০W-এর উপরে গেলে গুঁড়ো আরও মিহি হয় না — একসাথে বেশি পরিমাণ করা যায়, এটুকুই পার্থক্য।

আপনার জন্য মানে: সপ্তাহে দুইবারের বেশি মসলা বাটলে ৭৫০W নিন। শুধু জুস-শেক হলে ৪৫০W–৬০০W-এ টাকা ও জায়গা দুটোই বাঁচবে।

পছন্দের মডেল

Bajaj DLX 230 Twister Deluxe 750W মিক্সার গ্রাইন্ডার — ৳ ৬,২০০

জার স্টিলের না প্লাস্টিকের

স্টেইনলেস স্টিল জারে গরম জিনিস দেওয়া যায়, হলুদের দাগ বসে না, ফাটলও ধরে না। পলিকার্বনেট জারে ভেতরটা দেখা যায় আর ওজনে হালকা। একদম কম দামের প্লাস্টিক জার প্রতিদিন মসলা বাটলে এক বছরেই রং নষ্ট হয়ে যায়।

আপনার জন্য মানে: SS-304 গ্রেড লেখা আছে কি না দেখুন। সাধারণ স্টিলে লবণ-টকে ছোট গর্ত পড়ে, আর সেখান থেকেই গন্ধ ধরে।

পছন্দের মডেল

Philips HL7756/01 750W, ৩টি স্টিল জার — ৳ ১০,৮৫০

কয়টি জার দরকার

দুই জার মানে চাটনি আর ব্যাটারের মাঝে ধুয়ে নিতে হবে। যে রান্নাঘরে একই দিনে ভেজা ও শুকনা দুটোই বাটা হয়, সেখানে তিনটি জার সর্বনিম্ন — বড় ব্লেন্ডিং জার, ফ্ল্যাট ব্লেডের ড্রাই জার আর ছোট চাটনি জার। চতুর্থটি সাধারণত জুসার বা ফ্রুট ফিল্টার।

আপনার জন্য মানে: যতগুলো জার আসলে ধোবেন, ততগুলোই নিন। বছরে দুইবার ব্যবহার হওয়া জার মানে ৳ ১,৫০০ টাকার আলমারি দখল।

জারের আকার কত হলে চলে

চার জনের পরিবারের জন্য ১.৫ লিটারের মূল জারই যথেষ্ট — মোটামুটি চার গ্লাস লাচ্ছি, বা দুই দফায় এক ব্যাচ দোসার ব্যাটার। ছয় জনের বেশি হলে বা ইফতারের শরবত বানাতে ২ লিটার লাগে। ০.৬ লিটারের পার্সোনাল ব্লেন্ডারে এক সার্ভিংয়ের বেশি হয় না।

আপনার জন্য মানে: জার এক-তৃতীয়াংশ থেকে দুই-তৃতীয়াংশ ভরা থাকলেই ভালো ঘোরে। তাই সবচেয়ে বড় ব্যাচ নয়, স্বাভাবিক ব্যাচ ধরে আকার বাছুন।

পছন্দের মডেল

Miyako BL-69TRIP 2.0L কমার্শিয়াল ব্লেন্ডার — ৳ ১০,৮০০

জগ ব্লেন্ডার না হ্যান্ড ব্লেন্ডার

হ্যান্ড ব্লেন্ডার সরাসরি হাঁড়িতে ঢোকানো যায়, তাই গরম স্যুপ বা ডাল ঢালাঢালি করতে হয় না। ধোয়া সহজ, ড্রয়ারে রাখা যায়, বাচ্চার খাবারের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে এতে শুকনা মসলা গুঁড়ো হয় না, বরফও ভাঙা যায় না — বাক্সে যা-ই লেখা থাকুক।

আপনার জন্য মানে: এখানকার বেশির ভাগ রান্নাঘরে মূল মেশিন হওয়া উচিত জগ স্টাইলের মিক্সার গ্রাইন্ডার, আর হ্যান্ড ব্লেন্ডার তার সহযোগী।

পছন্দের মডেল

Philips HL1655/02 250W হ্যান্ড ব্লেন্ডার — ৳ ৪,৫০০

কপার না অ্যালুমিনিয়াম মোটর

মোটরের কয়েল কপার বা অ্যালুমিনিয়ামের হয়, আর লিস্টিংয়ে সবসময় লেখা থাকে না। কপার একই আকারে বেশি কারেন্ট বইতে পারে, কম গরম হয়, আর আমাদের লাইনের ভোল্টেজ ওঠানামা ভালোভাবে সামলায়। অ্যালুমিনিয়াম সস্তা — এ কারণেই একই ৭৫০W লেখা দুটি মেশিনের দামে ৳ ৩,০০০ পার্থক্য হতে পারে।

আপনার জন্য মানে: প্রোডাক্টের নামে কপার মোটর লেখা থাকলে সেটা সত্যিকারের টেকসইয়ের ইঙ্গিত। শুধু ওয়াট লেখা থাকলে দামের পার্থক্যটাই আপনার সূত্র।

কোন ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার ভালো

৭২টি মডেলের ৪৫টিই চারটি ব্র্যান্ডের। কোনো ব্র্যান্ডই সব দিকে সেরা নয় — কে কোথায় শক্ত, নিচে সেটাই সরাসরি বলা।

ব্র্যান্ড মডেল যেখানে সেরা যেখানে দুর্বল
Philips মিক্সার গ্রাইন্ডার ১৬ সবচেয়ে বিস্তৃত পরিসর — হ্যান্ড ব্লেন্ডার, হ্যান্ড মিক্সার, জুসার, তিন ও চার জারের গ্রাইন্ডার ৳ ৪,৫০০-এর নিচে কিছুই নেই; শুরুর দিকে ব্র্যান্ডের দাম বেশি
Panasonic ব্লেন্ডার ও গ্রাইন্ডার ১২ বেশি ওয়াটের দিকটা। ১৫০০W হেভি ডিউটি গ্রাইন্ডার আর একমাত্র স্ট্যান্ড মিক্সার প্রায় সবই ৳ ৮,০০০-এর উপরে, প্রথম মেশিনের জন্য কম বিকল্প
Havells মিক্সার গ্রাইন্ডারের দাম ৳ ৬,০০০–৳ ৯,০০০ রেঞ্জে সবচেয়ে ভালো ভ্যালু, SS-304 ব্লেড সবচেয়ে নিয়মিত হ্যান্ড ব্লেন্ডার বা হ্যান্ড মিক্সার একটিও নেই
Miyako ব্লেন্ডারের দাম সবচেয়ে কম দামে শুরু, সঙ্গে মাংস কিমা মেশিন ও ডিম ফেটানোর মেশিন স্টিল জার কম, কম দামের মডেলে প্লাস্টিক বেশি
Bajaj, Jaipan, Orient মোট ৯ মসলা বাটার জন্য তৈরি ভারতীয় ডিজাইন, ৳ ৫,২০০–৳ ৭,৪৯৯ দামে ঢাকার বাইরে সার্ভিস নেটওয়ার্ক তুলনামূলক কম
Gazi, Sharp, Sokany, Atashii মোট ৮ ৳ ৪,০০০-এর নিচে সাধারণ এক-জারের ব্লেন্ডার ও চপার প্রতিদিন শুকনা মসলা বাটার জন্য নয়, হালকা কাজের জন্য ধরুন

বাজেট অনুযায়ী সেরা পছন্দ

বাজেট ঠিক করা থাকলে এখান থেকেই শুরু করুন। প্রতিটি দাম উপরের তালিকা থেকেই নেওয়া।

কম বাজেট

৳ ১,৮০০ – ৳ ৩,৯৯৯

সেরা ভ্যালু

৳ ৪,০০০ – ৳ ৭,৪৯৯

এক ধাপ উপরে

৳ ৭,৫০০ – ৳ ১১,৯৯৯

হেভি ডিউটি

৳ ১২,০০০ – ৳ ২০,৫০০

বাংলাদেশে ব্লেন্ডার ব্যবহারের বাস্তব দিক

এখান থেকে আর স্পেসিফিকেশন কাজে লাগে না। মেশিন কত দিন টিকবে, তা এই চারটি বিষয়েই ঠিক হয় — আর কোনোটাই বাক্সের গায়ে লেখা থাকে না।

ভোল্টেজ ওঠানামা ও স্ট্যাবিলাইজার লাগবে কি না

লাইনের ভোল্টেজ কাগজে ২২০V হলেও সন্ধ্যার পিক আওয়ারে নেমে যায়, আবার লাইন ফিরলে হঠাৎ বেড়ে যায়। ভোল্টেজ কম থাকলে মোটর গতি ধরে রাখতে বেশি কারেন্ট টানে, আর সেই তাপেই কয়েল নষ্ট হয়। ১০০০W-এর নিচের বেশির ভাগ মিক্সার গ্রাইন্ডার এটা সামলে নেয়, তবে আপনার এলাকায় ফ্রিজ চালু হলে বাতি নিভু নিভু হলে ৫০০VA–১০০০VA স্ট্যাবিলাইজার নতুন মোটরের চেয়ে অনেক সস্তা।

ভারতের বাজারের মডেলও একই ২৩০V স্ট্যান্ডার্ডে চলে, তাই বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা নেই। প্রশ্নটা ভোল্টেজের নয়, ওয়ারেন্টির।

লোডশেডিং, IPS ও ইনভার্টার

বাসার সাধারণ IPS ফ্যান, বাতি আর রাউটারের জন্য — ক্ষমতা ৬০০VA থেকে ১২০০VA-এর মধ্যে। ৭৫০W-এর মিক্সার গ্রাইন্ডার ব্লেডে চাপ পড়ামাত্র প্রায় পুরো ক্ষমতা টানে, আর চালু হওয়ার মুহূর্তে টান আরও বেশি। ফলে সাধারণ IPS-এ চালালে বেশির ভাগ সময় ট্রিপ করে, আর মডিফায়েড সাইন ওয়েভে মোটর গরম ও শব্দ দুটোই বাড়ে।

বাস্তব সমাধান হলো লোডশেডিংয়ের আগে বা পরে বেটে রাখা। একান্তই ব্যাকআপে চালাতে হলে অ্যাপ্লায়েন্সের ওয়াটের অন্তত দ্বিগুণ ক্ষমতার পিওর সাইন ওয়েভ ইনভার্টার ছাড়া নিরাপদ নয়।

ওয়ারেন্টিতে যা থাকে না

এই ক্যাটেগরিতে ওয়ারেন্টি সাধারণত ভাগ করা থাকে — মোটরে বেশি সময়, বডি ও সুইচে কম। জার, ব্লেড, গ্যাসকেট ও কাপলার ভোগ্য যন্ত্রাংশ ধরা হয় এবং প্রায় কখনোই ওয়ারেন্টিতে পড়ে না। অথচ সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয় কাপলারই। কেনার আগেই জিজ্ঞেস করে নিন কোন অংশে কত দিনের কভার।

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর অনুমোদিত সার্ভিস পয়েন্ট ঢাকা ও চট্টগ্রামে আছে; এর বাইরে কভারেজ সব ব্র্যান্ডেরই কম, আর ভারতীয় মিড-রেঞ্জ ব্র্যান্ডের সবচেয়ে কম। বিভাগীয় শহরের বাইরে থাকলে বাড়তি ২০০W-এর চেয়ে ডিলার নেটওয়ার্ক বেশি জরুরি। অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে কিনলেই ওয়ারেন্টি কার্যকর হয় — ৳ ৮০০ কমে পাওয়া আনঅফিশিয়াল সেটে কোনো দাবি চলে না।

বর্ষা, যন্ত্রাংশ ও কত সময় চালানো যায়

বর্ষার আর্দ্রতায় শুকনা মসলা দলা পাকিয়ে জারের গায়ে লেগে যায়। তাই জুন থেকে সেপ্টেম্বরে অল্প অল্প করে বাটুন, আর গোটা মসলা আগে হালকা টেলে নিন। মেশিন রাখার সময় জার খুলে, ঢাকনা ছাড়া রাখুন — ভেজা অবস্থায় আটকে রাখলে গন্ধ ধরে।

ঘরোয়া গ্রাইন্ডার একটানা চলার জন্য তৈরি নয়। নিরাপদ নিয়ম হলো সর্বোচ্চ দুই মিনিট চালিয়ে দুই মিনিট বন্ধ রাখা, আর পরপর তিনবারের বেশি নয়। এদেশে মোটর পুড়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ এই নিয়ম না মানা, কোনো কারখানার ত্রুটি নয়। বড় ব্র্যান্ডের বাড়তি জার ও কাপলার আলাদা কেনা যায় — চালু মোটর ফেলে দেওয়ার আগে কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের যন্ত্রাংশ দেখে নিন। পেমেন্টে বিকাশ, নগদ, কার্ড ও ক্যাশ অন ডেলিভারি চলে, আর বেশি দামের অ্যাপ্লায়েন্সে EMI সুবিধা আছে।

যে সাতটি ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ওয়াট দেখে কেনা, গঠন না দেখে

অ্যালুমিনিয়াম কয়েল আর প্লাস্টিক কাপলারের ১০০০W মেশিন ভালোভাবে বানানো ৭৫০W-এর আগেই নষ্ট হয়। ওয়াট লেখা সবচেয়ে সহজ, ভরসা করা সবচেয়ে কঠিন।

এক জারে সব কাজ চাওয়া

ভেজা আর শুকনা বাটার ব্লেড আলাদা গড়নের। ভেজা জারে শুকনা মসলা দিলে গুঁড়ো মোটা ও অসমান হয়, ব্লেডও ভোঁতা হয়ে যায়।

বন্ধ না করে চালিয়ে যাওয়া

দুই মিনিট চালু, দুই মিনিট বন্ধ। এদেশে পুড়ে যাওয়া বেশির ভাগ মোটর বয়সে নয়, এক টানা বাটতে গিয়েই যায়।

জার বেশি ভরে ফেলা

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরলে জিনিস আর ঘোরে না, ব্লেডের উপরে ভেসে থাকে। উপরের স্তর কাঁচা থেকে যায়, মোটরে চাপ পড়ে।

ওয়ারেন্টির ভাগ না দেখা

"দুই বছরের ওয়ারেন্টি" মানে প্রায়ই মোটরে দুই বছর, বাকি সবে এক। আর আগে নষ্ট হয় সাধারণত বাদ পড়া অংশগুলোই।

গরম ডাল জগে ঢালা

বন্ধ জারে গরম ডাল দিলে ভাপে চাপ তৈরি হয়ে ঢাকনা ছিটকে যেতে পারে। হাঁড়িতেই ব্যবহার করুন — দেখুন হ্যান্ড ব্লেন্ডার

আনঅফিশিয়াল সেটের ছাড়

কয়েকশ টাকা বাঁচে, কিন্তু সার্ভিস দাবি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়। যে যন্ত্রের পুরো দামই মোটরে, সেখানে এটা খারাপ হিসাব।

ব্লেন্ডার মেশিনের দাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

এখন সবচেয়ে কম দামে ব্লেন্ডার মেশিন কত টাকা?

এই ক্যাটেগরিতে সবচেয়ে কম দাম ৳ ১,৮০০ — একটি ৫ স্পিড হ্যান্ড মিক্সার। জগ স্টাইলের ব্লেন্ডার শুরু হয় ৳ ৩,০০০ থেকে। ৳ ২,০০০-এর নিচে যা পাওয়া যায় তা সাধারণত প্রতিদিনের রান্নার জন্য বানানো নয়। পুরো রেঞ্জ ৳ ২০,৫০০ পর্যন্ত।

ঘরের জন্য কত ওয়াটের ব্লেন্ডার ভালো?

জুস, শেক আর নরম ফলের জন্য ৪৫০W থেকে ৬০০W যথেষ্ট। শুকনা মসলা, ডাল বা কফি গুঁড়ো করতে চাইলে ৭৫০W সর্বনিম্ন ধরুন — এই ক্যাটেগরিতে এটাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ১০০০W-এর উপরে গেলে গুঁড়ো মিহি হয় না, একসাথে বেশি পরিমাণ করা যায়।

মিক্সার গ্রাইন্ডারের জন্য স্ট্যাবিলাইজার লাগে?

লাইন স্থিতিশীল হলে সাধারণত লাগে না। কিন্তু অন্য যন্ত্র চালু হলে যদি বাতি নিভু নিভু হয়, বা এলাকায় ঘন ঘন ভোল্টেজ পড়ে যায়, তাহলে ৫০০VA–১০০০VA স্ট্যাবিলাইজার নেওয়াই ভালো। কম ভোল্টেজে মোটর বেশি কারেন্ট টানে, আর সেই তাপেই কয়েলের আয়ু কমে।

লোডশেডিংয়ের সময় IPS দিয়ে ব্লেন্ডার চালানো যাবে?

সাধারণত যাবে না। ৭৫০W গ্রাইন্ডার চালু হওয়ার টানসহ বাসার সাধারণ ৬০০VA–১২০০VA IPS-এর ক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, তাই ট্রিপ করে। মডিফায়েড সাইন ওয়েভে মোটর গরমও হয়। লোডশেডিংয়ের আগে বা পরে বেটে নিন, নয়তো দ্বিগুণ ক্ষমতার পিওর সাইন ওয়েভ ইনভার্টার ব্যবহার করুন।

একটানা কতক্ষণ মিক্সার গ্রাইন্ডার চালানো যায়?

একবারে সর্বোচ্চ দুই মিনিট ধরুন, তারপর দুই মিনিট বন্ধ রেখে আবার চালান। ঘরের যেকোনো পরিমাণের জন্য পরপর তিনবারই যথেষ্ট। ঘরোয়া মোটর অল্প সময়ের জন্য তৈরি, আর একটানা চালানোই বাংলাদেশে মোটর পুড়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।

ভেজা আর শুকনা জারের পার্থক্য কী?

ভেজা জারের ব্লেড বাঁকানো, যা তরলকে ঘূর্ণিতে টেনে নামায় — চাটনি, ব্যাটার ও বাটার জন্য। শুকনা জারের ব্লেড চ্যাপ্টা ও ভোঁতা, যা শক্ত জিনিস ভেঙে গুঁড়ো করে — হলুদ, ধনে বা কফির জন্য। উল্টো ব্যবহার করলে গুঁড়ো অসমান হয় আর ব্লেড দ্রুত ভোঁতা হয়।

হ্যান্ড ব্লেন্ডারে কি বরফ ভাঙা যায়?

যায় না, চেষ্টা করলে ব্লেড ভেঙে যাবে বা শ্যাফট বেঁকে যাবে। হ্যান্ড ব্লেন্ডার তরলের মধ্যে থাকা নরম খাবারের জন্য — স্যুপ, ডাল, বাচ্চার খাবার, নরম ফলের স্মুদি। বরফের জন্য ভারী জার ও আলাদা আইস-ক্রাশিং ব্লেডের জগ ব্লেন্ডার লাগবে।

জার আলাদাভাবে কেনা যায়?

বড় ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে যায় — জার, কাপলার, গ্যাসকেট ও ব্লেড আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে বিক্রি হয়, তাই জার ফেটে গেলেই পুরো মেশিন বদলানোর দরকার নেই। Philips, Panasonic ও Havells-এর ক্ষেত্রে সহজলভ্যতা সবচেয়ে ভালো। মডেল নম্বর হুবহু মিলিয়ে নিন, কারণ এক রেঞ্জের জার অন্যটিতে লাগে না।

এখান থেকে বেছে নিন

উপরের ফিল্টারে দাম ৳ ৪,০০০–৳ ৭,৪৯৯ দিয়ে দেখুন — বেশির ভাগ পরিবার যে ২৫টি মডেল থেকে বেছে নেয়, সেগুলোই আসবে। এরপর ব্র্যান্ড ফিল্টার দিয়ে পাশাপাশি মিলিয়ে নিন। শুধু কুচি বা ছোট কাজের জন্য হলে চপার বেশি কাজে দেবে, আর কাটা-স্লাইস ও ডো মাখার জন্য ফুড প্রসেসর দরকার হবে, যা কোনো গ্রাইন্ডারে হয় না। নতুন রান্নাঘর গোছালে ইলেকট্রিক কেটলি দিয়ে শুরু করতে পারেন।